মালদা, ২ মে : “নির্বাচন কমিশন নয়, পঞ্চায়েত ভোট পরিচালনা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যাডারদের দিয়ে ভোট করানোর ছক কষেছেন তিনি।” বুধবার দলীয় কর্মসূচিতে মালদায় এসে এই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন পর্বে ৩৪ শতাংশ আসনে জয়লাভ করে রাজ্যে ইতিহাস তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে বুধবার ভোরে মালদায় আসেন মুকুলবাবু। এখানে তাঁর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মানিকচক, কালিয়াচক ৩, ১৬ মাইল, বামনগোলা, ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার। বুধবার ভোরে মালদা শহরের একটি হোটেলে ওঠেন তিনি। সেখান থেকে মানিকচক যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুকুলবাবু বলেন, “মানুষের রায়ে পঞ্চায়েত ভোটে পরাজিত হবেন জেনে এই ভোটকে প্রহসনে পরিণত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষ বিভ্রান্ত। একবার তিনি বললেন ১, ৩, ৫ মে পঞ্চায়েত নির্বাচন। পরে আবার তিনিই বললেন ১৪ মে ভোট হবে। এর মধ্যে এমন কী পরিস্থিতি হল যাতে ভোটকে একদিনে নিয়ে যেতে হবে ? শুধু মনোনয়ন প্রক্রিয়াতেই ৩৪ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আরও বড় বিষয়, ভোটে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ঠিক না করেই নির্বাচনের দিন ঠিক করা হয়েছে। সমস্ত বিষয়টিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রহসনে পরিণত করেছেন। কোনও বুথে একজন সশস্ত্র পুলিশ, নাকি দু’জন, নাকি কোনও পুলিশই থাকবে না, সেসব কিছুই এখনও ঠিক হয়নি। নির্বাচন কমিশন নামেই। সমস্ত ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নির্বাচন গ্রামীণ মানুষের ভবিষ্যৎ। কেন্দ্র থেকে যে প্রকল্পগুলি আসে, তা রূপায়িত হয় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। ফলে গ্রাম বাংলার ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সেটাই অস্বীকার করতে চাইছে রাজ্য সরকার।”
তিনি আরও বলেন, আজ তিনি ভোট প্রচারে এসেছেন। কিন্তু এখনও তিনি সঠিকভাবে বলতে পারবেন না ভোট ১৪ মে হবে। আবার সেদিন যে ভোট হবে না তাও তিনি বলতে পারবেন না। আগামী ৪ মে এনিয়ে আদালত রায় ঘোষণা করবে। এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ি রাজ্য সরকার, দায়ি মমত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোট একদফা, দু’দফা কিংবা যত দফায় হোক না কেন, তিনি চান সুষ্ঠু নির্বাচন। মনোনয়ন পর্বে তাঁরা দেখেছেন,বিডিও কিংবা SDO অফিসের সামনে থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন কেড়ে নেওয়া হল। এবার তাঁদের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারবেন তো ? সুষ্ঠু ভোট করানোর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের। তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন হলে হবে। রাজ্য বলছে, তাদের হাতে নাকি পর্যাপ্ত বাহিনী রয়েছে। রাজ্য এক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিচ্ছে। সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে কিছুতেই ভোট করানো যাবে না। তার চেষ্টা অবশ্য চলছে। ক্যাডারদের দিয়ে ভোট পরিচালনার ব্যবস্থা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে ফেলেছেন। তবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গণ প্রতিরোধ করা ছাড়া তাঁদের অন্য কোনও উপায় নেই।
মালদা জেলায় দলের ফল নিয়ে তিনি বলেন, এবারের ভোটে মালদা জেলায় যথেষ্ট ভালো ফল করবে বিজেপি। তবে রাজ্যে তাঁরা কত শতাংশ আসন পেতে পারে তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

No comments:
Post a Comment