পবিত্রমোহন বিশ্বাসঃ বিজেপির মুখের গ্রাস কাড়তে হনুমান জয়ন্তীতেও তৈরী তৃণমূল।এক রামে রক্ষা নেই হনুমান তার দোসর! সদ্য শেষ হল রামনবমী, তার রেশ কাটতে না কাটতেই এসে গেল হনুমান জয়ন্তী। আগামী শনিবার হনুমান জয়ন্তী উদযাপন করবে তৃণমূল কংগ্রেস।
গতবছর রামনবমী নিয়ে ব্যাকফুটে ছিল তৃণমূল। বীরভূমের কেষ্ট হনুমান জয়ন্তী পালন করে সমতার চেষ্টা করছিলেন।আর এবার বীর বিক্রমে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রামনবমী পালন করে।ঠিক তেমনি বিজেপির বাড়াভাতে ছাই দিতে তৃণমূল তৈরী।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন , আমরা বিজেপির মত ভোটের জন্য এই সব করিনা!সারাবছর তৃণমূল পথে থাকে।যারা হনুমান ভক্ত আছেন তারা পালন করবেন।এই ব্যপারে কারো কাছে শিখতে হবে না।
উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা এবার রামনবমী পালন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।এবার সেখানে হনুমান জয়ন্তী পালন হবে।
সবিনয়ে আমার কয়েকটি কথা বলার আছে। মাননীয় পার্থবাবু বলেছেন তৃণমূল বিজেপির মত ভোটের কথা ভেবে এই সব করেন না। আমার জিজ্ঞাস্য তাহলে কিসের জন্য করেন? লোক দেখানোর জন্য? লোক কেন দেখাতে হয় ভেবেছেন কখনো? প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলগুলোর এক মাত্র এবং অভিন্ন লক্ষ্য হল ভোটের অঙ্ক। ভোটের কথা মাথায় রেখেই সব রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারিত হয়। পার্থবাবু যদিও এটা আমার আপনার চেয়ে ভাল জানেন ও বোঝেন। কিন্তু, মুখে বলবেন না। বিজেপি যদি ভোটের জন্য এই সব করে,তাহলে মানুন তৃণমূল ও একই কারণে করে থাকে!
দুই, পার্থবাবু বলেছেন যাঁরা হনুমান ভক্ত আছেন তাঁরা পালন করবেন।বেশ। এবার একটা চমৎকার সূযোগ এসে গেল তৃণমূলে কতজন হনুমান ভক্ত আছে সেটা দেখা ও বোঝা যাবে!
আসলে বলার কথা এই, ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে না ফেললেই ভাল হয়। ধর্ম থাক ধর্মের জায়গায়। রাজনীতি থাকুক তার জায়গায়। কিন্তু, সমস্যা হল নেতারা ভোট বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ধর্মকে হাতিয়ার করে থাকে।আমরা সাধারণ মানুষ নেতাদের পাতা ফাঁদে পা দেই। আমরা যে সর্বধর্মস্বমণ্বয়ের কথা বলি সেটা মিথ্যার বেসাতীতে পরিপূর্ণ।এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

No comments:
Post a Comment