গরমের ছুটিতে এবার গন্তব্য স্থান পরশনাথ পাহাড়।
পরশনাথ ঝাড়খণ্ডের সর্বোচ্চ পাহাড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৪৮০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এই পাহাড়ের মাথায় রয়েছে পরেশনাথ মন্দির। জৈন ধর্মের মানুষদের কাছে এই মন্দিরটি গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। জৈন ঐতিহ্য অনুসারে ২৪ জন তীর্থঙ্করের মধ্যে ২৩ জন তীর্থঙ্কর এই স্থানে এসে সিদ্ধিলাভ করেন।
২৩তম জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ স্বামী ১০০ বছর বয়সে শ্রাবণ মাসের শুক্লা অষ্টমীতে এই পাহাড়ে এসে দেহত্যাগ করেন। সেই থেকে তারই নামে এই পাহাড়ের নাম হয় পরশনাথ পাহাড়। পরবর্তীকালে এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ এই পার্শ্বনাথ স্বামীর মন্দির। তবে শুধুমাত্র পার্শ্বনাথ স্বামী নয় অন্য ২৩জন তীর্থঙ্করেরও মন্দির রয়েছে এখানে।
পার্শ্বনাথ মন্দির থেকে একটি পথ নেমেছে সীতানালায়। কথিত আছে, বনবাসের পথে রামচন্দ্র ও সীতাদেবী বিশ্রাম নেন এখানে। তীর্থযাত্রীদের কাছে অতি পবিত্র এই স্থান।
এখানকার আরও একটি জনপ্রিয় স্থান হচ্ছে পরশনাথ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার। যাঁরা রোমাঞ্চ প্রেমী, তাঁদের জন্য এই স্থান একেবারে উপযুক্ত। এছাড়াও এখানে উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের কিছু বিরল প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়। পরিবেশবিদদের জন্য স্বর্গ এই এলাকা।
কীভাবে যাবেন : কলকাতা বা হাওড়া থেকে গ্র্যান্ড কর্ড লাইনে পরশনাথ স্টেশন। জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস, শিপ্রা এক্সপ্রেস, চম্বল এক্সপ্রেস, দুন এক্সপ্রেস, যোধপুর এক্সপ্রেস, মুম্বই মেলে ঘণ্টা সাতেকের পথ। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক ট্রেন। স্থানীয় শহরের নাম ইশরিবাজার। সেখান থেকে বাস ধরে মধুবন। মধুবন থেকে ৯ কিমি পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পরশনাথ।
থাকবেন কোথায় : মধুবনে অনেক জৈন ধর্মশালা আছে, যেখানে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment