ভারত সরকারের বাজেট নিয়ে সিপিআই’র ক্ষোভ
২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারত সরকারের সাধারণ বাজেট ও রেল বাজেট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিপিআই (এম)। দলটির অভিযোগ, এ বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থপরিপন্থি ও ধনীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
আগরতলা: ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভারত সরকারের সাধারণ বাজেট ও রেল বাজেট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিপিআই (এম)।
দলটির অভিযোগ, এ বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থপরিপন্থি ও ধনীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।
বাজেটের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (২ মার্চ) আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির সদর মহকুমা কমিটি। মিছিলটি রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পথ পরিদর্শন করে।
মিছিল শেষে রাজধানীর প্যারাডাইস চৌমুহনীতে (মোড়) এক পথসভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিপিআই (এম) বিধায়ক রতন লাল দাস, সদর মহকুমা কমিটির সম্পাদক সুভাশিষ গাঙ্গুলি, ডিওয়াইএফ আইয়ের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক অমল চক্রবর্তীসহ অন্য নেতারা।
সভায় নেতারা বাজেট ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
মোদী সরকারের বাজেট দিশাহীন: মমতা
মোদী সরকারের প্রথম বাজেটকে 'অব দ্যা এফ ডি আই, ফর দ্যা এফ ডি আই, বাই দ্যা এব ডি আই' বলে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া তিনি মোদী সরকারের প্রথম বাজেটকে দিশাহীন বলেও মন্তব্য করেছেন।
কলকাতা: মোদী সরকারের প্রথম বাজেটকে 'অব দ্যা এফ ডি আই, ফর দ্যা এফ ডি আই, বাই দ্যা এব ডি আই' বলে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া তিনি মোদী সরকারের প্রথম বাজেটকে দিশাহীন বলেও মন্তব্য করেছেন।
লোকসভায় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাজেট পেশ করার পরেই এই মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
ভারতের বাজেটে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ৪৯% প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফ ডি আই), রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৪৯% পর্যন্ত বেসরকারিকরণের কথাও প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
এর আগে খুচরা ব্যবসায়ে এফ ডি আই নিয়ে দ্বিমতের জেরেই ইউপিএ-২ সরকার ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
লোকসভায় পেশ হওয়া বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি নিয়েও তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা।
তিনি জানিয়েছেন, বাজেটে পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যকে বঞ্চিত করেছে বিজেপি সরকার।
মমতা মোদী সরকারের একশ দিনের কাজের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা প্রকাশ করেছেন।
মোনমোহোন সিং সরকার দারিদ্রসীমার নীচের মানুষদের জন্য এই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প চালু করেছিলেন। যদিও এই প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে ভারতে যথেষ্ট বিতর্ক আছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে 'দিশাহীন, লক্ষ্যহীন এবং কার্যকারিতাহীন' বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন।
ইনসেন্টিভের ধাঁচে বাজেট বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোর কপালে
যে প্রকল্পে কাজ হচ্ছে ভাল সে প্রকল্পে বেশি টাকা। কলকাতার মেট্রোর বিভিন্ন প্রকল্পে ইনসেন্টিভ দেওয়ার ধাঁচে বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে। নিরাপত্তার খাতে বেড়েছে বরাদ্দ।যে প্রকল্পে কাজ হচ্ছে ভাল সে প্রকল্পে বেশি টাকা। কলকাতার মেট্রোর বিভিন্ন প্রকল্পে ইনসেন্টিভ দেওয়ার ধাঁচে বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে। নিরাপত্তার খাতে বেড়েছে বরাদ্দ।কলকাতার বিভিন্ন মেট্রো পরিকল্পনায় এবছর টাকা বরাদ্দ হয়েছে পুরো কর্পোরেট কোম্পানির ইনসেন্টিভ দেওয়ার ধাঁচে। এবার বাজেটে রেলখাতে বরাদ্দ প্রায় পয়ষট্টি শতাংশ বৃদ্ধিতে জল্পনা ছিল মেট্রো প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে। অথচ মেট্রো প্রকল্পের রূপায়নের ওপরেই নির্ভর করবে আগামি দিনে কলকাতার যোগযোগ ব্যবস্থা গতিপ্রকৃতি।
বরাদ্দকৃত অর্থের হিসেব নিকেশে উঠে আসছে, বাজেটে সেই সব প্রকল্পে টাকাই বেড়েছে যেগুলির কাজ হচ্ছে দ্রুত গতিতে। যেসব প্রকল্পে কাজ তেমন এগোয়নি সেখানে বরাদ্দও কম। সব থেকে বেশি বরাদ্দ হয়েছে গড়িয়া-এয়ারপোর্ট ভায়া রাজারহাট প্রকল্পে, আবার বরাদ্দ কমেছে সেন্ট্রাল পার্ক হলদিরাম প্রকল্প।
বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ-
1. নোয়াপাড়া থেকে বারাসত ভায়া বিমানবন্দর। বরাদ্দ ২২০ কোটি টাকা।
2. বরানগর-ব্যারাকপুর-দক্ষিণেশ্বর। বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা।
3. গড়িয়া-এয়ারপোর্ট ভায়া রাজারহাট। বরাদ্দ ২৫০ কোটি টাকা।
4. জোকা-বিবাদি বাগ। বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা।
5. সেন্ট্রাল পার্ক-হলদিরাম। বরাদ্দ ১০ কোটি টাকা।
একই সঙ্গে মেট্রোর নিরাপত্তায় যাথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা মেট্রোয় রয়েছে তেইশটি স্টেশন। কিন্তু সেই অর্থে নিরাপত্তা নেই। সেই নিরাপত্তায় জোর দিতে বরাদ্দ করা হয়েছে নয় কোটি টাকা।
কলকাতার সেরা পূজার থিম
কলকাতা নগরীতে এবার ঠিক কতগুলো দুর্গা পুজা হচ্ছে তা ঠিক বলা যাবে না। গত কয়েক বছর ধরে সাবেকি মণ্ডপ আর প্রতিমার পাশাপাশি ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে থিমের পূজা।
কলকাতা: কলকাতা নগরীতে এবার ঠিক কতগুলো দুর্গা পূজা হচ্ছে তা ঠিক বলা যাবে না। গত কয়েক বছর ধরে সাবেকি মণ্ডপ আর প্রতিমার পাশাপাশি ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে থিমের পূজা।
আর এই থিমকে ঘিরে কলকাতার পূজা এখন শিল্পে পরিণত হয়েছে। বহুজাতিক সংস্থা গুলির থিমকে ঘিরে সম্মাননা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূজা উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার লড়াই শুরু হয়েছে।
বাংলানিউজের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে কলকাতার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য থিমের পূজা তুলে ধরা হল।
নাকতলা উদয়ন সংঘ
এই পুজোর বয়স ২৫ বছর। এবারের থিম ‘পিতলে আর মেহগনি/রূপ নিল মা আগমনী’। পিতল আর মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে প্রতিমা। কলকাতার পূজার ইতিহাসে এই ধরনের প্রতিমা প্রথম। মণ্ডপ সজ্জা একটি উড়ন্ত পাখি। মণ্ডপের সাজসজ্জায় পিতল ও মেহগনি কাঠের কাজ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বানিয়েছেন ভাস্কর ভবতোষ ছুতার। এদের বাজেট ৩০ লাখ রুপি।
পূর্বাচল শক্তি সংঘ
