খোকাবাবু অর্থাৎ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে 'বিশ্ব বাংলার' মালিকের এলাকায় দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি দাপুটে রাজ্য নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই এলাকা খোকাবাবুর তাও যে তাঁর বিরুদ্ধে সাহস করে বিজেপির প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছেন, এই অনেক। সেইসব প্রার্থীদের বাহবা জানান জয়, পাশাপাশি তাদের সুকৌশলে, রক্তপাত না করে ভোটে জেতার আহ্বান জানান। জয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে ক্ষমতায় এলে ধর্ষণকারীরা, গুন্ডাবাহিনীদের বলব শুধরে যেতে নয়ত পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে। আর তা না শুনলে যোগীজির মতন এনকাউন্টার করে দেওয়া হবে। জয় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনও মহিলার ধর্ষণ হলে তাঁর চোখ থেকে জল পড়ে, সেই জায়গায় ছুটে যান। আর হিন্দু মহিলা ধর্ষণ হলে তিনি একবার খোঁজও নেননি। ফলে জয়ের মতে একটাও হিন্দু ভোট তাঁর দলে পড়া উচিত না কারণ মুখ্যমন্ত্রী ৯ কোটি মানুষের মুখ্যমন্ত্রী! তাহলে তাঁর মধ্যে এত দ্বিচারিতা কেন? প্রশ্ন ছুঁড়লেন জনসভায় থাকা জনগণের দিকে। জয় বলেন, এত গুলো বছর কংগ্রেস, সিপিএম, তৃনমূলদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে ফল বুঝতে পারছে সাধারণ মানুষ। তাই এবার একবার বিজেপিকে সুযোগ দেওয়া হোক। ১৪ মে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য এমনভাবেই ভোট প্রচার করলেন অভিনেতা তথা বিজেপির রাজ্য নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
জয় বলেন, পঞ্চায়েত ভোটের জন্য বিজেপি বেছে বেছে প্রার্থীদের নির্বাচন করেছে, যারা মানুষের ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসবে তারা একমাত্র মানুষের উপকার করবে। আর যদি না করে, কোনও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরেন তাহলে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন তিনি কথা দিচ্ছেন তাদের সেই স্থান থেকে তাকে কান ধরে বের করে দেবেন।যে প্রার্থী ভোটে জিতবেন, তারপর কাউন্সিলার হবেন, তারপর এমএলএ হবেন। তার উপায় একটাই সততা। চোখ বন্ধ করে মানুষের সেবা করে যেতে হবে, তাহলেই সেই পদ তারা পাবেন। কিন্ত কোনও কারণে তৃণমূলের মতন যদি নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাকে বিজেপিতে রাখা সম্ভব হবে না। এদিন ভোট প্রচারে এসে বিজেপি প্রার্থীদের কড়াভাবেই বিজেপির নিয়ম কানুন বুঝিয়ে দিলেন জয়।
বিজেপির ঝড়ে উড়ে যাবে তৃণমূল গ্যারান্টি বিজেপি নেতার।
জয় আরও বলেন, মোদীজির প্রকল্প যেমন শৌচালয়, গ্যাস, ঘর ইত্যাদি সব নিজের নামে চালিয়েছে তৃণমূল। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি পশ্চিমবঙ্গবাসীদের জন্য তা দুহাত তুলে দিয়েছিল, কিন্ত তা কেড়েছে শাসকদল। জয় বলেন, এইভাবে আর বেশীদিন চলতে পারে না। টিএমসি মানে তোলাবাজ, মাসোহারা, কাটমানি। তাদের এত পাপ যাবে কোথায়? যে তোলাবাজি দিতে পারবে, যে মাসোহারা দিতে পারবে, যে কাটমানি দিতে পারবে তাদের জন্য তৃণমূল, সাধারণ মানুষের জন্য তৃণমূল না।

No comments:
Post a Comment