আনন্দবাজার অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ পঞ্চম দিনে পড়ল। বাঁকুড়ার বড়জোরা প্রিন্টিং প্রেসের ৩৯ জন ঠিকা কর্মীকে আনন্দবাজার কোম্পানি বরখাস্ত করেছে। তার প্রতিবাদে এই অবস্থান।এর আগে ৪০০ সাংবাদিক ও কর্মীকে ছাঁটাই করা হলেও বিক্ষোভ হয়নি।কর্মীদের স্ত্রী, ছেলেমেয়েরাও অবস্থানে যোগ দিলেন।
এ রাজ্যে যে সব সংস্থা এক কথায় কর্মীদের চাকরি থেকে বরখাস্তের নোটিশ ধরিয়ে দেয়,তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রথমে থাকবে নিঃসন্দেহে মিডিয়া হাউসগুলি।
অনিয়মিত বেতন,বিরামহীন কাজ,নীতিহীন চাটুকারিতা করার পরেও সংবাদ কর্মীদের যখন তখন দরজা দেখিয়ে দেন মিডিয়া হাউসের ম্যানেজমেন্ট।
এখানকার ছোট বড় সব মিডিয়ার চেহারাই মোটের উপর একই।
গত কয়েক বছর ধরে এ রাজ্যের সব চেয়ে বড় মিডিয়া বলে বিজ্ঞাপিত আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ লাগামহীন ভাবে কর্মী ছাঁটাই করে চলেছে।
সাংবাদিক ছাঁটাই হয়েছে একের পর এক।অভিযোগ কয়েক ঘন্টার নোটিশেও একাধিক সাংবাদিককে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে কয়েকদিন আগে এই সংস্থারই বাঁকুড়া বড়জোড়া ইউনিটের ৩৪ জন মেশিন কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত জানায় কর্তৃপক্ষ।
অন্তত এমনটাই অভিযোগ আনন্দবাজারের হাউসের সামনে তাবু খাটিয়ে অবস্থানরত কর্মীদের ।
কর্মীরা দাবি করেছেন চুক্তিভিত্তিক কাজ করলেও তাঁদের অনেকেই গত ১৪ বছর ধরে বিভিন্ন ঠিকাদারের অধীনে কাজে বহাল করে আসছিল আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ।
এবারও নতুন ঠিকাদারের সঙ্গে সেই মর্মে চুক্তি হয়ে গেছিল বলে ছাঁটাই কর্মীদের দাবি।
এই কর্মীদের আরও দাবি বড়জোড়া ইউনিট ম্যানেজার নতুন ঠিকাদারের সঙ্গে পুরোন কর্মীদের রেখে দেওয়া নিয়ে চুক্তি হয়ে যাওয়ার বিষয়টা উত্থাপন করে,তাঁদের কাজে বহাল রাখার শর্ত দেওয়ায় আনন্দবাজার কর্তৃপক্ষ সেই ইউনিট ম্যানেজারকেও ছাঁটাই করে দিয়েছে।
গোটা ঘটনার প্রতিবাদে বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে একেবারে কলকাতায় এসে আনন্দবাজার অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন ছাঁটাই কর্মীরা।আনন্দবাজার অফিসের সামনে শামিয়ানা টাঙিয়ে দিন রাত অবস্থান করছেন একদল শ্রমিক।
কর্তৃপক্ষের অন্যায় জুলুমবাজির বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলতেও তাঁদের গলা কাঁপছে না।

No comments:
Post a Comment