এই পুজার বয়স মাত্র ৩ বছর। এবারের থিম ‘স্বপন হারিয়ে গেছে স্বপ্ন নয়’। মানুষ হারিয়ে গেলেও বেঁচে থাকে তার স্বপ্ন। ছোট থেকেই আমরা নানা রকমের স্বপ্ন দেখি। পারিপার্শ্বিক চাপে সেই স্বপ্ন হারিয়ে যায়। সেই স্বপ্নে আভাস পাওয়া যাবে এদের মণ্ডপে। কাঠ, বাঁশ, প্লাই, ককশিট আর কাপড়ের কাজ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি বানিয়েছেন সোমনাথ মুখার্জি। এদের বাজেট ১১ লাখ রুপি।
এফডি ব্লক সার্বজনীন
কলকাতার পূজার ইতিহাসে এটি সর্ব বৃহৎ প্রতিমা। মাটি থেকে ৫৩ ফুট উচ্চতার ফাইবারের এই বিশাল প্রতিমাটি বানিয়েছেন মিন্টু পাল।
বেলগাছিয়া সার্বজনিন
টালা পার্কের এই পুজোটির মণ্ডপ তৈরি হয়েছে ৩০ হাজার গাছের চারা দিয়ে। ৬ মাস ধরে চারা গাছ রোপন করে এই অভিনব মন্ডপটি বানিয়েছে সোমনাথ মুখার্জি।
টালা বারোয়ারি
৯১ বছরের পুজা। ‘এসো এবার মুখ দেখে যাও/ মুখ ঢাকে
কি বিজ্ঞাপনে’ এটাই এবারের থিম তাদের। বিজ্ঞাপন ছাড়া আজকের দুর্গা পুজা ভাবা যায় না। নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দিয়ে করা হয়েছে মণ্ডপসজ্জা করছেন অমর সরকার। বাজেট ১৫ লাখ রুপি।
রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘ
২৬ বছরের পুজা। এবারে থিম ‘আমি কে’। মণ্ডপটি তৈরি হয়েছে নানা ধরনের আয়না দিয়ে। দর্শকরা প্রবেশ করেই কিছুটা হতচকিত হয়ে যাচ্ছেন। গ্রামীণ মেলায় যে আয়না ঘর দেখতে পাওয়া যায়। সেই আয়না ঘরের আমেজ এবারের মণ্ডপে করেছেন পুর্ণেন্দু দে। বাজেট ১২ লাখ রুপি।
চেতলা অগ্রণী
১৯ বছরের পুজা। মন্দির মসজিদের সম্মিলিত একটি মণ্ডপ। এখানে যেমন শোনা যাচ্ছে আজানের ধ্বনি, তেমনই অন্যদিকে শোনা যাচ্ছে কাঁসার ঘন্টার আওয়াজ। এটির পরিকল্পনা রণো ব্যানার্জি। বাজেট ২২ লাখ রুপি।
বাজেট পেশ না করে ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব রাজ্য সরকারের
কলকাতা:
বাজেট পেশ না করে ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তিনি এ প্রস্তাব করেন।
গত ১৪ জুন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র অর্থমন্ত্রীকে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে বলেন। অমিত মিত্র ওই দিন এ প্রস্তাবে দুই মাসের জন্য ভোট অন অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার তারই ১৪ পাতার সংযোজন প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এবার ছয় হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে কর আদায়ের মাধ্যমে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক ব্যাপারে তিনি স্বচ্ছ ও সরল দৃষ্টিভঙ্গির পোষণের কথা বলেন।
এতে বিরোধী দল প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কি তার সেই বাজেটের ওপরে রিপোর্ট? কোনো নতুন সরকার বাজেট পেশ করেন না এটা ইতিহাস। এটা দিশাহীন।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ বাজেটের মতো ফাইন্যানসিয়াল স্টেটমেন্টে সবকিছু আছে। কাজেই আলাদা করে বাজেট পেশের প্রয়োজন নেই। এতেই আয়-ব্যায়ের হিসেব দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কর থেকে ৩১ শতাংশ আয় বাড়াবে। বেতন বাড়ানো হবে ১২ শতাংশ। এর ফলে কাজের সুযোগ বাড়বে। পেনশন বাড়বে ৭ শতাংশ। এতদিন অর্থ দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা ছিল না। সেটা আনা হচ্ছে।’
এদিকে, রাজ্যের অর্থনীতিবিদদের ধারণা চারটি খাত থেকে রাজ্য সরকারের আয় হয়। প্রথম কর বহির্ভূত আয় ২৮৮ কোটি, দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান ৫ হাজার ৮৪২ কোটি, তৃতীয় কেন্দ্রীয় কর বাবদ রাজ্যের প্রাপ্য ২ হাজার ২১২ কোটি, বাকিটা কর থেকে আয় হবে। সেটাই রেভিনিউ থেকে আদায় করা হবে।
