বুধবার বাঁকুড়া জেলার কাঁকড়ডাঙা, পাত্রসায়েরে পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন।
মুখ্যমন্ত্রী যে সকল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, তার কয়েকটি হল, ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ, ধানের গুদাম, নতুন রাস্তা, মিনি ইনডোর গেমস কমপ্লেক্স, খালের সংস্কার ইত্যাদি।
তিনি যে সকল প্রকল্পের শিলান্যাস করেন, তার কয়েকটি হল, ইকো পার্ক, শ্রম ভবন ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি কন্যাশ্রী, সবুজশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সবুজসাথী, আনন্দধারা, গতিধারা, ধামসা মাদল, কৃষি যন্ত্রপাতি, সবজি চাষের মিনিকিট ইত্যাদি পরিষেবা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, 'আমি গত ডিসেম্বর মাসে বাঁকুড়া এসেছিলাম। আগে জেলাগুলোতে ভোট করতে ভোট বাবুরা আসতেন, তারপরে আর আসতেন না। আমি ভোটের সময় কম আসি, সারা বছর কোনও না কোনও জেলায় যাই।'
আমাদের মা মাটি মানুষের সরকার বাঁকুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করে দিয়েছে।
আগে বাঁকুড়ায় ১৫% পাইপ জল ছিল, ছয় বছরে আমরা সেটা বাড়িয়ে ৬৫% করেছি। আরও ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ হলে আরও ১৮ লক্ষ মানুষ পানীয় জল পাবে।
বাঁকুড়া জেলায় তিনটি নতুন সুপার স্পেশ্যালিটি হসপিটাল তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।
১.৭১ কোটি সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে আমরা স্কলারশিপ দিয়েছি, ৫৭ লক্ষ তপসিলি ও আদিবাসী ছাত্রছাত্রীকে আমরা স্কলারশিপ দিয়েছি।
৪৫ লক্ষ কন্যাশ্রীর কাছে আমরা স্কলারশিপ পৌঁছে দিয়েছি। ৭০ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সবুজ সাথীর সাইকেল দেওয়া হয়েছে।
কন্যাশ্রীর মেয়েরা আমাদের গর্ব। বাল্য বিবাহ রোধেও তারা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কন্যাশ্রীর স্কলারশিপের টাকা ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও স্কলারশিপ পাবে।
এসসি এসটি ভাইবোনেরা হায়ার এডুকেশন দেশে করলে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ও বিদেশে পড়লে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সফট লোন পাবে।
সাঁওতালি ভাইবোনেরা ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষা অলচিকি হরফেও লিখতে পারবে। তাদের জন্য ২৪টা কোচিং সেন্টার করা হয়েছে।
বাচ্চা জন্মালেই তাকে ছোট্ট একটা গাছের চারা দেওয়া হচ্ছে, সবুজশ্রী প্রকল্প। গাছটি বড় হলে, গাছটি বিক্রী করলে বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ হয়ে যাবে।
আট কোটি মানুষকে ২টাকা কিলো চাল, গম দিই। বিনা পয়াসায় চিকিৎসা দিই সরকারি হাসপাতালে।ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান ও ডায়াগোনিস্টিক সেন্টার তৈরী করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে আশা, আইসিডিএস মেয়েদের, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের, হোমগার্ডদের, পঞ্চায়েত কর্মীদের, মিউনিসিপাল কর্মীদের, কন্ট্রাকচুয়াল কর্মীদের সবাইকে নিয়ে আসা হয়েছে।
কন্ট্রাকচুয়াল ও ক্যাসুয়াল ওয়ার্কারদের চাকরির মেয়াদ ৬০ বছর করে দেওয়া হয়েছে।
আগে আশার মেয়েরা ৮০০ টাকা পেত দিল্লী থেকে। দিল্লী এই প্রোজেক্ট বন্ধ করে দিল। রাজ্য সরকার থেকে ওদের টাকা দেওয়া হয়।
কেন্দ্রের বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রোগ্রামে সারা দেশের মেয়েদের জন্য ১০০ কোটি টাকা। আমরা আমাদের কন্যাশ্রী প্রোজেক্টে ইতিমধ্যে ৫০০০ কোটি টাকা খরচ করেছি।
আপনারা (বিজেপি) যদি মনে করেন ক্ষমতায় এসেছেন বলে মণিষীদের মূর্তি ভাঙবেন, সেটা আমরা মেনে নেব না।
