এসো হে বৈশাখ এসো এসো’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুল শ্রোতাপ্রিয় একটি গান। মজার ব্যাপার হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের বহু বৈশাখের গান থাকলেও সাধারণ শ্রোতা সেগুলো সম্পর্কে কমই জানে। পহেলা বৈশাখে এই গানটি গাওয়া হয় বলে অনেকে ধারণা করে থাকে এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পহেলা বৈশাখের গান। আসল সত্য হচ্ছে, এটা পহেলা বৈশাখের কোনো গান নয়। এটা বৈশাখের গান। বছরের প্রথম মাসের ঋতুবন্দনা করে তিনি এটি রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু ঋতু পর্যায়ের অসংখ্য গান লিখেছেন।
এর মধ্যে বর্ষা এবং বসন্তের গান সবচেয়ে বেশি। বৈশাখের গান এত বেশি না হলেও একেবারে কম নয়। বৈশাখের গানের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মধ্যে মানব মনের যে যোগাযোগ বা মিলন, সেই জায়গাকে তিনি প্রকাশ করেছেন। বৈশাখ নিয়ে তাঁর অনেক গান থাকলেও আমি বলব এ গানটির মধ্য দিয়ে বৈশাখকে তিনি অনন্য একটি মাত্রা দিয়েছেন। পহেলা বৈশাখ এলেই এই গানের কথা মনে পড়ে, কারণ এখানে গ্লানি মোছার কথা বলা হয়েছে—‘যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি।’
এসো হে বৈশাখ’-এ পুরনো বছরের দুঃখ-বেদনা, জরাজীর্ণতা, হিসাব-নিকাশ বাদ দিয়ে আমরা নতুন, নির্মল, সুন্দর একটা বছর পাই। এটাই পহেলা বৈশাখের মূল কথা। একই ধরনের কথা আছে রবীন্দ্রনাথের আরেকটি গানে—‘কী পাইনি তার হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি।’ এর মানে, আমি এত দিন কী পাইনি সেটা মন থেকে মুছে ফেলে, দূরে সরিয়ে রেখে নতুন কিছুকে আহ্বান করছি। এসো হে বৈশাখ গানটি বাঙালি জীবনে পহেলা বৈশাখের সঙ্গে মিশে গেছে। এই গান ছাড়া পহেলা বৈশাখকে ভাবতেই পারি না আমরা।


No comments:
Post a Comment