দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু, এখনও বাকি বাংলা। আর এটাই যেন গাত্রদাহের কারণ হচ্ছে গোটা দলের। শনিবার দলীয় সভার মঞ্চ থেকে বিষয়টি স্বীকারও করে ফেললেন দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। আত্মসমালোচনার সুরে বললেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পার্টিটাকে তৈরি করলেন, কিন্তু নিজের মাটিতে তাঁর পায়ে আমরা পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারলাম না। সারা দেশ শ্যামাপ্রসাদের পায়ে অঞ্জলি দিচ্ছে। কিন্তু, আমরা পারিনি। এর থেকে বড় অপদার্থতার আর কিছু হতে পারে না। সেই কারণে নিজেদের বুকে ব্যথা লাগে। নিজেদের অপদার্থ মনে হয়।"
শনিবার কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এই ভাবেই রাজ্যে বিজেপি-র ক্ষমতায় না আসা সম্পর্কে আক্ষেপ করেন রাহুলবাবু।
সভায় তিনি বলেন, “ত্রিপুরা আমার পাশের রাজ্য। সেই রাজ্যের শপথে আমি যেতে পারলাম না। এই নিয়ে মনের মধ্যে কতটা ব্যথা। আমি আপনাদের তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। সারা দেশ মোদিময় হয়ে উঠেছে। কিন্তু, দুঃখ লাগে যখন দেখি বাংলাটা বাকি। আমি যখন দিল্লিতে গেলাম দেখলাম স্পেশাল ফ্লাইট যাচ্ছে ত্রিপুরার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতারা বললেন, রাহুলদা ত্রিপুরার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়া দরকার। আমি তাঁদের বললাম, আমার কাজ আছে, আমি যাবো না। কিন্তু, আমার এমন কোনও কাজ ছিল না যে, ত্রিপুরায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যেতে পারতাম না। গুজরাটের বিজয়ভাই যখন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তখন নিজে আমাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু, আমি যাইনি। আজ পর্যন্ত কোনও প্রদেশে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমি যাইনি। এই রাজ্য থেকে কমিউনিস্টরা বিদায় হয়েছে। দেশ থেকেও কমিউনিস্টদের নাম মুছে যাবে। তবে এখন কমিউনিস্টদের আরেক ধ্বজাধারী নকল তৃণমূল কংগ্রেস রয়েছে। ওরা আধা কমিউনিস্ট। এদেরও বিসর্জন অবশ্যম্ভাবী। সেই কারণে তৃণমূল কংগ্রেসকে বাংলা থেকে বিদায় করতে হবে।”

No comments:
Post a Comment