ঘাসফুলের দাপটে কংগ্রেস মরুদ্যান - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 4 May 2018

ঘাসফুলের দাপটে কংগ্রেস মরুদ্যান



চাঁদনী: ঘাসফুলের দাপটের মধ্যেও এ যেন কংগ্রেসের এক শক্তভূমি। মরুদ্যানও বলা চলে। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল ব্লকের নাটশাল ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব শ্রীরামপুর গ্রাম আজও আস্থা রেখেছে কংগ্রেসের ওপর। ২০০৮ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হাত ধরেই রাজ্যে আগমন ঘটেছিল পরিবর্তন ঝড়ের। কিন্তু নন্দীগ্রামের অদূরে এই গ্রামে এসেই থমকে গেছিল ঝড়ের গতি। তারপরও জোড়া বিধানসভা, লোকসভা এবং আরও একটি পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যজুড়েই অব্যাহত ছিল পরিবর্তন ঝড়। তবুও এই গ্রামে আঁচড় কাটতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৭৪ সালে পঞ্চায়েত আইন চালু হওয়ার পর থেকেই এ গ্রামকে নিজেদের দখলে রেখেছে কংগ্রেস। এবারও সেই লক্ষ্যেই ভোট প্রচারে নেমেছেন গ্রামের ১০৭ ও ১০৮ নম্বর বুথের হাত প্রতীকের দুই প্রার্থী রঘুনাথ কামিল আর রূপালী মাইতি। এই দুই আসনে বিরোধী বলতে শাসকদল তৃণমূলের দুই প্রার্থী রমেশ বিজলি এবং তণুশ্রী দাস। কিন্তু তাঁরাও সেভাবে টক্কর দিতে পারছেন না কংগ্রেসের প্রার্থীদের। বিরোধিতার খাতিরে গত ৫ বছরে এলাকার কোনও উন্নয়ন হয়নি বলে তাঁরা প্রচার করলেও তাঁদের সেই প্রচারে কান নেই গ্রামের মানুষদের। গ্রামের বারো থেকে বিরাশি সকলের মুখে মুখে ঘুরছে কংগ্রেসের গুণগান। উন্নয়ন, শান্তিশৃঙ্খলা সবেতেই কংগ্রেসকে ১০০ তে ১০০ দিতে রাজি সকলেই। তাই এবারও যে এখানে পরিবর্তনের ঝড় কোনও আঁচ ফেলবে না তা মানছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবুও প্রচারে খামতি রাখতে নারাজ দলের প্রার্থীরা। পঞ্চায়েত সমিতি কিংবা জেলা পরিষদ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা না থাকলেও নেতৃত্ব-প্রার্থী সকলেই ঐতিহাসিক এই দুই গ্রামসভা নিজেদের দখলে রাখতে। পূর্ব শ্রীরামপুরে আগে একটি আসন ছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর দুটো বুথ ভাগ হয়ে যায়। পূর্বের মতো ভাগের বুথও বেদখল হতে দেয়নি কংগ্রেস। গত নির্বাচনে নাটশাল ২ পঞ্চায়েতের ১৪ টি আসনের মধ্যে ৭ টি পায় তৃণমূল, দুটো কংগ্রেস আর ৫ টি সিপিএম। কংগ্রেসের দুই প্রার্থীকে নিয়ে বাগে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তৃণমূল। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস-সিপিএম আর তৃণমূলের মিলিজুলি বোর্ড গঠন হয়েছিল। কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, এবারও মনোনয়নের সময় বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের প্রার্থীদের। কিন্তু তাতেও আটকানো যায়নি তাঁদের। দুই প্রার্থী রঘুনাথ এবং রূপালী আত্মবিশ্বাসী নিজেদের জয়ের ব্যাপারে। বলেন," কেন্দ্র-রাজ্যের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা এ গ্রামের দুটো বুথের মানুষ পেয়েছেন। উন্নয়ন নিয়ে আমরা প্রশ্ন রাখিনি। মানুষ এবারও আমাদের পক্ষে রায় দেবেন। আগামী দিনেও আমরা মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad