অন্তঃসত্বা নাবালিকাকে বিয়েতে নারাজ প্রেমিকের! টাকা নিয়ে মুখ বন্ধ সালিশি সভার - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 29 January 2018

অন্তঃসত্বা নাবালিকাকে বিয়েতে নারাজ প্রেমিকের! টাকা নিয়ে মুখ বন্ধ সালিশি সভার


চাঁদনী, রামনগর:  সুতাহাটার ছায়া এবার রামনগরে। ফের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৭ বছরের নাবালিকার সঙ্গে সহবাস প্রতিবেশী যুবকের। আর এর জেরে বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্বা ওই নাবালিকা। ঘটনা জানাজানি হতেই বিয়েতে বেঁকে বসেছে অভিযুক্ত প্রেমিক যুবক। মাতব্বররা সালিশি বসিয়ে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নাবালিকা ও তার পরিবারকে। আর সালিশির এই ফতোয়া না মানায় প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। নজরদারিও চালানো হচ্ছে পরিবারের প্রতিটা মানুষের ওপর। নজরদারি এড়িয়ে পুলিসে অভিযোগ জানাতে গিয়েও হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁদের। আর এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন নাবালিকার পরিবার। ঘটনার কথা শুনেই নাবালিকা এবং তার পরিবারকে আইনিভাবে সহযোগিতার কথা বলেছেন কাঁথির অতিরিক্ত পুলিস সুপার( গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু। বলেন, " অভিযোগ না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আমার অজনা। আমি বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছি। এমন কিছু ঘটে থাকলে অবশ্যই আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" মৈতনা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তমালতরু দাসমহাপাত্র বলেন," সালিশিতে না বসে ওই পরিবারের উচিত ছিল পঞ্চায়েতে জানানো। ঘটনার জল এতদূর গড়ালেও আমরা এর কিছুই জানি না। তবে, পঞ্চায়েতের তরফে আমরা ওই নাবালিকা এবং তার পরিবারকে সমস্ত ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।" প্রতারিত এবং নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের থেকে জানানো হয়েছে,অভিযুক্ত যুবকের নাম শেখ কবির আলি। বছর দেড়েক আগে তার সঙ্গে ভাব-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে নাবালিকার। সম্পর্কের টানে ৭ মাস আগে নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে অভিযুক্ত। গত ডিসেম্বরে নাবালিকা আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে জানাজানি হয় অন্তঃসত্বা বলে। এরপরেই পরিবারের লোকদের কাছে নাবালিকা পুরো ঘটনা জানান। সেই মতো অভিযুক্তের বাড়িতে নাবালিকার বাবা যান এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়েতে বেঁকে বসে কবির। অভিযুক্তের বাবা শেখ ইন্তাজ আলি  টাকা নিয়ে ঘটনা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয় নাবালিকার বাবাকে। রাজি না হয়ে তিনি ঘটনা স্থানীয়দের জানান। এরপর স্থানীয় মাতব্বর ওয়াসিম রহমানের নেতৃত্বে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম সালিশি বসে।  দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে ঘটনার বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখার বিধান দেওয়া হয় সালিশিতে। এই ফতোয়া না মেনে সালিশিসভা ছেড়ে আসেন নাবালিকার বাবা। সেই থেকে হুমকি, ভয় দেখানো শুরু হয়। বাড়ি ছেড়ে পালিয়েও যায় অভিযুক্ত কবির। এরপর আবার গত সপ্তাহে ওয়াসিম রহমানের নেতৃত্বে সালিশি বসিয়ে নাবালিকার বাবাকে টাকা নিতে জোর করা হয়। কিন্তু টাকা না নিয়েই সালিশি থেকে উঠে আসেন। তারপরই শুরু হয়ে যায় নজরদারি। তার ফাঁকেই ৫ দিন আগে রামনগর থানায় লুকিয়ে অভিযোগ জানাতে আসেন তিনি। কিন্তু সেখানেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad