হিন্দু সংহতি মঞ্চের তপন ঘোষের ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ কলকাতা নগর দায়রা আদালতের।
প্রসঙ্গত বুধবার রাজপথে আক্রান্ত সংবাদ মাধ্যম, কোন যুক্তিতে গ্রেফতার হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা তপন ঘোষ।রাজপথে আক্রান্ত সংবাদ মাধ্যম। ইসলাম ধর্ম ছেড়ে সনাতন হিন্দু ধর্মে আসা মুসলিম পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিতে গেলে সাংবাদিকদের দালাল বলে গালমন্দ করে। পরে বচসা থেকে হাতাহাতি হয় সাংবাদিকদের সাথে হিন্দু সংহতির জনা চারেক তরুন সদস্যের সাথে। অভিযোগ, ভাঙচুর করা হয় ক্যামেরা। কেড়ে নেওয়া হয় ক্যামেরার ট্রাইপড ও বুম। মহিলা সাংবাদিকদের সাথে অভব্য আচরন করা হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
এই ঘটনার জেরে হিন্দু সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা তপন ঘোষকে গ্রেফতার করা হয় । ধর্মতলায় হিন্দু সংহতির সভামঞ্চ থেকে তাঁকে আটক করে হেয়ারস্ট্রিট থানার পুলিস। তার সাথে হিন্দু সংগঠনের তিনজন কর্মীকে অাটক করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় থানাতে পুলিশ তপন ঘোষকে জেরা করে জানতে চাওয়া হয় কেন সাংবাদিকদের গায়ে হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা হাত দিলেন। আর এসময় কেন তিনি ব্যবস্থা নিলেন না। টানা জেরার মুখে তপন ঘোষ কোনও উত্তর দেননি বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তাপরেই পুলিশ তপন ঘোষকে গ্রেফতার করে। সঙ্গে তার সাথে সংগঠনের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের প্রতিবাদে তপন ঘোষের অনুরাগীরা হেয়ারস্ট্রিট থানা ঘেরাও করে। তপন ঘোষের মুক্তির দাবিতে হিন্দু সংহতির কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে ধর্মতলায় হিন্দু সংহতির একটি সভা ছিল। এ দিনের সভায় এক পরিবারকে দেখিয়ে দাবি করা হয় যে, তাদের ১৬ জন ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এরপর সেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই, আক্রমণ করেন হিন্দু সংহতির সদস্যরা বলে অভিযোগ।
প্রাথমিকভাবে বচসা ও হাতাহাতি হলেও পরে তা মারাত্মক আকার নেয়। রক্তাক্ত অবস্থা হয় সাংবাদিকদের। চিত্রগ্রাহকদের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
তবে তপন ঘোষের গ্রেফতার নিয়ে তোলপাড় সামাজিক মাধ্যম। কারণ, সাংবাদিকদের সাথে পুরো ঘটনার সাথে তপন ঘোষ জড়িত বা ঘটনার কাছে উপস্থিত ছিলেন না। কতিপয় তরুণ যুবক সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিভিন্ন মহলের যুক্তি, তপন ঘোষকে গ্রেফতার করতে হলে তপন ঘোষের পাশে থাকা উপস্থিত আরও অনেককেই গ্রেফতার করতে হত। শুধু তাই নয় ঘটনার সম দূরত্বে পুলিশ থাকলেও ছবিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশের ভূমিকা দেখা যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও পোষ্ট করে এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

No comments:
Post a Comment