পরকীয়া সমাজের একটা কলঙ্ক। এর কারণে দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার ভাঙ্গার নজির আছে ভুড়ি ভুড়ি। কিন্তু, পরকীয়ায় কেন জড়ায় স্বামী-স্ত্রীরা? রয়েছে কিছু কারণ- যার সবগুলোর শুরুতেই আছে সন্দেহ। সন্দেহটাই দানা বাঁধতে বাঁধতে একসময় পরকীয়ায় রূপ নেয়।
কম বয়সী স্ত্রী, স্বামী বড় চাকরি করে, তাই বাসায় একাই থাকেন। একদিন হঠাৎ করে স্বামীর মোবাইল ফোনে তাঁর অফিসের সহকর্মীর একটি খুদে বার্তা (এসএমএস) দেখতে পান। সেখানে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা লেখা আছে। বিষয়টি স্বামীর কাছে জানতে চাইলে প্রথম দিকে অস্বীকার করলেও পরে ঘটনাটি স্বীকার করে নেন।
জানান, একটি মেয়ের সঙ্গে বছর দুয়েক ধরে সম্পর্ক চলছে তাঁর। রিনা যেন আকাশ থেকে পড়েন। দম আটকে আসতে চায়। ভেতরটা যেন ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভেবে কূল পান না, কী করবেন? স্বামীকে ছেড়ে চলে যাবেন, নাকি এত দিনের সংসার টিকিয়ে রাখতে মেনে নেবেন সবকিছু?
২৮ বছর বয়সী গৃহিনী, দেহে যার ভরা যৌবন। ঘরে একটি সন্তান। স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই পাঁচ বছর ধরে। শুরু থেকেই স্বামী একটু কেয়ারলেস ছিলেন। বহু চেষ্টার পরও স্বামী কোথায় আছেন, সেটি জানতে পারেন না তিনি। জীবনযুদ্ধের এ লড়াইয়ে একপর্যায়ে তাঁর জীবনে আসেন আলম (ছদ্মনাম)।
আলম বিবাহিত মধ্যবয়স্ক পুরুষ। আলমের কথা বলার ধরন, মানসিকভাবে সহযোগিতা করতে চাওয়ার কিছু বিষয় তাহমিনাকে এতটাই মুগ্ধ করে যে তিনিও তাঁর প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করতে থাকেন। অনেক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর একসময় তাহমিনা চান আলমকে বিয়ে করতে।
কিন্তু আলম তাঁর পজিশন আর স্ট্যাটাস থেকে সরে আসতে চান না। ভয় পেয়ে সরে যান তাহমিনার কাছ থেকে। তীব্র যন্ত্রণা আর অপমান নিয়ে তাহমিনা সরে আসেন আলমের কাছ থেকে। আলমকে তিনি ভালোবেসেছিলেন, আশ্রয় ভেবেছিলেন। ঘটনাটি সহ্য করা তাঁর জন্য এতটাই কষ্ট আর যন্ত্রণার হয়ে ওঠে যে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সমাজে এ রকম অমীমাংসিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কেউ কেউ। খুব তীব্র হয়ে গেলে এটি কষ্ট বাড়ায়, ভীষণভাবে চাপ ফেলে মনের ওপর। যদিও স্বেচ্ছায় দুজন নর-নারী এমন সম্পর্কে জড়ান, তারপরও সমাজে এটি পরিচিত পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নামে। কারণ, সমাজে এমন সম্পর্ক রীতিসম্মত নয়। তাই মেনে নেওয়া হয় না।
মানুষ পরকীয়ায় কেন জড়ায়
মনোদৈহিক ও সামাজিক কারণে মানুষ পরকীয়ায় জড়ায়। প্রথমে আসে দৈহিক বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কে অতৃপ্তি থেকে অনেকে এ সম্পর্কে জড়ায়। সেক্স মানুষের একটি শরীরবৃত্তীয় চাহিদা। যদি স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবন দুর্বল হয়, তাহলে অপর ব্যক্তির প্রতি আসক্তি তৈরি হতে পারে।
কারো মধ্যে যদি ডিআরডিফোর জিনের উপস্থিতি বেশি হয়, তাঁদেরও পরকীয়া বা বাড়তি সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা থাকতে পারে। অনেক সময় মানসিক সমস্যার কারণেও মানুষ পরকীয়ায় জড়াতে পারে। যাঁদের মধ্যে বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার আছে, তাঁদের পরকীয়ার সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। তাঁরা কোনো কিছুর মধ্যে স্থিরতা খুঁজে পায় না।
সঙ্গীর উদাসীনতা ও দূরত্বের কারণেও অনেক সময় মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী বাস্তবতার কারণে, কাজের কারণে হয়তো দূরে চলে যায়। তখন তাঁদের মধ্যে পরকীয়ার আগ্রহ বাড়ে। অনেক সময় পশ্চিমা সংস্কৃতির ধাঁচ নিজেদের মধ্যে আনতে চায়, তখন পরকীয়া বাড়ে। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব, দূরত্ব ইত্যাদির জন্যও অন্যের প্রতি আগ্রহ, আসক্তির ঘটনা ঘটে।

No comments:
Post a Comment