আত্মবিস্মৃতি ও ইতিহাস-বিস্মৃতির জন্যই বাঙালীরা বিপদগ্রস্ত : তথাগত - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 4 February 2018

আত্মবিস্মৃতি ও ইতিহাস-বিস্মৃতির জন্যই বাঙালীরা বিপদগ্রস্ত : তথাগত


কল্যাণ চক্রবর্তীর প্রতিবেদন; কলকাতা, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮। বাঙালি হিন্দুরা ৪ টি কারণে বিপদগ্রস্ত -- সংখ্যার দিক দিয়ে, অত্যাচারে, ধর্মান্তকরণে এবং আত্মবিস্মৃতির কারণে। নিজের ইতিহাস যারা ভুলে যায় তাদের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে স্বামী প্রণবানন্দ হিন্দু মিলন মন্দির রচনা করে এবং শ্যামাপ্রসাদের মত নেতাকে খুঁজে বার করে বাঙালি হিন্দুকে বাঁচিয়ে ছিলেন। এই ভাষাতেই প্রণব-তর্পণ করলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়। এদিন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে স্বামী প্রণবানন্দ স্মৃতি বক্তৃতা দিতে উঠে তিনি বলেন, বাংলায় মুসলিম জনবিন্যাস দাঁড়িয়ে নেই। দু'পার বাংলা মিলিয়ে হিন্দু মাত্র ৮ কোটি, পশ্চিমবঙ্গে সাড়ে ছয় আর বাংলাদেশে দেড়; কিন্তু এ রাজ্যে মুসলমান ৩ কোটি আর বাংলাদেশে ১০ কোটি, মোট ১৩ কোটি। কিন্তু স্বাধীনতার সময়েও এই বিন্যাস ছিল যথাক্রমে ৪৭ আর ৫৩ শতাংশ। তবুও ক্ষমার অযোগ্য রাজনৈতিক ভুলের জন্যই বাঙালী হিন্দু আজ অবিশ্বাস্য দুর্ভোগ পোয়াচ্ছে। মাতৃভাষা যাদের বাংলা, তাদের সংখ্যা গরিষ্ঠের পদবি দাস, মন্ডল বা বিশ্বাস নয়, সংখ্যাগুরুর পদবী 'মহম্মদ'। এটা হবে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন স্বামী প্রণবানন্দ এবং তাঁরই অবদানে আজ ওপার বাংলায় হিন্দু-সংস্কৃতি টিকে রয়েছে, তার মূল প্রেরণা হল 'হিন্দু মিলন মন্দির'।

তিনি বলেন হিন্দুদের জন্মদানের প্রকৃতি মুসলমানের তুলনায় অনেক কম। ব্রিটিশরা ১৯৩৭ সালে স্বায়ত্তশাসন দেবার পর কংগ্রেস বাজে ছুতোয় সরকার গঠন থেকে দূরে ছিল, ফলে ভোটে পিছিয়ে থাকা মুসলিম লীগ ক্ষমতায় চলে এলো। বিগত পাঁচের দশকের গোড়ায় শিয়ালদহ চত্বর নরকের চেহারা নেবার জন্য ভারত ভাগই দায়ী। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত-র লেখা 'ভাঙা পথের রাঙা ধুলোয়' গ্রন্থটির উল্লেখ করেন তিনি। একমাত্র শ্যামা-হক মন্ত্রীসভাই সে সময় অসাম্প্রদায়িক প্রশাসন দিয়েছিল। শিক্ষার অঙ্গন থেকে রাজনীতির অঙ্গনে যে নেতাকে স্বামী প্রণবানন্দ উপহার দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন সেই সরকারের অন্যতম মুখ। তিনি বলেন, আগামী দিনে দুটি কাজ তিনি করে যেতে চান -- পূর্ব বাংলা থেকে হিন্দু-বিতারণের ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদের মহত্ত্বের ইতিহাস লেখার কাজ।
শঙ্করাচার্যের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, একসময় বৌদ্ধধর্ম থেকে সনাতনে ফিরিয়ে এনে সমগ্র ভারতকে বেধেছিলেন শঙ্করাচার্য। যুগাচার্য স্বামী প্রণবানন্দও জাতপাত, অস্পৃশ্যতা থেকে হিন্দুদের বের করে মিলনানন্দে সামিল করেছিলেন। হিন্দু মিলনে সামিল আরএসএস-কেও তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। হিন্দুত্বের ধ্বজা যারা উড়িয়েছিলেন তাদের প্রত্যেকেরই জীবৎকাল স্বল্প; শঙ্করাচার্য, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা এবং স্বামী প্রণবানন্দ। স্বামী প্রণবানন্দের মত মানুষকেও যখন সাম্প্রদায়িক বলা হয় তখন তা  অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। দু'হাজার বছরের সুপ্তির পর আজ হিন্দুরা উঠে দাঁড়িয়েছে। তারজন্য শঙ্করাচার্য, শিবাজী, গুরুগোবিন্দ সিংহ, স্বামী প্রণবানন্দ এবং শ্যামাপ্রসাদের অবদান যেন আমরা ভুলে না যাই।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad