কল্যাণ চক্রবর্তী
কাব্যগ্রন্থের নাম 'বাবরের প্রার্থনা'। লেখক শঙ্খ ঘোষ।পুরস্কার: আকাদেমি।
গ্রন্থের 'মণিকর্ণিকা' অংশের একটি কবিতা 'বাবরের প্রার্থনা' এবং তা দিয়েই গ্রন্থের নামকরণ করেছিলেন তিনি। আর তাতেই কিস্তিমাত! গ্রন্থের আর কোথাও মুসলিম আসঙ্গও নেই।
কবিতাটি শুরু হচ্ছে এইভাবে --"এই তো জানু পেতে বসেছি পশ্চিম / আজ বসন্তের রুদ্ধদ্বার", শুধু এই টুকুই মুসলিম আসঙ্গ। বাকীটা পুরোটাই একজন অসুস্থ সন্তানের জন্য পিতার উদ্বেগ অথবা অসুস্থ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পূর্ববর্তী প্রজন্মের আক্ষেপ।
বাবরের প্রার্থনার চতুর্থ পংক্তি হল "ধ্বংস করে দাও আমাকে ঈশ্বর/ আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।" কোনো মুসলিম আসঙ্গ যে কবির মনের মধ্যে ছিল না, তা 'ঈশ্বর' শব্দটি প্রমাণ করে। এ পর্যন্ত পর্যুদস্ত সন্ততিকে দেখে অসহায় পূর্ববর্তী প্রজন্মই প্রকাশিত শঙ্খ ঘোষে। কিন্তু ছোট্ট, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা কাব্যগ্রন্থটির নামকরণে ব্যাপৃত রইলো। বিশেষত 'বাবর' নামটিকে 'এনক্যাশ' করলেন তিনি। কাব্যগ্রন্থে অনেক ভাল কবিতাই ছিল -- 'মহানিম গাছ', 'হাতেমতাই' ইত্যাদি। কিন্তু এই নামে কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করায় ১৯৭৭ সালে জুটল আকাদেমি। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হল না তাকে। অলোক রঞ্জন দাশগুপ্ত, বনফুল সবাইকে অতিক্রম করে গেলেন। কী অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা!
'বাবরের প্রার্থনা'। কবি শঙ্খ ঘোষেরও?

No comments:
Post a Comment