নারীর চরম আনন্দ কিসে!? সাবধান কাউকে বলবেন না - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 27 May 2018

নারীর চরম আনন্দ কিসে!? সাবধান কাউকে বলবেন না




সুপ্রাচীনকাল থেকে মানুষ বিশ্বাস করে আসছে, রতিকৌশলের সঙ্গে সঙ্গমে আনন্দলাভের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ রয়েছে। প্রাচীন কামসাহিত্যে তো বটেই, আধুনিক যৌনবিজ্ঞানের বইগুলোতে পর্যন্ত এই বিষয় নিয়ে রীতিমত আলোচনা করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সঙ্গমে নারী থাকে নিষ্ক্রিয়—কাজেই তাঁকে উদ্দীপিত এবং তৃপ্ত করার কৌশলগুলো পুরুষকেই খুঁজে বের করতে হবে। সেজন্য দেহমিলনকালে একদিকে যেমন নারীদেহে বিবিধ শৃঙ্গার প্রয়োগের উপর জোর দেওয়া হয়ছে, ঠিক তেমনি বহুকাল যাবত সাধারণ মানুষ করে এসেছে, মিলনের সময় বুদ্ধি দ্বারা নারীকে চরমানন্দ দান করা সম্ভব। এইভাবে সে বিশ্বাস করেছে, লিঙ্গ যত বৃহদাকৃতির হবে, নারী তত বেশি তৃপ্তি পাবে। এগুলির বিশদ আলোচনাই হবে এই প্রবন্ধের লক্ষ্য।

সঙ্গম নয়, শৃঙ্গারের প্রতি কোন কোন নারীর অস্বাভাবিক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। বাস্তবিকপক্ষে, কেবল শৃঙ্গার প্রয়োগের দ্বারাই এদের চরমানন্দ দান সম্ভব। সঙ্গমটা এদের কাছে গৌণ, মুখ্য হল শৃঙ্গার। নীচের এই চিঠিটা ব্যাপারটা বুঝতে সাহায্য করবেঃ

আমার স্ত্রীর বয়স ৩১, এম. এ. পাশ। স্বাস্থ্য মোটামুটি খারাপ নয়। উচ্চতা ৫ ফুট। লক্ষ্য করলে বেশ বোঝা যায় যে, তাঁর কোমর থেকে নীচে অবধি যতটা পুষ্ট ও সুন্দর, উপরাংশ তেমন নয়। বিশেষ করে তাঁর স্তনদুটি অনুন্নত, হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়। তিনি ৩০ মাপের ব্রেসিয়ার পরিধান করেন। স্তনদুটি অনুন্নত হওয়ায় তাঁর মনে একটা আক্ষেপ আছে, আর আমারও ইচ্ছা হয় যদি কোনভাবে তাঁর স্তনদুটি উন্নত হয়!

“আমাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর। কোন সন্তান এখনও হয়নি। একটা কথা, সতীচ্ছদ ছিন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় চার মাস । এখন অবশ্য কোন অসুবিধে হয় না। আমরা সাধারণত প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে নানা প্রকার শৃঙ্গারক্রিয়ার পর সঙ্গমে রত হই। সপ্তাহে ২/১ বারের বেশী সঙ্গম করি না।…তাছাড়া, স্ত্রী সঙ্গমের ব্যাপারে একেবারে আগ্রহশীলা নন, তবে তিনি অন্য ক্রিয়াগুলি খুব আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেন, আর আমাকে দিয়ে বারবার করান, নিজেও করে থাকেন।”

সন্দেহ নেই, কি নারী, কি পুরুষ উভয়েরই পুলকানুভুতি বহুলাংশে মানসিক গঠনভঙ্গীর উপরে নির্ভরশীল। ছেলেবেলা থেকে এক একজন গড়ে ওঠেন এক এক রকম পরিবেশে। বাল্যকালের এই পরিমন্ডলের প্রভাব পরবর্তী কালে পড়ে। প্রবন্ধটির প্রথমেই তাই উল্লেখ করে দেওয়া ভাল, কিভাবে একজন নারী চরমপুলক লাভ করবেন, সে বিষয়ে কোন নিয়ম বেঁধে দেওয়া মুসকিল।

যে সব কৌশল অবলম্বন করলে অধিকাংশ নারীর রতিতৃপ্তিলাভ সহজসাধ্য হয়, সেগুলি নিয়েই আমরা এখন একে একে আলোচনা করব।

(ক) স্তনদ্বয়ে শৃঙ্গার প্রয়োগের দ্বারা।

নারীর স্তন একদিকে যেমন তাঁর সন্তানের বাঁচার অপরিহার্য উপাদান,দুগ্ধক্ষরণের উতস,ঠিক তেমনি, তাঁর দেহ সৌন্দর্য বর্ধনেরও সহায়ক। পীনপয়োধরা নারী যে কোন পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণে তহা বিভ্রম ঘটাতে সক্ষম।

