মৃন্ময় নস্কর, ভাঙড় : বাগজোলা খাল থেকে বছর চল্লিশ এর আসাদুল ইসলামের মৃতদেহ উদ্ধার নিছকই স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। রহস্য উৎঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে কাশীপুর থানার পুলিশ।
গত সোমবার ভাঙড়ের বাগজোলা খালের কাশীপুর থানার ছেলেগোয়ালিয়া থেকে বছর চল্লিশ এর এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার মৃতের পরিচয় জানতে পারে কাশীপুর থানার পুলিশ। মৃতের নাম আসাদুল ইসলাম, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার দেওয়ান আটি গ্রামে তার বাড়ি। তিনি নিউটাউনের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে গাড়ি চালাতেন ।আদি বাড়ি দেগঙ্গায় হলেও নিউটাউনের অ্যাকোয়াটিকার কাছে খাসমলে স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে কে নিয়ে বাস করতেন ।
বুধবার নিহতের স্ত্রী সালমা বিবি সহ তার পরিবারের লোকজন কাশীপুর থানায় গিয়ে দাবি করেন তাঁর স্বামী কে খুন করা হয়েছে, যথাযথ তদন্ত করে রহস্য উৎঘাটন করে খুনি দের গ্রেফতার করার দাবি জানান। এই মর্মে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ ও দায়ের করেন।সালমা বিবি বলেন, আমার স্বামী কে সমাজ বিরোধীরা পরিকল্পনা করে খুন করেছে। তিনি জানান, আমাদের আদি বাড়ি দেগঙ্গায় হলেও আমরা বিগত ছয় সাত মাস নিউটাউনে বসবাস করছি, সেখানে জায়গা জমি নিয়ে স্হানীয় সমাজবিরোধী ছট্টুর সঙ্গে বচসা হয় আসাদুলের । এই বচসার জেরে তাঁকে খুন করা হতে পারে বলে পুলিশ কে জানিয়েছে নিহতের স্ত্রী। মৃতের ভাই সঞ্জিবুল ইসলাম বলেন, আমার দাদা নিউটাউনে ইকোস্পেশের একটি কল সেন্টারে গাড়ি চালাতেন ।রবিবার রাত দুটো পর্যন্ত অপেক্ষা করেন সংস্থার এক কর্মী কে ড্রপ করবেন বলে। তার পরই নিখোঁজ হয়ে যান। তার পর দিন তার রক্তাক্ত নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তার দাবি আমরা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি। নিউটাউন সিরিশ তলা থেকে তার মোবাইল উদ্ধার হয়। এর পর কাশীপুর থানার বাগজোলা খালের ছেলেগোয়ালিয়া থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয। আর টাটা সুমো লক অবস্থায় মেলে শাসন থানার আমিনপুরে।
পরিবারের দাবি, পরিচিত তিন থেকে চার জন আসাদুল কে টাটা সুমো সহ ইকোস্পেশ থেকে অপহরণ করে তাকে খুন করে বাগজোলা খালের নির্জন যায়গায় তার দেহ ফেলে দিয়ে টাটা সুমো আমিনপুর সুন্দিয়া ষ্টেশন এর কাছে গাড়ি রেখে ট্রেনে করে বসিরহাট বা অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


No comments:
Post a Comment