বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা দিয়েছে দেশটির আদালত। রায় শোনার পর বিক্ষোভ দেখায় আইনজীবীরা।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় ঘোষণার পরে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জেলখানায় খালেদা জিয়া গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে তার সঙ্গে চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন।তবে আদেশের বিষয়টি এখনও জানা যায়নি।
এদিকে জেলখানার চারপাশ কড়া পুলিশি নিরাপত্তাবলয় রয়েছে।আশপাশে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।এর আগে বুধবার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য জেলখানার চারদিকে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
পরে কাকরাইলে পুলিশের উপর হামলা করে বিএনপি। ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।এদিকে নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে পুলিশ- ডিএমপি কমিশনার।
পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, লজ্জা থাকলে খালেদা জিয়া আর কখনো দুর্নীতি করবে না।এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে, সেই শাস্তি পেয়েছে খালেদা তারেক।এতিমের টাকা যারা মেরে খায়, বাংলার মাটিতে তাদের স্থান হবে না।উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে, এ বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, অাপনারা নৌকায় ভোট দেবেন। দুর্নীতি করলে দেশের এতো উন্নয়ন করতে পারতাম না।পদ্মা সেতু নিয়ে অামার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলো বিশ্ব ব্যাংক; চ্যলেঞ্জ দিয়েছিলাম; প্রমান করতে পারেনি বিশ্ব ব্যাংক।অাদালত রায় দিয়েছে, সরকারের কিছু করার নেই।
খালেদা জিয়ার দুই ছেলে বিদেশে টাকার পাচার করেছে, যা অাওয়ামী লীগ ফিরিয়ে এনেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশবাসী শান্ত থাকুন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেওয়া হয়েছে। এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ আরও বলেন, রায় ঘোষণার সময় বেগম জিয়ার বয়স ও তিন বারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি আদালত বিবেচনা করে রায় দিয়েছেন। আমরা রায়ের কপি হাতে পাওয়া মাত্রই আপিল করবো।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী কারো দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হলে, তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে এ কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মোতাবেক উচ্চ আদালতের কোনো রায়ের ক্ষেত্রে ৩০ দিন সময় পাওয়া যায় আপিলের জন্য। তবে এই বিশেষ আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে।
আজই খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আইনজীবী হিসেবে যতটুকু জানি, আজই তাকে কারাগারে যেতে হবে। মামলার রায়ের কপি হাতে পেলে তারা আপিল করতে পারবে।


No comments:
Post a Comment