'গুড ফ্রাইডে' কি এবং কেন?
রঙের গুঁড়ো হাওয়ায় ওড়ে এলোমেলো ।আবির মাখা পিচ রাস্তা অনেক আগেই হোলির রঙ মুছে নিয়েছে গা থেকে।রঙ আমরা সবাই মুছে ফেলি।আজ নয়তো কাল।কিন্তু কিছু রঙের দাগ হাজার হাজার বছর পেরিয়েও টিকে যায় কি করে যেন।কালচে হয়ে যায়,তবু উঠতে চায়না।এ রঙের গুঁড়ো হাওয়ায় ওড়েনা, এ রঙের প্যাস্টেল এখনও পাওয়া যায়না আঁকার দোকানে।এ রঙ রক্তের,এ রঙ একটা মানুষকে নৃশংস অত্যাচার করে মেরে ফেলা আর তারপর তার দুরন্ত কামব্যাকের কালজয়ী রঙ।শপথ নিয়েছি যখন জানার মাধ্যম কেবলই হোক বাংলা ভাষা তখন আমাদের মাতৃভাষাই আমাদের পৌঁছে দিচ্ছে আবির মাখা পিচ রাস্তা থেকে সোজা জেরুজালেমের এক ঐতিহাসিক সকালে।
গুড ফ্রাইডে খ্রিষ্টানদের একটি ধর্মীয় ছুটির দিন। এই উৎসবের অপর নাম হোলি ফ্রাইডে (ইংরেজি: Holy Friday, "পবিত্র শুক্রবার"), ব্ল্যাক ফ্রাইডে (ইংরেজি: Black Friday, "কালো শুক্রবার") বা গ্রেট ফ্রাইডে (ইংরেজি: Great Friday, "মহান শুক্রবার")।গলগথায় যীশু খ্রিষ্টকে যে ক্রুসবিদ্ধ করা হয়, তারপর মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী সমাধিমন্দির থেকে তাঁর পুনরায় জীবন লাভ করার যে ইতিহাস তাকে স্মরণ করে এই উৎসবটি পালিত হয়। পবিত্র সপ্তাহে ইস্টার রবিবারের ঠিক আগেই যে শুক্রবার পড়ে সেইদিন এই উৎসব পালিত হয়। প্রায়শই গুড ফ্রাইডে ইহুদিদের উৎসব পাসওভারের সঙ্গে একই দিনে উদযাপিত হয়ে থাকে।বাইবেলে যীশুর বিচারের বিবরণী থেকে মনে পণ্ডিতরা মনে করেন যে তাঁকে সম্ভবত শুক্রবারে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল।
এখন প্রশ্ন কেউ করতেই পারে এ দিন তো চরম শোকের দিন।খ্রিষ্ট ধর্মের মুল ভিত্তিটাই যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে তার মৃত্যুর দিন কি করে ‘গুড’ হতে পারে! গুড ফ্রাইডের এই ‘গুড’ শব্দটি নিয়ে নানা মুনির নানা মত।কারও মতে ‘গুড’ বলতে ‘পবিত্র’ বোঝায়।আবার কারও মতে ‘গুড’ শব্দটি ‘গড’ শব্দটির অপভ্রংশ।অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অবশ্য ‘গুড’ বলতে ‘পবিত্র’ মতটির পক্ষেই রায় দিয়েছে।
যীশুর শিষ্য জুডাস ইসকারিয়োটের সাহায্য নিয়ে মন্দির রক্ষীরা গেৎশিমানি বাগানে যীশুকে গ্রেফতার করে। যীশুকে এরপর নিয়ে আসা হল হাননের প্রাসাদে।হানন ছিলেন প্রধান পুরোহিত কায়াফারের শ্বশুর। সেখানে থেকে যীশুকে নিয়ে যাওয়া হল প্রধান পুরোহিত কায়াফারের কাছে ।
কায়াফার নিজে উঠে যীশুকে শপথ নিয়ে নিজের যা বক্তব্য আছে তা নিঃসঙ্কোচে জানাতে বললেন।যীশু সম্মতি জানালেন। কায়াফার এরপর প্রশ্ন করলেন যীশুকে “...আমাদের বল, তুমিই কি ঈশ্বরের পুত্র সেই খ্রিষ্ট?” যীশু বললেন, “আপনি নিজেই তা বললেন। এমন একটা সময় আসবে যখন মানব সন্তান সর্বশক্তিমানের ডান হাতে বসে মেঘের মধ্যে থেকে ভেসে আসবেন। প্রধান পুরোহিতের পক্ষে যীশুর এই কথা মেনে নেওয়া সম্ভব হল না। যীশুকে সরাসারি উনি ঈশ্বরনিন্দার দায়ে অভিযুক্ত করলেন। যীশুর বিচার শেষ হল তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার মাধ্যমে।
পরদিন সকালে সমস্ত সভাসদরা যীশুকে রোমান রাজ পন্টিয়াস পাইলেট এর কাছে নিয়ে গেল। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পনা মাফিক রাজদ্রোহ, সিজারকে রাজস্বদানে বাধা ও নিজেকে রাজা ঘোষণা করার অভিযোগ আনা হল । পাইলেট নিজে যীশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাইলেট ইহুদি বিচারকদের জানালেন যে যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মত কোনো কারণ তিনি অন্তত খুঁজে পাচ্ছেন না। যীশু গালিলের লোক জেনে তিনি গালিলের শাসক রাজা হেরোডের উপর যীশুর বিচারের ভার ছেড়ে দিলেন। হেরোড পাসওভারের ভোজসভা উপলক্ষে সেই সময় জেরুজালেমেই ছিলেন। হেরোড যীশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো উত্তর পেলেন না। তিনি আবার যীশুকে পাঠিয়ে দিলেন পাইলেটের কাছে। পাইলেট বিচারকদের আবারও জানালেন যে তিনি বা হেরোড কেউই যীশুকে দোষী মনে করার মত কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।কিন্তু বিচারক দের খাতিরে পাইলেট যীশুকে শুধুমাত্র চাবুক মেরে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব রাখলেন ।
