ছবি:বিভাস লোধ
বেহালায় বাড়ির ভিতর ডিপ ফ্রিজের মধ্য থেকে বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হল। অভিযোগ, ওই মহিলার ছেলে প্রায় দু’বছর ধরে দেহটি রেখে দিয়েছিল।বৃহস্পতিবার রাতে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত ২৫ নম্বর এস এন চ্যাটার্জি রোড, বেহালা। রাস্তার ধারে দু’তলা বাড়ি শুভব্রত মজুমদারদের। তাঁর বয়স ৪৫ বছর। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। বাবা গোপাল মজুমদার (৭৯) সরকারি চাকরি করতেন। মা বীণাদেবীও ছিলেন সরকারি চাকুরে। দু'জনে ফুড ডিপার্টমেন্টের বড়সড় পদে ছিলেন। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ২ বছর আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বীণাদেবী। মৃত্যু হয় তাঁর। মায়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন শুভব্রত। তারপর কী হয়েছে ? জানেন না স্থানীয়রা।
ছবি :বিভাস লোধ
এই প্রসঙ্গে এক প্রতিবেশী বলেন, “শুভব্রতর মা যে মারা গেছে তা জানতাম। কিন্তু, তাঁর মৃতদেহ দাহ করা হয়েছিল কি না তা জানতে পারিনি। এখন কে কার খবর রাখে। ফ্ল্যাট বাড়ি। একা একা থাকার অভ্যাস। সবই তো জানেন। শুধু শুনেছিলাম, শুভব্রত নাকি বলত, মাকে পিস হাভেনে রেখেছি।”
প্রশ্ন উঠছে, গোপালবাবু কী করছিলেন ? তিনি তো জানতেন স্ত্রী’র দেহ দাহ হয়নি। এপ্রসঙ্গে শোনা গেছে, গোপালবাবুকে নাকি ছেলে বলেছিলেন, মরা মাকে বাঁচিয়ে তুলবেন। কিন্তু, একসময়ের সরকারি চাকুরে গোপালবাবু কীভাবে ছেলের একথা বিশ্বাস করলেন ? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুভব্রতর পড়াশোনা লেদার টেকনোলজি নিয়ে। পুলিশের অনুমান, তাই চামড়ার পচন রুখতে একাধিক কেমিকেল ব্যবহার করেছিলেন তিনি। তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক কেমিকেলের বোতল উদ্ধার হয়েছে। বীণাদেবীর পেটের উপরের অংশ থেকে নাভি পর্যন্ত কাটা ছিল। মনে করা হচ্ছে, বীণাদেবীর শরীর থেকে নাড়িভুঁড়ি, পাকস্থলী সহ শরীরের ভিতরের দ্রুত পচনশীল অংশগুলি বের করে নেওয়া হয়েছিল। দুর্গন্ধ এড়াতে শুভব্রত একাজ করেছিলেন বলে ধারণা পুলিশের।এও জানা গেছে, মা মারা যাওয়ার পর ডেথ সার্টিফিকেট দিয়েছিল হাসপাতাল। তা বাড়িতে রেখে অবৈধভাবে মায়ের লিভিং সার্টিফিকেট জোগাড় করেছিলেন শুভব্রত। তা দিয়ে মায়ের নামে পেনশনও তুলতেন। যা মাসে ৫০ হাজার টাকা। কোথা থেকে সেই সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন তা জানা যায়নি।
গতরাতে DC (সাউথ-ওয়েস্ট) নীলাঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে বেহালা থানার পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে। প্রশ্ন উঠছে, দু’বছর পর কেন বীণাদেবীর দেহের খোঁজ পড়ল ? এতদিন বিষয়টি চাপা থাকল কী করে ? সন্দেহ হয়নি কারও ? এপ্রসঙ্গে জানা গেছে, সম্প্রতি সূত্র মারফত পুলিশ খবর পায়, ঘরের মধ্যে মায়ের দেহ রেখেছেন শুভব্রত। সেই অনুযায়ী গতকাল পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দেহ উদ্ধার করে। যদিও এই সূত্রটি কে বা কারা তা জানা যায়নি। তাছাড়া এতদিন পর কেন সেই সূত্রটি পুলিশকে খবর দিল সেটাও স্পষ্ট নয়।
শুক্রবার শুভব্রতকে আলিপুর আদালতে হাজির করা হয়েছে।


No comments:
Post a Comment