স্ত্রীকে
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীর নব বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন হুগলির
আরামবাগ মহকুমা আদালত। বৃহস্পতিবার আরামবাগের অতিরিক্ত জেলা জজ দায়রা আদালতের
বিচারক ফটিক চন্দ্র মন্ডল অভিযুক্ত স্বামী সিকান্ত সিংকে এই সাজা
দেন।
জানা গিয়েছে ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি
হুগলির পুড়শুড়া থানা চিলাডাঙ্গী খাঁ পাড়ার
বাসিন্দা শ্রীকান্ত সিংয়ের সঙ্গে হাওড়া জেলার লিলুয়া থানার রামকৃষ্ণ পল্লীর
বাসিন্দা মিশ্রীলালা গুপ্তার মেয়ে সোমার
সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়েতে যথাযত পন দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে স্ত্রীর
ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করেন শ্রীকান্ত। শ্রীকান্ত তার স্ত্রীকে
সন্দেহ করায় প্রতিদিন কাজে বের হওয়ার আগে দরজায় তালা দিয়ে বেড় হতেন। পাশাপাশি
প্রায় সময়ই সময় তার স্ত্রী সোমাদেবী তার স্বামী বলতেন তুই গলায় দড়ি দিয়ে মর।
তুই মরলে আমি আবার একটা বিয়ে করব। এই সব কথা সোমাদেবী তার মাকে চিঠিতে জানান।
অবশেষে ওই বছরের জুন মাসের ১৪ তারিখে জামাই ফোন
করে শশুড় বাড়িতে জানান তাদের মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গিয়েছে। পরদিন মেয়ের
বাড়ির তরফে পুড়শুড়া থানা আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলার ভিত্তিতেই ঘটনার দিন রাতেই শ্রীকান্তকে পুড়শুড়া থানার পুলিশ
গ্রেপ্তার করেন। এতদিন এই মামলার প্রক্রিয়া চলছিল। এ দিন এই মামলার রায় দেন
বিচারক। এই বিষয়ে সরকারি পক্ষের আইনজীবী নবকুমার মজুমদার বলেন, গৃহবধূকে হত্যা
করা হয়েছে। ৪ জন সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক অভিযুক্তকে
আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ৯ বছরের সশ্রম
কারাদণ্ড এবং ৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

No comments:
Post a Comment