ফের পুলিশের মানবিকরুপ ধরা পড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগণায়! জানুন কি সেই রুপ? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 23 January 2018

ফের পুলিশের মানবিকরুপ ধরা পড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগণায়! জানুন কি সেই রুপ?


রাজ্যে পুলিশের একের পর এক নৃশংস মূর্তি দেখা গেলেও পুলিশ প্রশাসনের ভালো রুপও দেখতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে উদ্যোগী হন পুলিশরাও। যদিও তাদের বিরুদ্ধে নানা ঘটনার কথা জানতে পারি আমরা। তোলাবাজি থেকে ডায়েরি না নেওয়া ইত্যাদি তো প্রতিদিন লেগেই থাকে বাংলায়। তবে মঙ্গলবার ফের পুলিশের এক মানবিক রুপ ধরা পড়ল মৃন্ময় নস্করের প্রতিবেদনে। দুই বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধাকে নিজ পরিবারের হাতে তুলে দিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানার পুলিশ। পুলিশের এ হেন কাজে খুব খুশি বৃদ্ধার পরিবার সহ স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত বছর ছিয়াত্তরের দেবু বেওয়া গত ২ বছর আগে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের বাড়িতে তিনি যেতে পারেন নি। কোন কারণে রাস্তা ভুলে
তিনি হারিয়ে যান। মাকে খুঁজে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন ছেলেরা। কিন্তু পুলিশ কোন খোঁজ
দিতে পারেনি। অগত্যা মাকে ফিরে পাওয়ার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বালিয়া
গ্রামের দেবুর পরিবারের লোকজন। কিন্তু শনিবার থানা থেকে পুলিস গিয়ে সব ওলটপালট করে দিল তাঁদের।
ফোনে জানানো হয় দেবুকে রাস্তার পাশ থেকে তুলে নিয়ে সেবা শ্রশ্রুষা করে থানায় রাখা হয়েছে। রবিবার
বিকেলে মন্দিরবাজার থানার ওসি বাপী রায়ের উপস্থিতিতে দেবু বেওয়াকে নিয়ে গেলেন নাতি আতাবুল সেখ,
নাতজামাই কুরবাত সেখ। তাঁরা কথা দিয়ে গেলেন দেবুকে আর কখনও একা ছাড়া হবে না।
দেবুর ২ ছেলে ৩ মেয়ে। ২ ছেলে পেশায় রাজমিস্ত্রি। ৩ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি শিলিগুড়ি। ২ বছর
আগে দেবু শিলিগুড়িতে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য একাই বেরিয়েছিলেন। শিলিগুড়িতে খবর নিয়ে জানা যায়,
দেবু সেখানে পৌঁছয় নি। পরিবারের লোকজন চিন্তায় পড়ে যান। স্থানীয় সাগরদিঘি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি
করা হয়। কিন্তু পুলিস কোন খোঁজ দিতে পারেন নি।
অন্যদিকে সপ্তাহখানেক আগে মন্দিরবাজারের লক্ষ্মীকান্তপুর স্টেশনের বাইরে এক বৃদ্ধাকে পড়ে
থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃদ্ধা ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। কিন্তু বৃদ্ধার সাজ পোশাকে ভিখিরি
বলে মনে হয়নি। স্থানীয়রা খবর দেয় মন্দিরবাজার থানাকে। ওসি বাপী রায় বৃদ্ধাকে স্থানীয় পুলিস ফাঁড়িতে
নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসার পর সুস্থ হতে থাকেন দেবু। তারপর আস্তে আস্তে
নিজের নাম, ঠিকানা বলতে পারেন দেবু। এরপর পুলিস সাগরদিঘি থানার মাধ্যমে দেবুর বাড়িতে খবর দেয়।
খবর পেয়ে রবিবার পরিবারের লোকজন এসে দেবুকে নিয়ে যান। এদিন নাতজামাই কুরবাত সেখ বলেন,‘
আমরা ভাবতে পারিনি উনি বেঁচে আছেন। ফিরে পেয়ে সত্যি খুব খুশী। আমরা আর একা ছাড়ব না।’ ওসি বাপী
রায় বলেন,‘ এলাকার মানুষ প্রথম উদ্যোগ নেয়। পরে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। নাম, ঠিকানা পেতে
সাগরদিঘি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করি।’

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad