১৭ বছরের চাকরী জীবনে ১৪ বার বদলি। কি ভাবছেন কোন রাউডি পুলিশ অফিসার না একেবারে না। ইনি একজন রাজ্য সরকারের রিলিফ ডিপার্টমেন্টের কর্মী। নাম অরুনাভ ব্যানার্জী(৪২)। বাড়ি চুঁচুড়া থানার ওলাইচণ্ডীতলায়। রাজ্য সরকারের এই চাকরির প্রতি বিতশ্রদ্ধ অরুনাভবাবু।
তার অভিযোগ হুগলি জেলা শাসক দপ্তরের স্টেবলিশমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অফিসার জনৈক বিজন দত্তের অঙ্গুলীহিলনেই তিনি বছরের পর বছর এরকম অনৈতিক কার্যকলাপের শিকার। বাধ্য হয়ে তিনি হুগলীর জেলা শাসককে স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন জানালেন। অরুনাভবাবু বর্তমানে আরামবাগের গোঘাট-২ ব্লকে কর্মরত। তার বক্তব্য বাড়িতে রয়েছেন অসুস্থ মা এবং স্বামীহীন দিদি ও প্রতিবন্ধী ভাগ্নে। এর আগেও আমি আরামবাগ মহকুমায় ছিলাম। কিন্তু এখন আর পারছি না। প্রতিদিন প্রায় ৭ ঘন্টা যাতায়াত। পুরো সংসারের দ্বায়িত্ব অরুনাভ বাবুর হাতে। পরিবারের পাশে থাকতে গিয়ে এখনও অবিবাহিত রয়েছেন তিনি। তিনি বলেন চাকুরিটুকুই আমার একমাত্র সম্বল। সরকারী এই চাকুরীর প্রতি ভরসা করেই মায়ের ঔষধ থেকে শুরু করে দিদি-ভাগ্নাকে নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু চাকুরীজীবনে এত মানষিক অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছি না। আমার হয়ে একবার চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের BDO জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছিলেন কিন্তু তাতেও আমার অনবরত বদলি হওয়া অাটকায়নি। আমি আমার দিদি এবিষয়ে বারংবার নবান্ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। আমি জানি বিজনবাবুদের মত অফিসারদের অনৈতিক কাজ আমি সমর্থন করিনা বলেই আমাকে এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বিষয়টি আমি জানিয়েছি। কিন্তু কোন প্রতুত্তর না মেলায় আমি বাধ্য হয়েই জেলাশাসককে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছি। অন্যদিকে এবিষয়ে অরুনাভ বাবুর দিদিও বলেন আমার ভাইয়ের প্রতি বছরের পর বছর অন্যায় হচ্ছে ও বাধ্য হয়েই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছে।

No comments:
Post a Comment