আমার সাথে সিপিআইএম-এর লড়াই হয়েছে। আমরাও ৩৪ বছর পরে ক্ষমতায় এসেছি। মনে রাখবেন আমাদের স্লোগান ছিল ‘বদলা নয়, বদল চাই’।তাই সিপিআইএম এত অত্যাচার করার পরও আমরা কিন্তু পিঁপড়ের ডিমের মত অত্যাচার ওদের ওপর করিনি। তার কারণ ওটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।
আমি সিপিআইএম-এর পক্ষে নই, বিরুদ্ধে।আমরা ওদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সিঙ্গুর, নেতাই, নন্দীগ্রামে লড়াই করেছি।কার্ল মার্ক্স আমার নেতা নন, মহামতি লেনিনও আমার নেতা নন। কিন্তু রাশিয়ায় ওরা নেতা।মনে রাখবেন যে যেই পার্টির সমর্থকই হোক না কেন গনতন্ত্রে হিংসার কোন স্থান নেই।
গনতন্ত্র মানে জবরদখল নয়, ভোটদখল নয়। গণতন্ত্র মানে তুমি ক্ষমতায় আছো, উন্নয়নের কাজ করবে।আমরাও উন্নয়নের কাজ করছি। যদি লড়তে হয়, উন্নয়নের কাজে লড়। প্রতিযোগিতা করতে হলে উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় নাম লেখাও।গড়তে পারলে গড়। আর না পারলে মানে মানে সরে পড়।
আমাদের বদনাম করার চেষ্টা করা হয় রোজ, বারবার, ৩৬৫ দিন। তাও বলি এইসব হুমকির কাছে আমরা ভয় পাই না।যতদিন বাঁচব, মাথে উঁচু করে বাঁচব।
আপনাদের জন্যে আর একটা প্রকল্প তৈরি করা হয়ছে, তার নাম হচ্ছে ‘রূপশ্রী’। দেড় লক্ষ টাকা ইনকাম যাদের বছরে, তাদের ১৮ বছরের বেশী বয়সি মেয়েদের জন্য, তাদের বিয়ের জন্য সরকারকে আবেদন করলে, সরকার আপনাদের মেয়ের বিয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে দেবে।
কৃষকদের জন্যে পুরো খাজনা মকুব করে দিয়েছি আমরা। কৃষিজমির মিউটেশন করতে হলে এক পয়সাও লাগবে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আজ পর্যন্ত কৃষি ঋনটা কি মকুব করেছে? অথচ কয়েকটা বড় বড় রুই কাতলা ব্যাঙ্কের সব টাকা লুঠ করে নিয়ে চলে যাচ্ছে আর কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সাহায্য করছে।
গরীব মানুষদের ঋণ মকুব করে না, কৃষকদের ঋণ মকুব করে না, আর কয়েকটা রুই-কাতলা, আপনার টাকা মেরে দিয়ে চলে গেছে। আর আজকে ব্যাঙ্ক হয়ে গেছে ক্যাশলেস, আর বিজেপি সরকার হয়েছে ফেসলেস’।
এখন ওরা আপনার জমানো টাকা অন্য লোককে দিয়ে দেবে। মানুষ আজকে কঠিন সমস্যায় পড়েছে। এর বিরুদ্ধে যদি তৃণমূল না বলে তাহলে কে বলবে? মানুষ যদি বিপদে পরে, মনে রাখবেন, তৃনমূল কংগ্রেস ছিল, আছে, আর থাকবে।
একতাই সম্প্রীতি, এই কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুলরা শিখিয়ে গেছেন।
বাংলাকে বঞ্চনা করছে দিল্লী। কিছু দেয় না আমাদের। দিল্লী আমাদের সব কেড়ে নেয়। তা সত্ত্বেও বলি বাংলা বঞ্চনা সহ্য করে না, বাংলা প্রতারণা সহ্য করে না, বাংলা সারা দেশের মানুষের পাশে থেকে লড়াই করে, প্রতিশ্রুতি দেয়।
তোমাদের টার্গেট যদি হয় বাংলা, আমাদের টার্গেট, লাল কেল্লা।
কিছু লোক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। নজর রাখুন, পুলিশকে খবর দিন, পুলিশ আপনাকে পুরস্কৃত করবে।
আমরা প্রায় ২০০০ কোটি টাকার একটা প্রকল্প শুরু করছি, নিম্ন-দামোদর অববাহিকা নিয়ে। এতে কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।
অটো ড্রাইভার, ট্যাক্সি ড্রাইভার,ক্ষেত মজদুর ও কেন্দু পাতা সংগ্রহকারীরা ৬০ বছর বয়সে পেনসন পাবে, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সিপিএমের করে যাওয়া দেনার জন্য আমাদের বছরে ৪৮,০০০ কোটি টাকা শোধ করতে হয়।
আগামি ৮ তারিখ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।আমি চাই আমার মা বোনেরা সম্মানের সাথে বাঁচুক, তাদের ছাড়া সমাজ অসম্পুর্ণ।
আমার বাংলার ছেলে-মেয়েরা একদিন সারা বিশ্বকে পথ দেখাবে।

No comments:
Post a Comment