“পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কোনও স্থান নেই। আমাদের রাজ্য বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাস করে।” সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের আলোচনা ও উন্নয়নের বিশ্ব দিবসে এই টুইট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি টুইটে লেখেন, “আজ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের আলোচনা ও উন্নয়নের বিশ্ব দিবস। আমাদের সরকার সর্বদা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাস করে। সাম্প্রদায়িকতার কোনও স্থান রাজ্যবাসীর মননে নেই।”
আজকের দিনটি রাষ্ট্রসংঘ অনুমোদিত। বৈচিত্র্যের কথা প্রচার করা হয় সাড়ম্বরে। তাই, সকাল সকাল মুখ্যমন্ত্রীও টুইট করেছেন। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের কথা তুলে ধরেছেন। সত্যিই কি বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার কোনও স্থান নেই ? রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। গত দু-তিনবছরের মধ্যে বেশ কয়েকটি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে বাংলায়। ২০১৬ সালে ধূলাগড় তো ছিলই। পরবর্তী সময়ে তেহট্ট, মল্লারপুরের মতো ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে সাম্প্রদায়িক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আসানসোল, রানিগঞ্জ। তখন কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “এগুলি স্থানীয় বিষয়। সাম্প্রদায়িক হিংসার কোনও ঘটনাই ঘটেনি।” একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগও করেছেন, “হিন্দুত্ব মতাদর্শকে মদত দিতে গিয়ে বিজেপি-ই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়াচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর টুইট নিয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হয় বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার সঙ্গে। তিনি বলেন, “এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতার জায়গা খুব বেশি ছিল না। সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি হিন্দু-মুসলমানকে ভাগাভাগি করে রামনবমীর মিছিল আটকেছেন। হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে লাঠিচার্জ করে, মহরমের জন্য দুর্গাপুজোর নিরঞ্জন বন্ধ করে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি উনিই শুরু করেছেন। তার ফল এই রাজ্য ভুগছে।” বাম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন, “সাম্প্রদায়িকতার জায়গা পশ্চিমবঙ্গে ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি আর বিজেপি-কে আমদানি করেছেন উনি। বিজেপি ওনার হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গে এসেছে। তখন জ্যোতিবাবু বলেছিলেন, মমতার সবথেকে বড় অপরাধ ও বিজেপি-কে বাংলায় নিয়ে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, কেরালা - বাম সরকার যে তিনটি রাজ্যে ছিল সেখানে কোথাও বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারত না। ত্রিপুরাতে তৃণমূল হয়ে সব বিজেপি হল। এটা ওনার দায়িত্ব। আর পশ্চিমবঙ্গে উনিই নিয়ে এসেছেন বিজেপি-কে। একসঙ্গে চলেছেন। তাই, এই কথাটা ওনার মুখে বেমানান।”

No comments:
Post a Comment