চাঁদনী,কাঁথিঃ অন্য পুরুষের সঙ্গে মায়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জেনে ফেলার খেসারত নিজের প্রাণ দিয়ে দিতে হল ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ১২ বছরের নাবালিকা মেয়েকে। বিষ মেশানো খাবার খাইয়ে মেয়েকে খুন করল মা। আর প্রমাণ লোপাটে দেহ নয়ানজুলিতে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে মেয়ে নিখোঁজ বলে গল্প ফেঁদে ছিল অভিযুক্ত। মর্মান্তিক এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর থানার বৃন্দাবনপুরে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম দীপালি কামিলা (১২)। শুক্রবার খেজুরির হেঁড়িয়ার জরারনগরে নয়ানজুলি থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয় নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। পরিচয় উদ্ধারে নেমে এদিন সন্ধেয় ওই নাবালিকার নাম- পরিচয়ের সঙ্গে সে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল বলে জানতে পারে পুলিস। নিখোঁজ রহস্য উদ্ধার করতে নেমে পুলিসের সামনে আসে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। এরপরেই শনিবার দুপুরে পুলিস গ্রেপ্তার করে খুনে অভিযুক্ত মা যমুনা কামিলাকে। পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা স্বীকার করে নিয়েছেন মেয়েকে খুনের কথা। তবে, পুলিসের অনুমান এই ঘটনায় হাত রয়েছে মহিলার পরকীয়া প্রেমিকের। যদিও মহিলা পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পুলিসের কাছে স্বীকার করে বলেছেন, “আমিই আমার মেয়েকে খুন করেছি।” কিন্তু কী কারণে খুন? সেটা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাঁথির অতিরিক্ত পুলিস সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু।তিনি বলেন," পরকীয়ার জেরে এই খুন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রবিবার মহিলাকে আদালতে তোলা হবে এবং পুলিস হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।"
গত ১৩ জানুয়ারি সকালে যমুনা কামিলা মেয়ে দীপালিকে নিয়ে ওডিশার চন্দনেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন। সন্ধেয় যমুনা একা বাড়ি ফেরেন। পরিবারের লোকেদের জানান,ফেরার পথে হেঁড়িয়ার কাছে নিখোঁজ গেছে মেয়ে দীপালি। মহিলার স্বামী প্রশান্ত কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকেন। তিনি ফিরে ১৭ জানুয়ারি ভূপতিনগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জেনে ফেলায় মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রাও। স্থানীয়দের কথায়,কিছুদিন আগে মহিলার সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় চাউর হয়েছিল। অনুমান, মায়ের অন্যায় কাজ মেয়ের নজরে পড়েছিল। আর সে কারণে এই খুন।

No comments:
Post a Comment