মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক ও ঋতুস্রাব হলে কি কি করবেন? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 2 May 2018

মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক ও ঋতুস্রাব হলে কি কি করবেন?





বয়স ৪৫ বা ৫০ বছর পেরোনোর আগে হঠাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে যেকোনো নারীর দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক। নিয়মের এই ব্যত্যয় পরিবারে একটি নতুন শিশুর আগমনের সুসংবাদের পরিবর্তে কোনো রোগের লক্ষণ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

১২-১৩ বছর বয়স থেকে ৪৫-৫০ বছর অবধি একজন নারীর প্রজননকাল। অর্থাৎ সন্তান ধারণের জন্য তাঁর শরীরে এই সময়ে প্রতি মাসে ডিম্বাণু তৈরি হয়। শুক্রাণুর সংস্পর্শে সেই ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে সেটা মাসিক রক্তস্রাবের মাধ্যমে নারীর শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু নানা কারণে এই নিয়মে ছন্দপতন ঘটতে পারে, যেমন অনিয়মিতভাবে ব্যাপারটা ঘটতে পারে বা অনেক সময় মাসের পর মাস পুরোপুরি মাসিক বন্ধ থাকতে পারে।

হঠাৎ মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গর্ভে সন্তান এসেছে কি না বা এসে থাকলে ভ্রূণ অবস্থায় সে জরায়ুর সঠিক স্থানে আছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। কোনোভাবে জরায়ুর বাইরে ডিম্বনালি বা অন্য কোনো স্থানে ভ্রূণটি অবস্থান করলে ভ্রূণ থেকে পূর্ণাঙ্গ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়, কখনো কখনো ভ্রূণটি বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মায়ের জীবননাশী জটিলতা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। জটিলতা এড়াতে তাই আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে ডিম্বাশয়ের ত্রুটি বা সিস্ট, হরমোনের তারতম্যজনিত সমস্যা, অপুষ্টি। অপুষ্টির মানে কেবল ভগ্নস্বাস্থ্য নয়, শারীরিক স্থূলতা বা অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়াও অপুষ্টির লক্ষণ। কখনো কখনো সন্তান প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হরমোন তৈরির প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে, মাসিকও বন্ধ হয়ে যায়। এ সমস্যার নেপথ্যে মস্তিষ্কের টিউমার, মানসিক রোগ বা নেশাদ্রব্য সেবনও থাকতে পারে। অনেক সময় এমআর করানোর পরে জরায়ুর গঠন পরিবর্তিত হয়ে গেলেও এমন সমস্যা হতে পারে।

আগে যাঁর নিয়মিত মাসিক হয়েছে, তাঁর মাসিক হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। গর্ভবতী না হওয়া সত্ত্বেও যদি বুকের দুধ তৈরি হয়, অতিরিক্ত মাথাব্যথা করে, দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, শরীরে ছেলেদের মতো অতিরিক্ত লোম গজায়, আকস্মিক মাথা গরম এবং শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হয়, রাতে ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম হয়, অনিদ্রা ও মানসিক অস্থিরতা, যোনিপথে শুষ্কতা—ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়, তবে সেগুলোকে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপসর্গ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

চিকিৎসা কী?

রোগের কারণ নির্ণয় করার পর সঠিক চিকিৎসা নিলে আবার নিয়মিত মাসিক শুরু হবে, যদি ডিম্বাশয়, জরায়ু বা পিটুইটারি গ্রন্থিতে গঠনগত কোনো সমস্যা না থাকে। পরবর্তী সময়ে মা হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কোনো বাধা নয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad