“সারা বাংলায় আজ বারুদের গন্ধ। বাংলা রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছে। মাত্র ৬৬ শতাংশ আসনে পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। এই প্রথম বাংলাতে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন হল না। এই ব্যর্থতা রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।” আজ একথা বলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের কয়েকঘণ্টা আগে রবিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেন মুকুল রায়। সেখানে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “নির্বাচন শেষ না হওয়া অবধি যতক্ষণ আপনার গায়ে শেষ রক্তবিন্দু আছে ততক্ষণ অবধি বুথ কামড়ে পড়ে থাকুন।”
মুকুল রায় বলেন, ‘বাংলা রক্তাক্ত। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩ এপ্রিল থেকে আজ অবধি সব রাজনৈতিক দলের মৃত কর্মীদের মিলিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই সরকার বারবার দাবি করে তারা নাকি সংখ্যালঘু দরদি। কিন্তু, এই তালিকাতেই উঠে এসেছে এখনও পর্যন্ত ২২ জন সংখ্যালঘু মারা গিয়েছেন।”
তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শুক্রবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবিষয়ে আজ মুকুল রায় বলেন, “উনি প্রথম এমন দাবি করেছিলেন ১৯৯০ সালের ১৬ অগাস্ট। সব মিলিয়ে প্রায় ৯-১০ বার এই দাবি তিনি তুলেছেন। উনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ওনার সরকার যদি মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে আর কী করা যাবে! ওনাকে খুন করতে কে সুপারি দিয়েছে? তার একটা তদন্ত হওয়া দরকার। আমি মনে করি, উনি পছন্দ করুন কাকে দিয়ে এই তদন্ত করাতে চান। এই রাজ্য বাদ দিয়ে যে কোনও রাজ্যের যেকোনও তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে এই তদন্ত করা হোক। কারণ, কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে তদন্তে ওনার আপত্তি থাকবে। তবে এটার একটা তদন্ত করা দরকার। ওনাকে কে বা কারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে? ঘটনাটি যদি সত্যি হয় তাহলে ওনার নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মুকুলবাবু বলেন, “নন্দীগ্রামে আপনারা চটি পরা পুলিশ দেখেছেন। চটি পরা না হোক, পোশাক পরা নতুন নতুন অফিসার দেখা যাবে এবার। এখন সব পুলিশ সুপারের অফিসে এদের রাখা হয়েছে। পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তৃণমূল ক্যাডারদের নতুন পোশাক পরিয়ে সিভিক ভলান্টিয়ার করে নির্বাচনে বের করতে। এই রকম অবস্থায় একটা নির্বাচন চলছে।”

No comments:
Post a Comment