বড়দের ব্যাপারে কথা বলতে নেই, এটা সব ক্ষেত্রেই চিরন্তন বাস্তবতা বলে প্রমাণিত। ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে অমিতাভ বচ্চনের মতো বড় সুপার স্টার আর কি কেও আছে? বলিউডের বিগ বি তিনি । সম্মান প্রশ্নে তিনিই তো মুম্বাই সিনেমার শীর্ষ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে পড়ার ইতিহাসও আছে তাঁর। এক সময়ের বলিউডের সুপারস্টার রাজেশ খান্নার অফ পিকে অমিতাভ বচ্চন ভারতীয় দর্শকদের মন জয় করে ফেলেন। এরপর বিনোদ খান্নার হঠাত করে হারিয়ে যাওয়া- আর পিছে ফিরে দেখতে হয় নাই তাঁকে। স্ত্রী জয়া বচ্চন, যিনি জয়া ভাদুড়ি হিসাবে চলচ্চিত্রে আদৃত ছিলেন, তাঁর হাত ধরেই যেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন অমিতাভ বচ্চন। তবে ব্যক্তিজীবনে বিতর্ককে পিছু ফেলেছেন- তা বোধকরি বলার সুযোগ নেই। স্ত্রী জয়াকে রেখেই দীর্ঘদিন বলিউডের এক সময়ের খ্যাতনামা নায়িকা রেখার সঙ্গে প্রেম, লিভ টুগেদার- কি না বাদ রেখেছেন। কিন্তু এক সময় অমিতাভ ফিরে আসেন জয়ার কাছেই। তারপর নিজের অফ ফর্ম তাঁকে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ফিরে আসেন মিনি পর্দার এক রিয়েলিটি শোতে। তারপর আবার ফিরে আসা। চরিত্রাভিনেতা হিসাবে তাঁর দোর্দণ্ড প্রত্যাবর্তনে মুম্বাই চলচ্চিত্র পরিপূর্ণতা পায়। কিন্তু সিনেমার নায়কদের ব্যাপারে যা যা অভিযোগ আছে তা তাঁকে ঘিরেও আছে বলে মত এই ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সকলের। থাকুক তা, কিন্তু নিজ ঘরের মধ্যেই এক অশুভ পরিবেশের আসল মহানায়ক নাকি তিনি ! এমন খবরে চিন্তার উদ্রেক, নাকি অযাচিত বাস্তবতা তা জানতে পাঠক চলুন, এগোনো যাক।
নিষিদ্ধে সুখ যেন মধুর মতো- এমন মত বাংলাদেশের এক সাহিত্যবোদ্ধার। হ্যাঁ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে মানুষ নিষিদ্ধ ও বিকৃত রোমন্থনে নিজেকে সঁপে দিচ্ছে। এই যেমন পরকীয়া প্রেম যেন এখন ঘরে ঘরে অসুখ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পৃথিবী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত হয়তো আরো নেতিবাচক কিছুকে আলিঙ্গন করবে সমাজ। সমাজ সেখানেই শিকলে আটকে আছে, যাদের কাছে রয়েছে ক্ষমতা। ঠিক সে কারণেই বারটান্ড রাসেল বলেছেন, সামাজিক ক্রমবিকাশের মুল চালকা শক্তি হলো ক্ষমতা। ফ্রয়েড যখন বলছেন, সেক্স হলো মুল চালিকা শক্তি। তাঁর অর্থ দাঁড়াচ্ছে- কার্ল মার্ক্সের পুঁজি মতবাদের বাজারে রাসেল আর ফ্রয়েড দের তত্বের পসরা। হ্যাঁ, প্রবল ক্ষমতাধর অমিতাভ বচ্চনদের অসংলগ্ন কৃষ্টিকে রুখবার ক্ষমতা কার আছে? হয়তো নেই বলেই নিজের পুত্র অভিষেক বচনকেও মুখ বুজে সইতে হয়, যা আজীবন তাঁর মা জয়া বচ্চনকেও সইতে হয়েছে।
অমিতাভ বচ্চনের দুই সন্তান। অভিষেক বচ্চন আর শ্বেতা বচ্চন। দুই দীর্ঘদেহী সন্তানের একজনের ফিল্মি ক্যারিয়ার গড়ে উঠে নাই। কিন্তু পুত্র অভিষেকের দারুণ এক সম্ভাবনা থাকলেও দর্শক যেন তাঁর মধ্যে সেই বিগ বি ইমেজ দেখতে চান কিংবা তাঁকে ছাপিয়ে যাওয়ার এমন কিছুর তুলনা করে বসে- যা অভিষেককে মেগাস্টার করতে আজো পারে নাই। কিন্তু বিদগ্ধ বিশ্লেষণে একজন অভিষেকের মধ্যে নায়ক ও অভিনেতা হওয়ার সকল গুনাবলী রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পিতার চেয়েও তাঁর অভিনয় ক্ষমতা বেশীও আছে কিন্তু শুধুমাত্র পিতার সাথে তাঁর ‘তুলনা’ তাঁকে এখনো বলিউডের অন্ধকার ঘরেই আড়ষ্ট করে রেখেছে। বক্স অফিসে অভিষেকের জন্য আলোর কক্ষ নেই। তা হতে না পারার একরকম বাঁধা যে তাঁর বাবা অমিতাভ বচ্চনই। যেখানে তাঁর বাবারও কিছু করার নেই। কিন্তু বাবা তাঁকে বিয়ে করিয়েছেন সাবেক বিশ্ব সুন্দরী ও অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়ার সাথে। অবশ্য এই বিয়ের আগে অভিষেকের বিয়েতো হবার কথা ছিল বলিউডের প্রভাবশালী খানদান কাপুর পরিবারের কন্যা কারিশমা কাপুরের সাথে। কিন্তু এই বিয়েটা কেন হয়েছিল না? যা আজো রহস্যের মধ্যেই রয়েছে।
প্রেম থেকে এক্কেবারে বিয়ে ! হ্যাঁ, সব প্রস্তুতি চলছে। হঠাতই বিয়েটা ভেঙ্গে গেলো। কারিশমাও মুখ খুললেন না, না খুললেন অভিষেক বচ্চন। শুধুমাত্র অমিতাভ বচ্চন সেই বিয়ে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, না হচ্ছে না। কিন্তু কেন ? এই কেন’র উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হিন্দি ফিল্মের দর্শকেরা একটি ছবির ট্রেইলার দেখলো। তাতে দেখা যাচ্ছিল, বাপ অমিতাভ আর পুত্র অভিষেক বচ্চন ওই ছবির আইটেম গানে কাম দৃষ্টিতে নাচছেন ঐশ্বরিয়ার সাথে ! পিতা ও পুত্র কতটা নগ্ন মানসিকতার না হলে একসাথে একটি নায়িকার সাথে অমন করে নাচতে পারেন, শরীর দেখতে পারেন, নায়িকার বক্ষের দিকে দৃষ্টি রেখে অমিতাভ বচ্চন অভিনয়কে কতটা বাণিজ্যিক আদলে খুঁজেন তা চিন্তা করলেও সামাজিক সাংস্কৃতিক শিষ্টাচারের রক্ত ক্ষরন হয় তা তিনি হয়তো ভেবেও দেখেন নি। কিন্তু ওই গান, ওই সিনেমা মুক্তির কয়েকদিন পরেই বলিউড পাড়ার নতুন খবর এলো। হ্যাঁ, বিয়ে হতে যাচ্ছে অভিষেক বচ্চনের সাথে ঐশ্বরিয়ার !
বিয়েও হলো। কোলজুড়ে অভিষেক দম্পতির সন্তান এলো। হালের খবর পুত্রবধুর সাথে রানবীর কাপুরের মুক্তি প্রতীক্ষিত এক সিনেমার ট্রেইলার দেখে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অমিতাভ বচ্চন। তিনি বলছেন, খুব বাড়াবাড়ি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে, যা বচ্চন পরিবারের সম্মান কে ক্ষুন্ন করে। অথচ, এই সেই অমিতাভ বচ্চন -যিনি তাঁর পুত্রের বউকে যেভাবে যত্রতত্র জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন, শরীরের স্পর্শ কাতর জায়গার দিকে দৃষ্টি দেন সেখানে অমিতাভ বচ্চনের সম্মান কোথায় থাকে? এই সেদিন এক সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রকাশ্যে ঐশ্বরিয়ার ঠোঁট ও মুখে তিনি চুম্বন করলেন তাতে করে সমালোচকেরা বসে থাকেন নি। ওই দৃশ্যকে ইউটিউবে আপলোড করে ছেড়ে দেয়া হলো। সবচেয়ে বড় আলোচনা হল, স্বামী অভিষেক বচ্চন তাঁর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে মুখ খুলতে পারেন, স্ত্রীকে এমন চরিত্রে অভিনয় না করার আহবান করতে পারেন নীরবে- কিন্তু অমিতাভের সমস্যা কি ? যেদিন অভিষেক ঐশ্বরিয়ার সন্তান আসবে জানা যায়- তখন টুইটার সহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে অমিতাভ যেভাবে স্ট্যাটাস দিচ্ছিলেন, হাসপাতালের বেডে পুত্রবধুর পাশে ছিলেন, সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর অমিতাভের অতি ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ঠিক সে কারণেই কথিত আছে, অমিতাভ স্ত্রী জয়ার সাথে ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক ভাল না। কেন ভাল না? জয়া ভাদুড়ী কেন উচ্চবাচ্চ্য করেন না , কেন তাঁর মাঝে তাঁর পুত্রবধূ বা তাঁর নাতিদের ব্যাপারে উচ্ছ্বাস নেই? জয়া ভাদুড়ীর যে পরিচ্ছন্ন ইমেজ, তাঁর যে খানদান- সেটাকে অতিক্রম করা কি আজো সম্ভব হয়েছে অমিতাভ বচ্চনের ? তাহলে ঐশ্বরিয়া ইস্যুতে শুধু অমিতাভ বচ্চন কেন কথা বলেন?
এদিকে ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে খুব সুখে আছেন অভিষেক বচ্চন তা কি আর বলার সুযোগ আছে? নেই। প্রায় তাই সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অভিষেক ঘৃণার দৃষ্টিতে ঐশ্বরিয়াকে দেখেন। হাত ধরেন না। কথা বলেন না। স্ত্রী তাঁর পাশে ফটো সেশনের কথা বললে এড়িয়ে যান। অথচ সামাজিক এই সকল অনুষ্ঠানে শ্বশুর অমিতাভ কে নিয়ে তাঁর ঢলাঢলি দেখা যায়। একে অপরকে চুম্বন করেন। সে সময় ঐশ্বরিয়ার এক্সপ্রেশনেও একটা সামাজিক অপরাধীর ছায়া পড়ে। অমিতাভের মধ্যে খুব পড়ে না, দারুণ এক অভিনেতা যে তিনি !
অভিষেক বচ্চন, বাবার ক্যারিয়ারের মতো ওই রকম কিছুকে অতিক্রম করা জীবদ্দশায় সম্ভব না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। যদি বাবা ফিল্ম ছাড়েন কিংবা যখন আর পৃথিবীতে থাকবেন না তখন অভিষেক নতুন এক দ্যুতিতে আবারো বলিউডের সুপার অভিনেতা হতেও পারেন। কিন্তু পারিবারিক জীবন ও তাঁর সাংস্কৃতিক জীবন সুখের মধ্যে নেই। হয়তো এখানেও তাঁর মায়ের মতোই ভুমিকা পালন করতে হচ্ছে। হ্যাঁ, সেই নীরবতা, মৌনতা। জয়া মুখবুজে সহ্য করার নজীর রাখার চরিত্র যে ! তিনি যখন দ্যাখেন, তাঁর এই বিশ্বখ্যাত স্বামী পারভীন ববি থেকে শুরু করে রেখা হয়ে প্রয়াত অষ্টাদশী জিয়া খানকেও বিছানায় নিয়ে গেছেন- সেখানেও যদি নীরব থাকতে পারি আর কত দিনই বা পৃথিবীতে বাঁচবো ? জয়া বচ্চন হয়ে নয়, জয়া ভাদুড়ি হয়ে তিনি যদি তাঁর একটা আত্মজীবনী লিখে যান তবে একটা সামাজিক সুরাহা হলেও হতে পারে। কিন্তু তিনি কি তা করবেন? নাকি বারটান্ড রাসেলদের তত্বের সুত্রিতায় থেকে নীরবতায় সুখ খুঁজবেন ? এই সুখে যে মানুষ নন্দিত করে রাখে তাঁর পরিবারকে ! নিন্দিত হবার সুযোগ কে দিতে চায়? কিন্তু অভিষেক! তাঁর তো বয়স পড়ে আছে। আদিত্য পাঞ্চোলিদের চরিত্রহীনতার খবর চাপা থাকে না। কিন্তু অমিতাভ যে অনেক বড়, অ-নে-ক বড় । ক্ষমতাবান, অনেক প্রভাবশালী চরিত্র। সে কারণেই তো বিশ্ব সুন্দরীরা ওই ঘরে ঢুকতে চায়। ঢুকেছেও- কিন্তু এক নিষিদ্ধ সুগন্ধীর বাতাসে অভিষেকের জীবনটা যেন এলেমেলো না হয়ে যায় !

No comments:
Post a Comment