অসংখ্য অনুভূতিপ্রবণ স্নায়ুপ্রান্ত এসে স্তনবৃন্তে মিশেছে। তাই এখানে শৃঙ্গার প্রয়োগের ফলে নারী সহজেই উত্তেজিতা হয়। এমন কি, কেবল মাত্র বক্ষপ্রচাপন বা বক্ষঘর্ষণের দ্বারাও নারীর পক্ষে যৌনতৃপ্তিলাভ সম্ভব বলে ডিকিনসন, গ্রাফেনবার্গ প্রভৃতি যৌনবিজ্ঞানীরা মন্তব্য করেছেন। বহু যুবতী এবং বালিকাকে ছাদে কিংবা বারান্দায় দাঁড়াবার সময়ে বুক চেপে দাঁড়াতে দেখা যায়। এতেও নারী একধরণের স্পর্শসুখ অনুভব করে। কিনসে সমীক্ষায়ও প্রকাশ পেয়েছে, সঙ্গমকালে বা সমকামাত্মক কার্যাদিতে অংশগ্রহণের সময় নারীরা বক্ষমর্দন তো পছন্দ করেই, এমন কি আত্মরতিকালেও অনেক নারী নিজেই নিজের স্তন মর্দন করে। কিনসের পরীক্ষিত নারীদের মধ্যে অন্তত শতকরা ১১ জন এভাবে চরমানন্দ উপভোগ করেছে।

প্রাচীন ভারতীয় কামশাস্ত্রকাররা দেহমিলনকালে নারীর স্তনে চুম্বন, লেহন, নখাঘাত, দংশন ও মর্দন প্রয়োগ করার কথা বলেছেন। বাৎস্যায়ন তাঁর ‘কামশাস্ত্রে’ স্তনদ্বয়ে একটি বিশেষ দশনচ্ছেদ্য এবং নখাঘাত প্রয়োগ করতে বলেছেন। নায়ক নায়িকার স্তনপৃষ্ঠ থেকে খানিকটা চামড়া দাঁতের মাঝখানে চেপে ধরে কিছু সময় চর্বণ করবে। তারপর সেই অংশটুকু ছেড়ে আরো খানিকটা অংশ অনুরূপভাবে চর্বণ করবে। এতে স্ত্রীর স্তনগাত্রে কয়েকটা দীর্ঘ অভগ্ন রেখা উৎপন্ন হবে। বরাহের মতো স্তনমাংস চর্বণ করা হয় বলে এর নাম বরাহচর্বিতক। এর ফলে দুদিকে পড়ে দাঁতের দাগ, আর মাঝখানটা হয়ে ওঠে লাল। বাৎস্যায়ন বলেছেন, কামোত্তেজনা চরম শিখরে উঠছে কিংবা দীর্ঘ প্রবাসযাত্রার প্রাক্কালে স্বামী স্মারকচিহ্ন হিসেবে স্ত্রীর স্তনপৃষ্ঠে এই দশনচ্ছেদ্য প্রয়োগ করবে। (সাম্প্রয়োগিকাধিকরণম পঞ্চম অধ্যায়, সপ্তদশ শ্লোক)। আবার নায়ক নায়িকার স্তনের উপরে পরস্পরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবশায় রাখবে। তারপর সেই ঘনবিন্যস্ত নকগুলোকে স্তনচূড়ার দিকে টেনে আনবে। এর ফলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় তা অনেকটা ময়ূরের পায়ের মতো দেখতে—তাই এর নাম ময়ূরপদক । (সাম্প্রয়োগিকাধিকরণম পঞ্চম অধ্যায় উনবিংশ শ্লোক)।

স্তনদ্বয়ে শৃঙ্গার প্রয়োগের গলে সব নারীই উত্তেজিতা হয়ে পড়ে,এমন ধারণা কিন্তু ভুল। ব্যক্তিভেদে রুচিভেদে ঘটে—এ কথাটা এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে, কিনসের মতে, অন্তর শতকরা ৫০ জন নারী এতে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। কারোর কারোর ক্ষেত্রে এই অনুভূতিপ্রবণতা এত বেশী যে, সামান্য স্পর্শেই তাঁর কামনা জেগে ওঠে।

‘Married Love’ গ্রন্থে শ্রীমতী মেরি ষ্টোপস একটি বিচিত্র ঘটনার উল্লেখ করেছেন। এক ভদ্রমহিলাকে তাঁর স্বামী ভীষণ ভালবাসতেন। প্রতিদিন বেরোবার সময় এবং বাড়িতে ফেরার সময় স্ত্রীকে চুম্বন দিতেন, অথচ তা সত্বেও মহিলাটি বিন্দুমাত্র উত্তেজনা অনুভব করতেন না। মহিলাটির স্বামী কেবল গাল ছাড়া অন্যত্র কোনদিন চুম্বন করেননি। একদিন হঠাৎ স্বামীর ওষ্ঠদ্বয় মহিলাটির স্তনে লাগতেই স্ত্রীর কামনা-নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ হলো, সারা শরীরে তিনি অব্যক্ত এক পুলক পুলকানুভুতি অনুভব করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বামীর মুখ নিজের স্তনে চেপে ধরেন, স্বামীও স্ত্রীর স্তনে চুম্বন করেন। জীবনে মহিলাটি সেই সর্বপ্রথম প্রকৃত যৌনানন্দ অনুভব করেন।

