কলকাতা ডেক্স, ১৯
ডিসেম্বর : রাজ্যের বিভিন্য থানার পুলিশ অফিসারদের চারচাকা গাড়িগুলির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল রাজ্য
পুলিশের পরিবহন বিভাগ।
রাস্তাঘাটে মাঝে মধ্যেই দু-চাকা ও চারচাকা গাড়ী চেকিংএর বিষয় নিয়ে পুলিশের
হম্বিতম্বি চোখে পড়ে।
কিন্তু
রাজ্য পুলিশ ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ অফিসারদের ব্যবহৃত চারচাকা
গাড়ীগুলির ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য জানার আইনে জানতে চেয়ে আবেদনের উত্তরে যা পাওয়া
গিয়েছে। তাতে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পরিবহন বিভাগ কার্যত প্রশ্নচিহ্নের মুখে
দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী দীপ্তব্রত বটব্যাল চলতি বছরের ৪অক্টোবর তথ্য জানার
অধিকার আইনে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারের এসপি (আইও) কাছে জানতে চান, কমিশনারেটের সমস্ত ওসি, আইসি এবং
উচ্চপদস্ত অসিসাররা যে সমস্ত চারচাকা গাড়ি ব্যবহার করেন তার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর
কত।
সেগুলি সরকারী গাড়ি না বেসকারী গাড়ি? এই গাড়ি গুলি দেখভাল করার জন্যে থানা
গুলিতে কোনও রকম রেজিষ্ট্রারের ব্যবস্থা আছে কিনা? এই গাড়ি গুলির চালক কারা? এই
গাড়ি গুলির চালকরা সরকারী না বেসকারী চালক? এদের মাইনে কে দেয়? এদের মাইনের কোনও
খাতা আছে কিনা?
এই গাড়ীগুলি রক্ষানবেক্ষনের জন্যে থানা গুলিতে কোনও রেজিষ্ট্রার
রাখা হয় কিনা? রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলার পুলিশ কমিশনারেট ও থানার দৈনন্দিন খরচ খরচার জন্যে কোনও রেজিষ্ট্রার মেনটেন করা হয় কিনা?
এই বিষয়ে সরকার কোনও টাকা দেয় কিনা? যদি সরকার টাকা না দেয়, তবে ওসি, আইসি ও
পুলিশের উচ্চপদস্ত আধিকারিকদের এই ব্যায় ভারের উৎস কোথায় বা কি ভাবে হয়। এই গাড়িগুলি দূর্ঘটার কবলে পড়লে
আহত কিম্বা নিহত ব্যক্তিরা বীমার টাকা কার কাছে দাবী করবে? সরকারের কাছে না ব্যক্তি
বিশেষের কাছে?
এই প্রশ্নের উত্তরে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (হেড কোয়াটার)
১৮অক্টোবরের দীপ্তবাবুকে জানান, নির্দিষ্ট করে গাড়ীর উহ্লেখ না করলে গাড়ী
সংক্রান্ত কোনও তথ্য দেওয়া যাবেনা বলে জানিয়ে দেন। পাশাপাশি এও জানান
সমস্ত গাড়ীগুলি সরকারী গাড়ি। এই গাড়ির তেল ফ্লিটকার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
অনুয়ারী গাড়ীতে ব্যবহার হয়। গাড়ীগুলি রক্ষানবেক্ষনের জন্যে কোনও খাতা থানায়
ব্যবহার হয়না।
এই উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে দীপ্তবাবু ফের ২৫অক্টোবরে নির্দিষ্ট করে চন্দননগর
পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (আইওকে) ওই একই আইনে কমিশনারেট এলাকাধীন ডানকুনি থেকে
চুঁচুড়া পর্যন্ত সকল থানার ওসি, আইসিরা যে গাড়ী ব্যবহার করেন তার নম্বর ও তাদের
সম্পর্কে জানতে চান। এই প্রশ্নের উত্তরে এসপি (আইও) ১৪নভেম্বর দীপ্তবাবুকে জানান,
নিরাপত্তার কারনে কমিশনারেটের অধীন সকল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারদের গাড়ীর নম্বর
দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ওই গাড়ীগুলি সবই ভাড়া করা গাড়ী। গাড়ীর চালক ও মালিকের
বিষয়ে কোনও তথ্য জানানো যাবেনা। পুলিশের এই দুরকম উত্তর নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
এই সকল বিষয়ে সদর্থক উত্তর না পেয়ে দীপ্তবাবু তথ্য জানার অধিকার আইনে একই
প্রশ্ন রাজ্য পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল (প্রশাসন)এর কাছে জানতে চান। কিন্তু নিয়ম
অনুয়ায়ী ৩০ দিনের মধ্যে এই উত্তর দেওয়ার কথা থাকলেও সেই উত্তর রাজ্য পুলিশের তরফে
দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট সহ পশ্চিমবাংলার পুলিশ পরিবহন
বিভাগকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী দীপ্তব্রত বটব্যাল বলেন, পুলিশ সরকারী
কর্মচারী। সরকারী কর্মচারী কোনও আইন ভাঙলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত
সাপেক্ষে ফৌজদারী মামলা রজু হওয়ার বিধান আছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।









No comments:
Post a Comment