মৃন্ময় নস্কর,ডায়মন্ড হারবার: দুস্কৃতিদের গুলিতে মারা যায় বছর ৪০ এর এক ব্যক্তি। আর সেই খুনের রহস্য ভেদ করতে গিয়ে হকচকিয়ে যান ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে আলতাফ জমাদার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে বাইকে চড়ে পালিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী।
পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনায় এখনোও পর্যন্ত বাড়ির মালিক মোজাম্মেল মন্ডল সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।নিহতের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘী থানা এলাকায়।ধৃত অন্য দুজনের মধ্যে এক জন এস এস বির জওয়ান বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ। ধৃতের নাম দীপক কুমার সিং। ঐ জওয়ান এস এস বি কমাডেন্ট পর্যায়ের অফিসার আলতাফকে গুলি দীপকই চালিয়েছিল বলে পুলিশের জেরায় স্বীকার করে মোজাম্মেল।তারপর খোঁজ শুরু হয় ওই জওয়ানের ।পারুলিয়া এলাকার ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। গ্রেফতার করা হয় অমিত প্রমানিক নামে আরোও এক জনকে।সরিষা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। গ্রেফতারের পর ডায়মন্ডহারবার থানা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের সাথে কথা বলতে চায় অন্য গাড়িতে করে আসা এস এস বি জওয়ানরা। সেই সু্যোগে গাড়িতে উঠে পালায় ওই জওয়ান। প্রায় ফিল্মি কায়দায় ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে য়ায় জওয়ানরা। গাড়ি করে ছিনতাই করা জওয়ান কে নিয়ে চলে যায় এস এস বি ক্যাম্পে। সেখানে তাকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশ সুপার কে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক চাপে পড়ে ফের গ্রেফতার হন দীপক কুমার সিং । পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের আই জি (আইন শৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা শিলিগুড়ি তে এস এস বি হেড কোয়ার্টারে যোগাযোগ করেন। এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশ কে এস এস বি তরফ থেকে সমস্ত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়। ঘটনায় যে সব জওয়ান যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে জেলা পুলিশ কে জানানো হয় এস এস বি তরফ থেকে । এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশে আই জি বলেন, "এটা অন্যায় এই ভাবে কাজে বাধা দিতে পারে না ওই জওয়ান রা। বিষয় টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। "
নিহত ব্যাক্তি আলতাফের বিরুদ্ধে একাধিক অসামাজিক কাজ কর্ম করার অভিযোগ আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ডায়মন্ডহারবার থানার সরিসা বাজারে একটি বহুতল বাজারে খুন হন আলতাফ। বাড়ির মালিক তথা কেবল ব্যবসায়ী মোজাম্মেলকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।উদ্ধার হয় একটি বন্দুক ও বেশ কিছু নকল টাকা। নিহত ব্যাক্তি প্রায়শই ওই প্রিন্স মার্কেটে আসত মোজাম্মেলের সঙ্গে দেখা করতে।অবৈধ্য কোন ও লেনদেনের কারনে এই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ। মৃতদেহের ব্যাগের থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা কি কাজে ব্যবহার হচ্ছিল তা মোজেম্মেল ও ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।ধৃত মোজেম্মেল এলাকায় একাধিক অবৈধ ব্যবসা চালাতেন বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী দের।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে ঐ এলাকায় পুরানো বিভিন্ন টাকার বিনিময়ে নতুন মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে এই রকম টোপ দেওয়া হত বিভিন্ন ব্যক্তিদের। আসল টাকা নিয়ে যে টাকা দেওয়া হত তা পুরোটাই নকল। এদিন এস এস বি জওয়ানের সাথে এই ঘটনা ঘটায় নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই জওয়ান ও কারবারি ব্যাক্তিরা। এরপর জওয়ানকে লক্ষ করে গুলি চালায় নিহত ব্যাক্তি কিন্ত সেই গুলি লক্ষ ভ্রষ্ট হয়।পরে বন্দুক কেড়ে নিয়ে আলতাফকে গুলি চালায় ওই জওয়ান। আর তাতেই লুটিয়ে পড়েন আলতাব।এস এস বি তরফে পুলিশকে জানানো হয়েছে জাল টাকার কারবারের খবর পেয়ে তাদের জওয়ানরা সতর্ক হয়ে সেখানে যান। জওয়ানদের উপস্থিতি বুঝেই গুলি চালায় আলতাফ।পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় আলতাফের।
ধৃত তিনজনকে জিঙ্গাসাবাদের পর শুক্রবার তোলা হয় ডায়মন্ডহারবার মহকুমা আদালতে।বিচারক তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

No comments:
Post a Comment