এ ধরনের উদাহরণ আরও আছে। শ্রীআবুল হাসানাৎ-এর কাছে এক ডাক্তার বন্ধু লিখেছেনঃ রতিক্রিয়ার নারীর স্তনের উপযোগিতা সম্বন্ধে আপনি ডাঃ ভেলডির যে মত উদ্ধত করিয়াছেন তাহা অতীব সত্য। ভ্যান দি ভেলডি বলেছেনঃ women desire their breasts to be admired and fondled, and often seek such endearments or, suggest them, more or less clearly” (Ideal Marriage)। এ সম্বন্ধে দুইটি উদাহরণ দিতেছি। জনৈক নববিবাহিত যুবক তাহার স্ত্রী রতিশীতল বলিয়া আমার নিকটে দুঃখ প্রকাশ করিয়াছিল। বহুক্ষণ নানাপ্রকার শৃঙ্গার প্রয়োগেও সে তাহার স্ত্রীকে উত্তেজিত করিতে পারিত না এবং তাহার স্ত্রী রতিক্রিয়ার প্রায় কোনই আনন্দ পাইত না। প্রশ্ন করিয়া জানিতে পারি যে স্ত্রীর স্তনে সে কোনদিন মুখপ্রয়োগ করে নাই। আমার পরামর্শ মতো শৃঙ্গারকালে স্ত্রীর স্তনবৃন্ত চুষিয়া সে আশ্চর্য ফল পাইয়াছিল। রতিক্রিয়ার পূর্বে ২/৩ মিনিট স্ত্রীর স্তনবৃন্ত চুষিলেই তাহার স্ত্রী উত্তেজিতা ও আঙ্গিক মিলনের জন্য আগ্রহশীলা হইয়া পড়িত এবং প্রতি সঙ্গমে এক বা একাধিকবার স্ত্রীর চরমপুলক লাভ অত্যন্ত সহজ ব্যাপার হইত। আর এক ভদ্রলোকের কথা জানি, তাঁহার স্ত্রী তীব্র রতিবাসনাসম্পন্না ছিলেন কিন্তু তিনি নিজে রুগ্ন বলিয়া স্ত্রীর ইচ্ছামতো সহবাসে অসমর্থন ছিলেন। ইহাদের দাম্পত্য জীবনে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য আসিয়াছিল সেইদিন হইতে যেদিন তিনি আবিস্কার করিলেন যে রতিক্রিয়া ব্যতীতও শুধু স্তন চুম্বন করিয়া ও চুষিয়াই তাঁহার স্ত্রীকে চরমপুলক দান সম্ভবপর!”

নারীর স্তনের অতিরিক্ত অনুভূতি প্রবণতা লক্ষ্য করেই বাৎস্যায়নের পূর্ববর্তী কামশাস্ত্রকার সুবর্ণনাভ এক বিশেষ ধরণের ‘একাঙ্গ আলিঙ্গনের’ কথা লিপিবদ্ধ করেছেন। “এরূপ আলিঙ্গনের পূর্বে নায়ক-নায়িকা মুখোমুখি বসে অথবা পাশাপাশি শয়ণ করে অথবা নায়ক চিৎ হইয়া শয়ন করে এবং নায়িকা তাঁহার বুকের উপর উঠে এবং নিজের দেহের সমস্ত ভার নায়কের দেহে রাখিয়া স্তনদ্বয় দ্বারা এমন জোরে চাপ দেয় যে তাহা নায়কের মর্মস্থলে পৌঁছায় এবং স্তনদ্বয়ের স্পর্শে পুলকানুভব করে।”



(খ) ভেসটিবিউল ঘর্ষণের দ্বারা।

ভেসটিবিউলের প্রকৃত অবস্থান হল ভগোষ্ঠদ্বয়ের ফাঁকের মধ্যে। এর উপরে রয়েছে ভগাস্কুর, দুপাশে ক্ষুদ্রদ্রোষ্ঠদ্বয় এবং নীচের দিকে থাকে যোনিমুখ। এর মাঝামাঝি জায়গাতে থাকে মূত্রছিত্রটি।

নারীর ভেসটিবিউল অত্যন্ত অনুভূতিপ্রবণ। কিনসে-গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, শতকরা প্রায় ৯৭ জন নারী এই অঞ্চলে স্পর্শ পেলে উত্তেজিতা হয়ে ওঠেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad