অনেকদিন ধরেই মনটা কেমন উড়ু উড়ু। ব্যাগপত্র গুটিয়ে বেরিয়ে পড়লে মন্দ হয় না। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায়? গত কয়েকবছরে দেশের অনেকপ্রান্তেই ঢুঁ মারা হয়েছে। এবার যদি একটু বিদেশে পাড়ি দেওয়া যায়! সময় মাত্র সাতদিন। হাতের কাছে বিদেশ বলতে বাঙালির অপশন থাইল্যান্ড, মালেশিয়া বা ব্যাঙ্কক। গতে বাঁধা ডেস্টিনেশন ছেড়ে আপনি একটু অন্যদিকে যেতে পারেন। ঘুরে আসুন বালি।
ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম আকর্ষণ বালি। আয়তনে নেহাত ছোটো নয় এই দ্বীপ। ইদানীংকালে ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় বেশ ওপরের দিকে রয়েছে। খরচও খুব বেশি নয়। আবার অল্প সময়ে বিদেশ ভ্রমণের জন্য বেশ পপুলার ডেস্টিনেশন। সমুদ্র সৈকত হলেও বালির আবহাওয়া মনোরম। ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করে তাপমাত্রা। মূলত ট্রপিকাল মনসুন এখানকার আবহাওয়া। একটু বর্ষা ঘেঁষা। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে থাকে। বেড়ানোর জন্য ভালো সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর। এসময় বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। দিনের বেলায় গরমভাব থাকলেও, সন্ধেগুলো মনোরম।
আমাদের দেশের গোয়ার মতো বালিরও একটা অন্যতম আকর্ষণ এখানকার বিচলাইফ। বালির সমুদ্র সৈকতে নাইটলাইফ উপভোগ করার মতো। সন্ধের হালকা ঠান্ডা আবহাওয়ায় সি বিচ আপনার মেজাজকে ফুরফুরে করে দেবে। আর হাতে সুরাপাত্র রাখতে চাইলে অবশ্যই ট্রাই করুন ককটেল। বালির সি-সাইড পাব বা ক্লাবগুলোর ককটেলের বেশ নামডাক আছে। বালি মানে শুধুই সমুদ্র নয়। এখানে পাহাড়ের দেখাও পাবেন। দ্বীপটার একটু ওপরের দিকে গেলে, জিমবারানের দক্ষিণে কিংবা উবুদে সারাবছর বেশ একটা কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ থাকে। বেদুগুল বা কিন্তামণির দিকে উঠলে সন্ধের দিকে রীতিমতো সোয়েটার চড়াতে হবে গায়ে।
পাহাডের চূড়া হোক বা সি বিচ, বালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার মন ভরিয়ে দেবে। তাই সপ্তাহখানেকের ছুটিতে চোখ জোড়ালেও মন ভরবে না। কিন্তু রোজকার ব্যস্ততার থেকে একটু সময় বের করে নিতে পারলে এটাই বা কম কিসের। তবে ঝটিকা সফরে বালি উপভোগ করতে হলে কয়েকটা জিনিস একদম মিস করা চলবে না।
সমুদ্রের মাঝের তানাহ লট টেম্পলসি টেম্পলগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় উলুওটা টেম্পলবালির অন্যতম মন্দির বেসাকিহ টেম্পলউবুদ মাঙ্কি ফরেস্টকেনাকাটা করতে হলে চলে যেতে পারে উবুদ আর্ট মার্কেটেদ্বীপের দেশে পাহাড়ের দেখা পেতে অবশ্যই ঘুরে আসুন কিন্তামণি এবং মাউন্ট বাতুরবালির সবথেকে বড় প্রাণী থিম পার্ক বালি সাফারি অ্যান্ড মেরিন পার্কবালির স্থাপত্যের নিদর্শন দেখতে হলে একদিন লিস্টে রাখুন গোয়া গাজা কেভ। একে এলিফ্যান্ড কেভও বলা হয়বালিতে বেশকিছু মিউজ়িয়াম আছে। সময় করে দেখে নিতে পারেনআর একদম ভুলবেন না সি ডাইভিং। বালির সমুদ্রে অন্যতম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাসাহস করে ঘুরে দেখতে পারেন সমুদ্রের নিচের গুহাগুলোও। কেভিং বালির আরও একটা আকর্ষণ
কীভাবে যাবেন : যেকোনও মেট্রো সিটি থেকে পাওয়া যাবে বালির ফ্লাইট। বালির অন্যতম বিমানবন্দর দেনপাসারের পৌঁছাতে সময় লাগবে ৯ ঘণ্টার একটু বেশি।
কোথায় থাকবেন : বালিতে থাকার জন্য অবশ্যই বেছে নিন কোনও বিচ রিসর্ট।



No comments:
Post a Comment