এপার বাংলা তথা কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব নিয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতার সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।আলোচনার শুরুতে এ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী এবং দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মিজ মৌসুমী ওয়াইজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান। এরপর বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের আকাশবাণীর প্রখ্যাত সাংবাদিক উপেন তরফদার বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা আকাশবাণীতে প্রচারের ব্যবস্থা করার পর জনগণের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য হয়েছিল তখনই উপলব্ধি করেছিলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন শুধু সময়ের ব্যবধান মাত্র।
অনুষ্ঠানে প্রথম সচিব (প্রেস) মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল ৭ই মার্চের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, কিভাবে একটি রাজনৈতিক ভাষণ একটি জাতির মুক্তির দিশা দিতে পারে পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করে নতুন পথের সন্ধান দিতে পারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তার জলন্ত প্রমাণ। এ ভাষণটি আমাদের শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও কৃষ্টির উত্তরাধিকারে পরিণত করার ফলে আমরা এতটাই আস্থাশীল যে, কোনো অপশক্তিই আমাদের কখনো দীর্ঘকাল দাবিয়ে রাখতে পারবে না। এ ভাষণ আমাদের মুক্তির মন্ত্র, সংগ্রামের চেতনা, আত্মত্যাগের প্রেরণা। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ভাষণ পর্যবেক্ষণ করে ইউনেস্কো তাদের ‘মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড’ কর্মসূচীর আওতায় ২০১৭ সালের ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর প্যারিসে দ্বিবার্ষিক বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারী হেরেটিজ’ ‘মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করে। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এ সুপারিশ সম্মতি দিয়ে ১৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে পাঠিয়ে দেওয়ার দুইদিন পরই ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ৪২৭তম প্রামাণ্য দলিল হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মিয়া মোঃ মাইনুল কবির বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করে একটি জাতির মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। জনাব কবির বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে ধাপে ধাপে রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত থেকে যে প্রজ্ঞা অর্জন করেছিলেন তাই মহাজগরণের ডাক যখন ৭ই মার্চের ভাষণে দিয়েছিলেন তা রেসকোর্স ময়দানের দশ লক্ষাধিক জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েছিল।

No comments:
Post a Comment