তাই আগামী দিনে রাজ্যে বিদ্যুতের দাম, জিনিসের দাম, ঘরবাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ব্যয় বাড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা অনুমান করছেন।
কলকাতার দুর্গাপুজো 2017
1. হাতিবাগান নবীন পল্লী
থিম: সামাজিক পরিবেশের পরিবর্তন
শিল্পী: কমলদীপ ধর
প্রতিমা শিল্পী: কমলদীপ ধর
থিম সং: কমলদীপ ধর
আনুমানিক বাজেট: 22 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
2. আহিরীটোলা সর্বজনীন
থিম: সৃষ্টির মেলবন্ধনে
শিল্পী: সুতনু মাইতি
প্রতিমা শিল্পী: নবকুমার পাল
থিম সং: পণ্ডিত মল্লার ঘোষ
আনুমানিক বাজেট: 35 লক্ষ
উদ্বোধন: মহালয়া
3. দমদম পার্ক তরুণ সংঘ
থিম: সৌরাষ্ট্রের শিল্পকলা ‘মাতা নি পাচেডি’
শিল্পী: গোপাল পোদ্দার
প্রতিমা শিল্পী: শ্রীধর মাহাতো
থিম সং: মুরারিলালা ভাই (লাইভ)
উদ্বোধন: দ্বিতীয়া
4. কাশী বোস লেন
থিম: সঙ্গীত
শিল্পী: প্রদীপ দাস
প্রতিমা শিল্পী: মিন্টু সিকদার
থিম সং: কবিতা কানেকশন
আনুমানিক বাজেট: 32 লক্ষ
উদ্বোধন: চতুর্থী
5. নলিন সরকার ষ্ট্রীট
থিম: সহানুভূতি নয়, একটু ভালবাসা
শিল্পী: সনাতন দিন্দা
প্রতিমা শিল্পী: পরিমল পাল
থিম সং: রিন্টু দাস
আনুমানিক বাজেট: 35 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
6. মুদিয়ালী ক্লাব
থিম: এবার অন্য পথে – মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তন
শিল্পী: গৌরাঙ্গ কুইলা
প্রতিমা শিল্পী: অমিত দাস (চন্দননগর)
আনুমানিক বাজেট: 40 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
7. বাদামতলা আষাঢ় সংঘ
থিম: পশ্চিমী হাওয়া
শিল্পী: পূর্ণেন্দু দে ও স্নেহাশিস মাইতি
প্রতিমা শিল্পী: পূর্ণেন্দু দে
আনুমানিক বাজেট: 35 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
8. হাতিবাগান সর্বজনীন
থিম: উড়ান
শিল্পী: দেবজ্যোতি জানা
প্রতিমা শিল্পী: সৌমেন পাল
থিম সং: জয় সরকার
আনুমানিক বাজেট: 25 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
9. 66 পল্লী
থিম: বিবর্তন – রংহীন জীবন (বহুরূপী জীবন)
শিল্পী: শুভদীপ ও সুমি মজুমদার
প্রতিমা শিল্পী: অরুণ পাল
থিম সং: গৌতম রায়
আনুমানিক বাজেট: 12 লক্ষ
উদ্বোধন: দ্বিতীয়া
10. বেহালা নূতন দল
থিম: অন্তরমহল
শিল্পী: যোগেন চৌধুরী ও প্রদীপ দাস
প্রতিমা শিল্পী: যোগেন চৌধুরী ও পিন্টু সিকদার
থিম সং: প্রদীপ দাস
আনুমানিক বাজেট: 40 লক্ষ
উদ্বোধন: প্রতিপদ
11. নাকতলা উদয়ন সংঘ
থিম: অসুঅন্ত
শিল্পী: সুশান্ত পাল
প্রতিমা শিল্পী: সুশান্ত পাল
থিম সং: সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়
আনুমানিক বাজেট: 50 লক্ষ
উদ্বোধন: মহালয়া
12. কুমারটুলি সর্বজনীন
থিম: শ্রদ্ধাঞ্জলি – কুমোর পাড়ার গাথা
শিল্পী: পরিমল পাল
প্রতিমা শিল্পী: পরিমল পাল
থিম সং: ত্রিদিব ভট্টাচার্য, ভাষ্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
উদ্বোধন: দ্বিতীয়া
13. লেকটাউন অধিবাসীবৃন্দ
থিম: বিবর্তন
শিল্পী: বাপী দাস
প্রতিমা শিল্পী: বাপী দাস
আনুমানিক বাজেট: 18 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
14. উল্টোডাঙ্গা যুববৃন্দ
থিম: শক্তি
শিল্পী: চন্দন পাল
প্রতিমা শিল্পী: চন্দন পাল
উদ্বোধন: তৃতীয়া
15. দেশপ্রিয় পার্ক
থিম: এশিয় বৌদ্ধ মন্দির
শিল্পী: দীপক ঘোষ
প্রতিমা শিল্পী: প্রদীপ রুদ্র পাল
আনুমানিক বাজেট: 35 লক্ষ
16. তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন
থিম: শিশুশ্রম বিরোধিতায় ‘স্বপ্ন উড়ান’
শিল্পী: পার্থ ঘোষ
প্রতিমা শিল্পী: নবকুমার দাস
আনুমানিক বাজেট: 23 লক্ষ
উদ্বোধন: প্রতিপদ
17. বোসপুকুর তালবাগান
থিম: যা দেবী সর্বভূতেষু
শিল্পী: শুভম পাল
