চাঁদনী: জন্মদিনে এবারে বাবা কেক আনবে বলেছিল। ১৬ মে বুধবার অপরাজিতার জন্মদিন। ১৪ মে সোমবার ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচন। নির্বাচনের দিন জেলা জুড়ে সন্ত্রাস চালিয়েছে দুস্কৃতিরা। আর সেই সন্ত্রাসের বলি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম ২ নং ব্লকের গোপালপুরের অপু মান্না। পেশায় নির্মাণ কর্মী অপু ভিনরাজ্যে থাকে। গ্রামে ভোট তাই ছুটি নিয়ে সপ্তাহ খানেক আগে বাড়ি ফিরেছিল নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে বলে। বাড়ি আসার পর বড় মেয়ে অপরাজিতা বাবার কাছে আবদার করেছিল এবারের জন্মদিনে কেক কাটবে সে। নুন আনন্তে পান্তা ফুরানোর সংসারে এই আবদার এবারে মেটানোর কথাও ভেবেছিল অপু।
তবে ভোটের হিংসা তার এই আশা আর পূরণ হতে দিল না। সোমবার ভোটের দিন গোপালপুর পশ্চিমপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৩ নং বুথে বন্ধুদের সংগে ভোট দিতে গিয়েছিল অপু। এই বুথে মুলত লড়াই নির্দল প্রার্থী মানস কুমার ঘোষের সংগে তৃণমূল প্রার্থী রণজিৎ মাইতির। এলাকায় অপুকে সিপিএম সমর্থক বলেই জানে সবাই। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য শান্ত সভাবের ছিল অপু কোন দিন রাজনীতির সংগে সক্রিয় ভাবে যুক্তছিল না। ভোটের দিন স্ত্রীকে বলে এসেছিল বাড়ি ফিরে সবাই মিলে ভাত খাবো। কিন্তু আর ফেরা হল না দুস্কৃতিদের গুলি তার প্রাণ কেড়ে নিল। সবে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছে অপু হঠাৎই দেখে দুস্কৃতিরা বাইকে করে এসে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ভোট বাক্স লুট করে নিয়ে যাচ্ছে সাথেসাথে গুলি ও বোমা বাজি করছে। বাধা দিতে গেলে গুলি চালায় দুস্কৃতিরা। গুলিতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় অপুর ও যোগেশ্বর ঘোষ নামে আরেক ব্যক্তির। বন্ধ হয়ে যায় ভোট। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আশে। এই ঘটনা শুনতে পায় অপুর আট বছরের মেয়ে অপরাজিতাও। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ছোট্টো অপরাজিতা। তাকে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। এই ঘটনার পরেও সোমবার রাতে এলাকায় চলে বোমাবাজি। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে অপুর পরিবারের লোক সবাই এর দাবি এলাকায় শান্তি ফিরুক। ময়নাতদন্তের পর মংগলবার অপুর দেহ ফেরে বাড়িতে। জন্মদিনের কেক নয় বাবার দেহ আসবে বাড়িতে তা মেনে নিতে পারেনি ছোট্ট অপরাজিতা।

No comments:
Post a Comment