বন্ধুরা বার বার বলেছিল, “গরমে বিয়ে করিস না।” তবুও দিনটা পাওয়া গেল সেই বৈশাখেই। প্যাচপ্যাচে গরমে হাঁসফাঁস করতে করতেই সাতপাকে বাঁধা পড়তে হবে। তাই হানিমুনের প্ল্যান থেকে গরমকে যত দূরে রাখা যায় ততই ভালো। নতুন সঙ্গীর হাতে হাত রেখে জীবনের উষ্ণতা খুঁজতে চলে যান পাহাড়ের কোলে। গতে বাধা দার্জিলিং বা গ্যাংটক নয়। একটু নিরিবিলিতে মধুচন্দ্রিমাকে মধুর করতে টিকিট কাটুন কুর্গের।
কর্নাটকের কোদাগু জেলা। সেখানেই পশ্চিমঘাট পর্বতের কোলে সবুজ উপত্যকার মাঝে এক সাজানো ভূমি কুর্গ। পাহাড়, ঝরনা, নদী কী নেই সেই স্বপ্নের রাজত্বে। আর মাঝেমাঝে কফির চাষ দেখলে মনে হবে যেন কেউ সবুজ কার্পেট বিছিয়ে ওয়েলকাম করছে আপনাদের। একে নতুন জীবনের শুরু তারওপর সঙ্গে রয়েছে প্রাণের মানুষটি। স্বপ্নের রাজত্বে একাকী সময় কাটাতে হাতে রাখুন সপ্তাহখানেক। সময় বাঁচাতে আকাশপথে যেতে পারেন। তবে আপানাকে হয় ম্যাঙ্গালোর বা বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরের টিকিট কাটতে হবে। সেখানে থেকে গাড়িতে যেতে হবে কুর্গ। আর যদি জার্নিটাকেও উপভোগ করতে চান তবে ট্রেনের থেকে ভালো উপায় আর কী হতে পারে। কুর্গ যাওয়ার জন্য সবথেকে কাছের স্টেশন মাইসুরু। সেখানে নেমে গাড়ি নিয়ে যেতে হবে উপত্যকার শহর কুর্গে।
সঙ্গীর সাহচর্চ ছাড়াও, কুর্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার মন ভুলিয়ে দেবে। তাই মনের মানুষের হাত ধরে একটু আশপাশটা ঘুরে দেখতে ক্ষতি কী। কিন্তু প্রশ্ন হল, যেখানে চারদিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায় সেখানে আপনি কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবেন? তাই যাওয়ার আগে একটু হোমওয়ার্ক করে নেওয়া ভালো।
জেনে নিন কুর্গে গেলে কী কী একদম মিস করবেন না -
নাগারহোল ন্যাশনাল পার্কতালাকাবেরী নদীঅ্যাবি ফলস বা জেসি ফলসইরুপ্পু ফলসওঙ্কারেশ্বর মন্দিরদা রাজাস সিট, কুর্গের অন্যতম সুন্দর ভিউ পয়েন্ট। সঙ্গীর সঙ্গে একটা রোম্যান্টিক সন্ধে এখানে কাটাতেই পারেনভাগামান্ডালা মন্দিরমাদিকেরি ফোর্ট
কোথায় থাকবেন : মধ্যবিত্তের নাগালের হোটেল থেকে ফাইভ স্টার, সবরকম হোটেলই রয়েছে কুর্গে। একটু দেখাশোনা করলেই পেয়ে যাবেন মনের মতো থাকার জায়গা। চাইলে আগে থেকে বুকিং করেও যেতে পারেন
কুর্গে বেড়ানোর আদর্শ সময় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ। তবে এখানে সারাবছরই মনোরম থাকে আবহাওয়া। তাই বিয়ে যে সময়ই করুন হানিমুনের জন্য সবসময় সুপারহিট ডেস্টিনেশন হতে পারে কুর্গ।


No comments:
Post a Comment