পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিনই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন সংক্রান্ত সব তথ্য দাখিল করতে হবে। কেন ৯ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হল তাও জানাতে হবে।এদিকে তথ্য গোপন করে মামলা করায় BJP-র মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলা খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। তথ্য গোপন করার জন্য BJP-র পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার টাকা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, কমিশনের নির্দেশিকার উপর দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার।
সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশের পর মনোনয়নের সময়সীমা বাড়িয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কিন্তু, সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এমন কী ঘটল যে কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হল? কমিশনের কাছে তা জানতে চায় হাইকোর্ট। কিন্তু এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেনি কমিশন।
বুধবার বিজেপি-র তরফে কোনও আইনজীবী না থাকায় পিছিয়ে গিয়েছিল মনোনয়ন সংক্রান্ত মামলার শুনানি। আজ সেই মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের এজলাসে। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কমিশনকে প্রশ্ন করেন, “নির্বাচন কমিশনকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়েছে সংবিধান। তাহলে এমন কি ঘটনা ঘটল যে রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর সকালেই তা প্রত্যাহার করতে হল? বললেন সকাল ১১টা থেকে তিনটে পর্যন্ত মনোনয়ন নেবেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আপনাদের ভোলবদল কেন? এমন কী পরিস্থিতি ঘটেছিল?” এর কোনও উত্তর দিতে পারেনি কমিশন।
প্রসঙ্গত , ৯ এপ্রিল ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন। ওইদিন মনোনয়নের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়, ১০ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে। কিন্তু ১০ এপ্রিল ১১টার আগেই ফের একটি নির্দেশিকা জারি করে আগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্টে একসঙ্গে মামলা করেন বিজেপির আইনজীবী প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০ এপ্রিল ওই মামলার শুনানি হয়। নির্দেশিকা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট।

No comments:
Post a Comment