পাসওভার হল ইহুদীদের খানা পিনার আসর। এই রীতি অনুযায়ী এই দিন ইহুদিদের অনুরোধে রোমানরা একজন বন্দীকে ছেড়ে দিতেন। পাইলেট জনসাধারণকে জিজ্ঞাসা করলেন যে তারা কার মুক্তি চাইছে।আপামর উপস্থিত জনগণ সেদিন ক্ষমতার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে দিয়েছিলেন। কায়াফারের ইশারায় জনগণ খুনি বারাব্বাসের মুক্তি চাইল। পাইলেট জিজ্ঞেস করলেন উপস্থিত জনগণ কে যীশুকে নিয়ে কি করা উচিত । জনগণ একবাক্যে চিৎকার করে বলেছিল সেদিন "ওকে ক্রুশবিদ্ধ করুন।"
পাসওভার হল ইহুদীদের খানা পিনার আসর। এই রীতি অনুযায়ী এই দিন ইহুদিদের অনুরোধে রোমানরা একজন বন্দীকে ছেড়ে দিতেন। পাইলেট জনসাধারণকে জিজ্ঞাসা করলেন যে তারা কার মুক্তি চাইছে।আপামর উপস্থিত জনগণ সেদিন ক্ষমতার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে দিয়েছিলেন। কায়াফারের ইশারায় জনগণ খুনি বারাব্বাসের মুক্তি চাইল। পাইলেট জিজ্ঞেস করলেন উপস্থিত জনগণ কে যীশুকে নিয়ে কি করা উচিত । জনগণ একবাক্যে চিৎকার করে বলেছিল সেদিন "ওকে ক্রুশবিদ্ধ করুন।"
পাইলেট যীশুকে চাবুক মেরে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবার সর্বসমক্ষে নিয়ে এলেন। প্রধান পুরোহিত কায়াফার বললেন আর কিছু না হোক যীশু যে নিজেকে ঈশ্বরের সন্তান বলেছেন স্রেফ এই কারণটাই যথেষ্ট। যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক।
যীশুর মৃত্যু চেয়ে জনতা তখন উন্মত্ত হয়ে গেছে। জনতার সামনে এসে পাইলেট আবার যীশুকে নিরপরাধ ঘোষণা করলেন পাইলেট । তিনি জলে হাত ধুয়ে জানিয়ে দিলেন, যীশুর বিচারে আর তিনি অংশ নেবেন না। তবে সম্ভাব্য দাঙ্গা রোখার জন্য এবং নিজের চাকরি রাখতে পাইলেট যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। "নাজারেথের যীশু, ইহুদিদের রাজা" লেখা একটি ক্রুশ যীশু বয়ে নিয়ে চললেন গলগথা নামক স্থানে। তাঁকে ক্রুশ বহনে সাহায্য করেছিলেন সাইরিনের সিমন। গলগাথায় অপর আরও দুই অপরাধীর সঙ্গে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হল ।
ছয় ঘণ্টা যীশু ক্রুশে চরম যন্ত্রণাভোগ করেছিলেন। শেষ তিন ঘণ্টায় (দুপুর তিনটে থেকে) অন্ধকারে সমস্ত গলগাথা ঢেকে গিয়েছিল।যীশু প্রাণত্যাগ করলেন প্রচণ্ড আর্তনাদ করে। যীশুর মৃত্যু’র সাথে সাথে সেদিন ভূমিকম্প শুরু হয়, যাবতীয় সমাধিপ্রস্তর সব ভেঙে যায়, প্রধান মন্দিরের পর্দা উপর থেকে নিচ অবধি ফালাফালা হয়ে ছিঁড়ে যায়। সেদিন যিনি যীশুকে ক্রুশ বিদ্ধ করেছিলেন , তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, "ইনি সত্যিই ঈশ্বরপুত্র ছিলেন।"
যীশুর গোপন অনুগামী যোসেফ যীশুর বিচারে সম্মতি দেননি। তিনি পাইলেটের কাছে আবেদন করলেন যীশুর দেহ চেয়ে। যীশুর দেহ পরিষ্কার লিনেন-এর কাপড়ে মুড়ে যেখানে ওনাকে ক্রুসবিদ্ধ করা হয় সেখান থেকে দূরে একটি সমাধিমন্দিরে রেখে দিয়ে এলেন । যীশুর মৃত্যু’র তিনদিন পর , রবিবার, যীশু আবার জীবন লাভ করলেন। ইস্টার চল্লিশ দিন ব্যাপী উপবাস, প্রার্থনা এবং অনুশোচনার মাধ্যমে পালন করা হয়। চল্লিশ দিন ব্যাপী উপবাসের শেষ সপ্তাহকে পুণ্য সপ্তাহ বলা হয়।
সূত্রঃ সববাংলায় পেজ

No comments:
Post a Comment