শিক্ষকদের কি বার্তা দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 3 January 2018

শিক্ষকদের কি বার্তা দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়?

স্কুলের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী স্কুলকে হেরিটেজ স্কুল হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করার পাশাপাশি স্কুলের শতবর্ষ ভবন নির্মান করে দেওয়ার কথা বললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী উদযাপন করছে স্কুলের শতবর্ষ পূর্তির সূচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, নাট্যকার ও অভিনেতা মনোজ মিত্র ও সাহিত্যিক ভগীরথ মিশ্র। শিক্ষামন্ত্রী স্কুলে উপস্থিত হয়ে স্কুলের সর্বাত্মক সাফল্যের কথা ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে উদ্বোধন করেন বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী স্কুলের শতবর্ষ ভবনের শিলান্যাস করা হয়েছে। উদ্বোধন করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান ছিল জমজমাট। দ্বিতীয় দিনে ছিল প্রাক্তনী পুনর্মিলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্কুলের কৃতি সহ অন্যান্য প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসেন স্কুল জীবনের স্মৃতিকে মনে রেখে। স্কুল জীবনের স্মৃতি উপলব্ধি করার পাশাপাশি উপরি পাওনা হিসেবে জুটেছে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, নাট্যকার ও অভিনেতা মনোজ মিত্র সহ সাহিত্যিক ভগীরথ মিশ্রকে সামনে থেকে দেখা ও তাদের কথা শোনা। স্কুলের শতবর্ষ পূর্তির সূচনা অনুষ্ঠানে এসে নষ্টালজিক হয়েছেন অনেকেই। বুধবার দুপুর দুটো নাগাদ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিত হন বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী স্কুলে। মঞ্চ অনুষ্ঠানের শুরুতে শতবর্ষ ভবনের শিলান্যাস করেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল শীট শতবর্ষের পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। বলতে উঠে পার্থবাবু বলেন- "আমি এই স্কুলে না এলে অনেক কিছুই অপূরিত থাকত। আমি অভিভূত। আমরা চেষ্টা করছি কী ভাবে শিক্ষায় আরও উন্নতি করা যায়। শিক্ষাকে গ্রামে গ্রামে এমনকি প্রত্যেকটি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক যেন অটুট থাকে।" একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন- স্কুলের শতবর্ষ ভবনটির প্ল্যান রূপায়ন করে পূর্ত দপ্তরের মধ্য দিয়ে পাঠালে রাজ্য শিক্ষাদপ্তর তা নির্মাণ করে দেবে। তার জন্য স্কুলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন তিনি।শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাস পেয়ে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক অভিভাবিকারা। শিক্ষামন্ত্রী এদিন শিক্ষা, ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক এবং স্কুলের উন্নয়ন ও পঠনপাঠন নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য রাখেন। একইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার ও অভিনেতা মনোজ মিত্র। ছিলেন সাহিত্যিক ভগীরথ মিশ্র। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান কার্যত ছিল চাঁদের হাট। এদিন মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে "বিদ্যালংকার" উপাধি দেওয়া হয় শিক্ষামন্ত্রীকে। এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা পরিবার সদস্য ব্রহ্মময় নন্দ, চৈতন্যময় নন্দ, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অমরকুমার শীল, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান নারায়ণ সাঁতরা, জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি অজিত মাইতি, কর্মাধ্যক্ষ সূর্যকান্ত অট্ট, বিধায়ক দীনেন রায়, প্রদ্যোৎ ঘোষ, শ্রীকান্ত মাহাত, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল শীট সহ অনেকেই। এদিন শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চারুচন্দ্র কলেজে ছাত্র অধ্যাপকদের আন্দোলনের জেরে অচলাবস্থা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবং দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে কলেজ খোলার নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত মঙ্গলবার বেলদা গঙ্গাধর একাডেমী স্কুলের শতবর্ষ পূর্তির সূচনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad