চাঁদনী: বুধবার আন্তঃর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পরিচিত। দিনটি মর্যাদার সাথে পালিত হচ্ছে। রাজ্যের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি হলদিয়া পৌরসভার উদ্যোগে পালিত হল "মাতৃভাষা দিবস"। এদিন সকাল থেকে স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির পাশাপাশি হলদিয়া মহকুমা শাসক পূর্নেন্দু নষ্কর, পৌরসভার চেয়ারম্যান শ্যামল আদক সহ অন্যান্য কাউন্সিলার ও গুনজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন শহীদ বেদিতে মাল্যদান,নাচ, গান ও আবৃতির মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। ১৯৫২ সালের এই দিনে গোটা বিশ্বকে অবাক করে মায়ের ভাষার জন্য রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল এই বাংলার কয়েকটি তরুণ তরতাজা সূর্য সন্তান।তাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের জন্যই আমরা পেয়েছি অমৃতসম মায়ের ভাষা,প্রাণের ভাষা,গানের ভাষা বাংলা ভাষা।১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট তারিখে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্বভ হয়।পূর্ব বাংলার মুসলমানরা ছিল সংখ্যা গরিষ্ট।তাই পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের অর্ন্তভুক্ত করা হয়।ইতি মুহুর্তে পাকিস্তানের নব্য উপনিবেশবাদী,ক্ষমতা লিপ্সু,উদ্ধত শাসকরা শুরু থেকেই মানুষের ওপর অত্যাচার চালাতে থাকে।তারা ফন্দি আঁটে কীভাবে এদেশের মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়া যায়।এদেশের মানুষকে বসে রাখার জন্য তারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।পাকিস্হান এদেশের সকল প্রতিভাকে ধ্বংস করে গভীর চেষ্টা চালায়।কিন্তু এদেশের দামাল চেলে তাদের ভাষার মর্জাদা রক্ষার জন্য কঠিন বজ্রশপথ নেয়।পূর্ব বাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন।আন্দোলনের মূল ভূমিকা নেয় পূর্ব বাংলার ছাত্র ও যুব সমাজ।আন্দলনের প্রতিবাদ সভা ২১শে ফেব্রুয়ারি হবে তা আগে থেকেই ঘোষনা করা হয়।পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকার ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৪৪ধারা ঘোঘনা করে।কিন্তু এদেশের তরুণ ছাত্র ও যুব সমাজ এই ১৪৪ধারা মানতে নারাজ।যার ফলে ২০ই ফেব্রুয়ারী রাত্রে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোপন বৈঠক করে যে তারা ২১শে ফেব্রুয়ারী ১৪৪ধারা লঙ্ঘন করবেই।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারী সকল ছাত্ররা মিলে প্রতিবাদ মিছিল গড়ে তোলে।তারা ক্রমেক্রমে প্রাদেশিক ভবনের দিকে এগিয়ে চলে।মিছিল ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ গুলি চালায়।আর পুলিশের এই গুলিতে রক্ত নিস্বরন করে অকালে ঝরে যায় বরকত,জব্বার,সালাম,রফিকের মতো পুষ্পগুচ্ছরা।তাদের এই আত্মত্যাগের জন্যই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
কিন্তু সেদিনের রক্তের বিনিময়ের ভাষা আন্দোলন বর্তমান প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য হারাচ্ছে।তারাও সেদিনের পাকিস্হানিদের মতো বুধবার বাংলা ভাষাকে ভুলে যেতে চাইছে।যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে মানুষ,আর তারসঙ্গে পরিবর্তির হচ্ছে মানুষের ভাষা বৈচিত্র।তারা এখন কেবল মা থেকে মাম্মি ,বাবা থেকে ড্যাডেই অভ্যস্ত।আগেকার গরীব দরিদ্র মানুষেরা অর্থের অভাবে ছেঁড়া পোষাক পড়ত,কিন্তু বর্তমান যুগের মানুষেরা এইসকল ছেঁড়া জামাকেই স্টাইল হিসেবে দেহে তুলে নিচ্ছে।তাদের কাছে বাংলা ভাষা কেবলই অবজ্ঞার এবং অবহেলার।এর পেছনে মূল ভূমিকা অবশ্য বর্তমান প্রজন্মের পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের।আগে শিক্ষকের বেতের আঘাতে আক্রান্ত হত ছাত্ররা,কিন্তু এখন ছাত্রদের বাঁশ বেতের আঘাতে আক্রান্ত হচ্ছেন শিক্ষকরা।যদিও কিছু শিক্ষক ছাত্রদের শাসনের দ্বারা প্রকৃত মানুষ গড়ে তুলতে চাইলেও এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন স্বয়ং অভিভাবকরাই।ফলে ছাত্ররা পুষ্পাঞ্জলির সাথে সাথে জলাঞ্জলিতে যাচ্ছে।তার এই সকল ছাত্ররাই পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে পিতা-মাতার একমাত্র ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম করে তুলছে।দিনে দিনে ছাত্ররা ফুল থেকে ফুলের কন্টকে রূপান্তরিত হচ্ছে।
সবমিলিয়ে বাংলা ভাষা আজ কারোর কাছে অবজ্ঞার আবার কারোর কাছে গর্বের।বাংলা ভাষা তার নিজস্ব রূপ ফিরেপেতে আবার দরকার সেদিনের সেই ভাষা আন্দলন।তবে এযুগের প্রবীণদের কাছে প্রকৃৃত বাংলা গর্বের ছাড়া কিছুই নয়।তাই তারা বলতে চায়-"মোদের গর্ব মোদের ভাষা আ-মরি বাংলা ভাষা"।

No comments:
Post a Comment