প্রতিমা শিল্পী: শ্রীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
থিম সং: সদস্য গণ
আনুমানিক বাজেট: 25 লক্ষ
উদ্বোধন: প্রতিপদ
18. দমদম পার্ক ভারতচক্র
থিম: বিদ্রোহী নারী
শিল্পী: সঞ্জীব সাহা
প্রতিমা শিল্পী: সৌমেন পাল
আনুমানিক বাজেট: 26 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
19. দমদম পার্ক সর্বজনীন
থিম: অহিংসা
শিল্পী: বিভাস মুখোপাধ্যায়
প্রতিমা শিল্পী: সুবল গিরি
থিম সং: পন্ডিত মল্লার ঘোষ
আনুমানিক বাজেট: 30 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
20. করবাগান
থিম: ত্রিমাত্রা
শিল্পী: দীপঙ্কর ও বনি
প্রতিমা শিল্পী: দীপঙ্কর ও বনি
আনুমানিক বাজেট: 6.5 লক্ষ
উদ্বোধন: দ্বিতীয়া
21. দমদম পার্ক তরুণ দল
থিম: অামার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে
শিল্পী: অনির্বাণ দাস
প্রতিমা শিল্পী: সৌমেন পাল
থিম সং: শতদল চট্টোপাধ্যায়
আনুমানিক বাজেট: 40 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
22. যোধপুর পার্ক
থিম: নীড় ছোট ক্ষতি নেই আকাশ তো বড়
শিল্পী: বিমান সাহা
প্রতিমা শিল্পী: পরিমল পাল
আনুমানিক বাজেট: 45 লক্ষ
উদ্বোধন: চতুর্থী
23. বোসপুকুর শীতলা মন্দীর
থিম: পুকুরে সোনার জল
শিল্পী: গোবিন্দ গিরি
প্রতিমা শিল্পী: সৌমেন পাল
আনুমানিক বাজেট: 45 লক্ষ
24. বড়িশা সর্বজনীন
থিম: শূন্য থেকে শুরু, শূন্য দিয়ে শেষ
শিল্পী: বন্দন রাহা
প্রতিমা শিল্পী: পরিমল পাল
থিম সং: দেবজ্যোতি মিশ্র
উদ্বোধন: তৃতীয়া
25. বাবুবাগান
থিম: 12 মাসে 13 পার্বণ
শিল্পী: বিভাস মুখোপাধ্যায়
প্রতিমা শিল্পী: সনাতন পাল
থিম সং: পন্ডিত মল্লার ঘোষ
আনুমানিক বাজেট: 32 লক্ষ
26. হরিদেবপুর অজেয় সংহতি
থিম: শক্তিরূপেন
শিল্পী: বিমল সামন্ত
আনুমানিক বাজেট: 35 লক্ষ
27. লালাবাগান সর্বজনীন
থিম: শূন্য
শিল্পী: শর্বরী দত্ত (ডিজাইনার)
প্রতিমা শিল্পী: সনাতন পাল ও বিভাস বন্দ্যোপাধ্যায়
আনুমানিক বাজেট: 14 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
28. টালা বারোয়ারি
থিম: 50 বছর এগিয়ে
শিল্পী: সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রতিমা শিল্পী: সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
আনুমানিক বাজেট: 40 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
29. কাঁকুড়গাছি মিতালি
থিম: উপাচারে বন্দি
শিল্পী: সানি দীপঙ্কর
আনুমানিক বাজেট: 30 লক্ষ
উদ্বোধন: চতুর্থী
30. লালাবাগান নবাঙ্কুর
থিম: ভক্তির শক্তি পরীক্ষা
শিল্পী: সায়ক রাজ
প্রতিমা শিল্পী: সায়ক রাজ
থিম সং: দীপাবলি দত্ত
আনুমানিক বাজেট: 25 লক্ষ
31. লাবণী এস্টেট
থিম: তৃতীয় নয়ন
শিল্পী: অরূপ ও সুরজিত
প্রতিমা শিল্পী: অরুন পাল
আনুমানিক বাজেট: 20 লক্ষ
উদ্বোধন: চতুর্থী
32. হালসিবাগান
থিম: শ্রেয়সী
শিল্পী: তপন মাজি
প্রতিমা শিল্পী: তপন মাজি
আনুমানিক বাজেট: 15 লক্ষ
উদ্বোধন: প্রতিপদ
33. জগৎ মুখার্জী পার্ক
থিম: জলছবি
শিল্পী: সুবল পাল
প্রতিমা শিল্পী: সুবল পাল
প্রতিমার পোশাক: তেজল গান্ধী
থিম সং: অভিষেক বসু ও সুদীপ্ত সাহা
আনুমানিক বাজেট: 23 লক্ষ
উদ্বোধন: তৃতীয়া
34. সুরুচি সংঘ নিউ আলিপুর
থিম: বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য
শিল্পী: সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রতিমা শিল্পী: নব পাল
থিম সং: মমতা ব্যানার্জী, জিৎ গাঙ্গুলী ও শ্রেয়া ঘোষাল
আনুমানিক বাজেট: 30 লক্ষ
35. শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব
থিম: মাহিষ্মতির রাজপ্রাসাদ
প্রতিমা শিল্পী: প্রদীপ রুদ্র পাল
প্রতিমার অলঙ্কার: আনুমানিক 10 কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার
আনুমানিক বাজেট: 1.5 কোটি
উদ্বোধন: দ্বিতীয়া
36. সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার
থিম: বাকিংহাম প্যালেস
প্রতিমা শিল্পী: মিন্টু পাল
প্রতিমার সাজসজ্জা: সেনকো গোল্ড এন্ড ডায়মন্ড এর তৈরী 20 কিলোগ্রাম সোনার শাড়ী
থিম সং: স্বরূপ দে রায়
আনুমানিক বাজেট: 1 কোটি
37. ত্রিধারা সম্মিলনী
থিম: আধুনিকতার গ্রাসে প্রকৃতির ধংস
শিল্পী: গৌরাঙ্গ কুইল্যা
প্রতিমা শিল্পী: গৌরাঙ্গ কুইল্যা
থিম সং: নচিকেতা
উদ্বোধন: দ্বিতীয়া
38. বেলেঘাটা 33 পল্লী
থিম: মানুষের জীবনচক্র
শিল্পী: শিবশঙ্কর দাস
প্রতিমা শিল্পী: অরুণ পাল
আনুমানিক বাজেট: 35 লক্ষ
39. সিকদার বাগান
থিম: বাঁচুক সৃষ্টি থাকুক প্রাণ
শিল্পী: সুজিত পাল
প্রতিমা শিল্পী: পরিমল পাল
আনুমানিক বাজেট: 20 লক্ষ
40. পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লী
থিম: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
শিল্পী: সন্দীপ ও রাখী মুখোপাধ্যায়
প্রতিমা শিল্পী: পরিমল পাল
থিম সং: মল্লার বোস
আনুমানিক বাজেট: 15 লক্ষ
কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশন কভারের অভিজ্ঞতা
রাজ্য সরকারের বাজেট পেশের পর, আর্থিক সংকটে জর্জরিত, ধার দেনায় ডুবে থাকা কলকাতা পুরসভা ২০১৩-১৪ সালের জন্য ১৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করেছে, গত ১৬ মার্চ। বস্তি উন্নয়নের জন্য ১০৪ কোটি টাকা ও সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য ২০ কোটি টাকা এবারের বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় পাঁচ কোটি টাকা বেশি। বর্ষায় বৃষ্টিতে জল যাতে না জমে, নিকাশি ব্যবস্থা উন্নতির জন্য ছ’ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে আরও ২৯টি পাম্প বসানো হবে জানানো হয়েছে। জল সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ও জল অপচয় রোধে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলা হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোধে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। মহানগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নততর করতে দু-হাজার ছ-শো কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ২০টি ঊর্দু স্কুল ও ১২টি অঙ্গনঅয়াড়ি কেন্দ্র করা হচ্ছে। পুরসভার স্কুলগুলির জন্য আরও শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পুরসভা বিনামূল্যে ছাতা, বই-খাতা, জুতো-মোজা দেবে, তার জন্য ব্যায়বরাদ্দ দু-হাজারক কোটি টাকার বেশি। দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষদের জন্য ৩০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতার ১২ লক্ষ বস্তিবাসীর কল্যানে পুরসভা ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা ব্যায় করবে বলে জানিয়েছে। কলকাতার ১৪১টি ওয়ার্ডের নাগরিক পরিষেবার জন্য ১৩ হাজার মানুষ নিয়োগ করা হয়েছে।
বাজেট পেশের পরেই বাজেট অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়, মাঝে কয়েকজন মেয়র পারিষদ বক্তব্য রাখে। কিন্তু বিরোধীদের বাজেট নিয়ে কোনও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বাজেট অধিবেশনের দিনই কলকাতা পুরসভার সামনে শাসক দলেরই কিছু কর্মীর বিক্ষোভের কথা শোনা গেল। ১০০ দিনের কাজ পাওয়া নিয়ে ওইদিন পুরসভার সদর দফতরের সামনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো দিনের কর্মীরা অভিযোগ জানাল। এদের অনেকেই একদম শুরু থেকে পার্টিতে থাকলেও এলাকার কাউন্সিলরের কাছে ১০০ দিনের কাজ চেয়ে পায়নি বলে অভিযোগ।
পরিশেষে একটা নৈরাজ্যের কথা না বলে পারছি না। কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন, বিশেষ অধিবেশন ও বাজেট অধিবেশনে সাংবাদিকদের ভালো ভালো খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়। এই প্যাকেট যারা সাংবাদিকদের দেওয়ার দায়িত্বে থাকে, সেই অতনু রায়, পিন্টু চক্রবর্তীদের ঘনিষ্ট কিছু লোক ওই ক’দিন দল বেঁধে হাজির হয়ে যায়। এরা অধিবেশন কক্ষে না বসে, যেখানে সাংবাদিকদের ফুড প্যাকেট দেওয়া হয়, সেই গুমটি ঘর ও তার পাশের চায়ের দোকানে দল বেঁধে জটলা করে। প্যাকেট দেওয়া শুরু হলে তারা হুড়োহুড়ি করে প্যাকেট নেয়। অনেককে নাম ধরে ডেকে ডেকে প্যাকেট দেওয়া হয়। তার ফল, সত্যিকারের সাংবাদিকদের অনেকে ফুড প্যাকেট পায় না। কলকাতা পুরসভায় এই চলছে অনেকদিন ধরে। শাসক দল বদলালেও ট্র্যাডিশনের বদল হয়নি।
কলকাতা কর্পোরেশন আয় কম, বরাদ্দ কম বাজেটকেই
‘সাহসী’ দাবি করছেন তৃণমূলীরা।
পৌর আয় কমলো, পরিষেবা খাতে বরাদ্দ কমলো, আর এটাকেই তৃণমূলীরা বলছেন ‘সাহসিকতার বাজেট’! কলকাতা মহানগরের মানুষ যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে ‘পরিবর্তন’ চেয়েছেন, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের এই নাগরিক স্বার্থবিরোধী পৌরবাজেট সেই প্রত্যাশা ভাঙলো। গত শনিবার কলকাতা কর্পোরেশনের পেশ করা আর্থিক বাজেট নিয়ে দু’দিন ধরে আলোচনা শেষে বুধবার এভাবেই বাজেটের সমালোচনা করলেন কর্পোরেশনের বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচী। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পেশ করা এই বাজেটের সমালোচনাতেই এদিন রূপা বাগচী বলেন, ২০১০-১১আর্থিক বছরের গোড়ায় বামফ্রন্ট পৌরবোর্ডের তরফে মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পেশ করা বাজেট বক্তৃতাটা খুলে একবার মিলিয়ে দেখে নিন। দেখবেন হুবহু ভাষা এক। অনবদ্য টুকলি হয়েছে। কিন্তু ফারাক একটাই, প্রায় প্রতিটা পরিষেবা ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ কমানো হয়েছে। কোথাও বা বরাদ্দটাই উবে গেছে।
অবশ্য এমন যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা বিন্দুমাত্র গ্রহণ করতে পারেননি তৃণমূলী মেয়র। তার প্রমাণ এদিন সন্ধ্যায় বাজেটের জবাবী ভাষণ। বুধবার বাজেটের ওপর আলোচনায় বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচী বললেন, কলকাতাকে লন্ডন বানানোর কথা বলে তৃণমূলীরা নির্বাচনের আগে ভূরি ভূরি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রতিদিন উদ্বোধনের কার্ড ছড়ানো হয়েছিল। মনে আছে তৃণমূলী কাউন্সিলরদেরই? আর নির্বাচনের পরে ক’টা উদ্বোধনের কার্ড দেখা যাচ্ছে? তফাৎটা বুঝতে পারছেন? মুখ আর মুখোশের? বাজেটের আলোচনায় বামফ্রন্টের পক্ষে দীপঙ্কর দেও পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়ে দিলেন কীভাবে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণের লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওয়েভার স্কিম চালানো হচ্ছে। এভাবেই কি কলকাতার উন্নয়ন হবে? শুধু তাই নয়, পৌর আইনকেই ভাঙার নজির রাখছে এই তৃণমূলী পৌরবোর্ড। কেননা কর্পোরেশনের আইনেই রয়েছে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কমিটি গড়া বাধ্যতামূলক। অথচ তৃণমূলী পৌরবোর্ড সেই পদক্ষেপ নিতে কোন নির্দেশ আজ পর্যন্ত জারি করেনি।
কর্পোরেশনের এই বাজেটের ওপর আলোচনাতেই বামপন্থী কাউন্সিলররা কলকাতার গরিব মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে তৃণমূলী পৌরবোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। শহরের গরিবদের হয়েই কত কথা বলেছিলেন এই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। কিন্তু এই পৌর বাজেটে আমরা কী পেলাম? শহরের বস্তি এলাকায় বাস করেন ১৭লক্ষ মানুষ। অথচ এই বস্তি উন্নয়ন ক্ষেত্রেই তৃণমূলী মেয়র বরাদ্দ কমালেন। রূপা বাগচী এদিন বলেন, যদি সত্যিই কলকাতা কর্পোরেশনের তৃণমূলী পৌরবোর্ড শহরের গরিব মানুষের স্বার্থে পরিচালিত হয়, তাহলে জেনে রাখুন, তার সঙ্গে আমরাও শরিক। কিন্তু শহরের গরিব মানুষ, মধ্যবিত্ত নাগরিকরা মিলিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের অভিজ্ঞতায়। তাই কিছুদিন আগেই নোনাডাঙায় গরিব নিম্নবিত্ত মানুষ জলের অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে চরম ক্ষোভে কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারদের ঘেরাও করে রেখেছিলেন।
বুধবার বাজেটের জবাবী ভাষণে অবশ্য বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচীর দাবি মেনেই কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ ৭লক্ষ টাকা থেকে ১০লক্ষ করেছেন। তবে মেয়র এদিন কোন উচ্চবাচ্য করেননি ১০০দিনের কাজ চালু থাকার নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের প্রশ্নে। এদিকে বস্তি উন্নয়নের খাতে বরাদ্দ না বাড়ালেও তৃণমূলী মেয়র শহরে দুষ্কৃতী প্রতিরোধে ও বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রতিটি জনবহুল অঞ্চলে হোটেল, রেস্টুরেন্টে, বাজারে বাধ্যতামূলক ক্যামেরা (সি সি টিভি) বসানোর নিয়ম চালুর কথা বলেছেন। এদিকে মঙ্গলবার তৃণমূলী বাজেটের বিরোধিতা করতে গিয়ে বামফ্রন্টের মুখ্য সচেতক অমল মিত্র শহরের গরিব বস্তিবাসী মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে এই পৌরবোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
তবে কর্পোরেশনের স্বনির্ভরতার যে কোন উদ্যোগ নেই তা এদিনও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রূপা বাগচী। বলেছেন, এই বাজেটেও কলকাতা কর্পোরেশনের ৫১শতাংশ দায়ভার মেটানোর কথা রাজ্য সরকারের। অর্থাৎ এটা সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীলতারই বাজেট। প্রশ্ন তুলেছেন, যদি অন্যের ওপর ভর করেই এগোতে হয়, তবে সাহস করে আরও কিছুটা বেশি পরনির্ভরশীল হয়েই না হয় শহরের গরিব বস্তিবাসী মানুষের কাজ করতেন। তবেই না হয় বলা যেত সাহসী বাজেট। বুধবার বাজেটের ওপর এছাড়াও আলোচনা করেছেন বামপন্থী কাউন্সিলরদের পক্ষে সুশীল শর্মা, গৌতম সরকার, অজয় সাহা, চয়ন ভট্টাচার্য, সেতাবুদ্দিন খোন্দকার প্রমুখ।
এদিকে শুধু বামপন্থীরাই নয়, কংগ্রেসের পক্ষে মালা রায়ও চড়া সুরেই বিরোধিতা করেছেন এই তৃণমূলী বাজেটের। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন মেয়রেরই পেশ করা তথ্য তুলে ধরে। বাজেট ভাষণেই উল্লেখ রয়েছে গত একবছরে শহরে ৬৬৫টা বেআইনী বাড়ি মাথা তুলেছে, যা ভেঙ্গে দেওয়াই উচিত। সেই বাড়িগুলির মধ্যে মেয়রেরই দাবি সাকুল্যে ভেঙ্গেছেন ১৩টি বিল্ডিং। মালা রায় প্রশ্ন তুলেছেন, এই গতিতে এগোলে আপাতত এই ৬৬৫টা বাড়ি ভাঙতে আরও ৫০বছর সময় লাগবে। আর ততদিনে শহরে গজিয়ে উঠবে আরও কয়েকগুণ বেআইনী বাড়ি। এমন গতিতেই কী কলকাতা লন্ডন শহরে পরিণত হবে? শুধু কংগ্রেসের তরফে কেন, বি জে পি-র কাউন্সিলররাও এদিন বড়বাজারের পুড়ে যাওয়া নন্দরাম মার্কেট নিয়ে তৃণমূলী পৌরবোর্ডের নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, এখনও নন্দরাম কাটরা অগ্নিদগ্ধ হয়েই দাঁড়িয়ে রয়েছে। মেয়রের প্রতিশ্রুতির কী হলো? এদিনও ওয়েভার স্কিম নিয়ে সমালোচনা উঠেছে বাজেট আলোচনায়।



No comments:
Post a Comment