চাঁদনী, পূর্ব মেদিনীপুরঃ সামনেই আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন।আর এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মেতেছে বাংলার রাজ্য-রাজনীতি।রাজ্য-রাজনীতির এই ভোটের উত্তাপে বাংলায় আজ বিলিন চৈত্র মাসের গাজন উতসব।
গাজন শব্দটি গর্জন শব্দের ব্যুতপত্তি থেকে সৃষ্টি হয়েছে।এই গাজন শব্দের অর্থ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।কেউ কেউ মনে করেন গাজনে অংশগ্রহনকারী সন্নাসীরা প্রচন্ড গর্জন করে বলে এই নাম।আবার কেউ কেউ মনে করেন,গা শব্দের অর্থ গ্রাম এবং জন শব্দের অর্থ জনসাধারন,গ্রামীন মানুষজনের এই উতসব হওয়ায় এর নাম গাজন।তবে জেলা ভিত্তিতে এর আবার ভিন্ন নাম রয়েছে।যেমন মালদার গাজনের নাম গম্ভীরা,আবার জলপাইগুড়ির গাজনের নাম গমীরা।গাজন হিন্দু ধর্মের এক অন্যতম লোকসাংস্কৃতি।এই গাজনে মূলত শিব,মনসা ও ধর্মঠাকুরের পূজাপাঠ হয়েথাকে।বছরের শেষ লগ্নে মূলত সন্ন্যাসী ও শিব ভক্তদের দ্বারা সংগঠিত হয় এই গাজন।বছরের শেষদিনে চড়ক পূজোর পর শেষ হয় এই গাজন উতসবের।চৈত্র মাস ছাড়াও বছরের যেকোনো সময় এই গাজন উতসব অনুষ্ঠিত হয়।যার নাম `হুজুগে গাজন'।
লোকমত অনুযায়ী,এই গাজনের দিন শিবের সঙ্গে হরকালীর বিবাহ হয়।আর সন্ন্যাসীরা সেখানে বরযাত্রী হিসেবে অংশ নেন।গাজনে সন্ন্যাসীরা নিজেদের দেহে বিভিন্ন যন্ত্রনা দিয়ে ইস্ট দেবতাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্ঠা করেন।এই উতসবে দুইজন সন্ন্যাসী শিব ও গৌরি সেজে এবং অন্যান্যরা নন্দী,ভৃঙ্গী প্রভৃতি সং সেজে নৃত্য করতে থাকেন।চৈত্র মাসের এই গাজনে কালী নাচেরও উল্লেখ রয়েছে।এই কালী নাচ এক অন্যতম আকর্ষনীয় বিষয়।সারাবছর শিবকে আগলে রাখেন ব্রাহ্মনেরা।আর এই গাজনের কদিন শিব সমাজের সমস্ত নিম্নশ্রেণীর মানুষের পূজো গ্রহন করেন।এই পূজোয় নেই কোনো জাত,কূল বা অবহেলা।
সবমিলিয়ে গাজন যতই তাতপর্যের হোক না কেন ভোট যুদ্ধের উত্তাপে গাজন গ্রামবাংলা থেকে বিলিন প্রায়।ভোটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলার রাজ্য-রাজনীতি।গ্রামে গ্রামে শুরু হয়েছে ভোট প্রচারের কর্মসূচী।ভোট প্রার্থীরা পৌচচ্ছেন মানুষের দোরে দোরে।আর এই ভোটের জন্য লেগেই রয়েছে মানুষে মানুষে সংঘর্ষ।তা যাই হোক ভোট হোক আর যাই হোক অনেকে মনে করেন যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভোট কোনো ফেক্টর নই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন নদীর ঘাটে নীল পূজার জন্য ঘটে জল ভরে ভক্তরা যে যার গন্তব্য স্থানে যাচ্ছেন। যেমন কোলাঘাটের রূপনারায়ন নদীর তীরে গৌরাঙ্গঘাট ভিড় জমিয়েছেন ভক্তরা নদীতে স্নান করে ঘটে জল ভরে বাঁকা কাঁধে নিয়ে ভোলে বাবা পাড় লাগেগা বলে মাইল এর পর মাইল হেঁটে নিজের মন পছন্দ শিব মন্দিরে জল ঢেলে পুজো দিয়ে নিজের মন বাসনা পূরন করা।

No comments:
Post a Comment