চোখে স্বপ্ন ছিল কিছু করে দেখানোর ,মনে ইচ্ছেও ছিল অফুরন্ত ,কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ।ছোট থেকেই চেষ্টা করত আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতো সুস্থভাবে বাঁচতে। নিজের থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে হাঁটাচলা করতে শেখা। স্কুলে পড়াশুনা করছিল অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তারপর আর পড়াশোনা করে ওঠা হয়নি ।আজ সকালে সেই যুবকের ই জলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে বাড়ির লোকজন। সকাল সাড়ে নটা নাগাদ বছরএকুশের যুবক আলী হাসানের স্বপ্ন থেমে গেল। আলী হাসান পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার শিমুল হান্ডা গ্রামের বাসিন্দা। সকালে নিজের বাড়িতেই গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে। আগুন জ্বলতে দেখে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙে আগুন নিভিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। বাবা ফিরোজ আলী জানান সে নিজেকে মনে করত তার জীবন ব্যর্থ। হাত পা ও মুখে সে প্রতিবন্ধী।কিছুদিন আগেই হাসান বলেছিল বাবা আমি তো তোমার জন্য কিছু করে উঠতে পারবনা। পাশাপাশি তার বয়সী ছেলেরা কাজ করে কত টাকা ইনকাম করছে দেখতে পাচ্ছিল সে। তার মনের মধ্যে এসেছিল কত ছেলেই বাবা মাকে রোজকার করে টাকা এনে দেয় । তাসে পারতোনা।এই কষ্টটাই তাকে কুরে কুরে খেতে। বুঝেছিলাম যখন বুঝে ছিলাম তখন ভেবেছিলাম বুঝে গেছে আত্মহত্যা করবে ভাবতে পারিনি ।এখন ভাবছি বোঝাতে পারলাম না। মৃতার মা ফরিদা বিবি বলেন ছেলে নিজে নিজে ভাবতে আমি কিছু করতে পারছি না আমার বয়সী ছেলেরা সবাই অনেক কিছু করছে। আমি যে কিছু করে ঘর সংসারে দেব তাতো পারবোনা । তাই আমার থাকা না থাকা দুই সমান এটাই বলতো। সে যে হঠাৎ এরকম করে বসবে আমরা বুঝতে পারি নি । বলতো আর বাঁচতে ভালো ভালোলাগেনা। কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন আপর দিকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ।আর তাতেই মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা প্রতিবন্ধী আলী হাসানের। মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া । মৃত্যুর পেছনে আর কোন কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে তমলুক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
Post Top Ad
Saturday, 27 January 2018
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment