আসানসোলঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার আটটি ব্লকে সকাল থেকেই সন্ত্রাসের পরিবেশের মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু হয়৷প্রাথমিক পর্যায়ে আপাত শান্তির পরিবেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা মনে হলেও ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকার ছবি পরিষ্কার হতে শুরু করে৷সালানপুর ব্লকের নাকড়াজোড়িয়া,নামোকেশিয়া,লোয়ার কেশিয়া,নান্দনিক,রূপনারায়ণপুরের বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লাইন না পড়লেও ভোট পড়েছে স্বাভাবিক হারে৷পাশাপাশি বারাবণি ব্লকের নুনি পঞ্চায়েতের নুনি প্রাইমারী স্কুলের ২২৮এর ৭০নং বুথে ও ২২৯এর ৭১নং বুথে বিজেপি প্রার্থী সুচন্দ্রা রায়কে বুথে দাঁড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে দেখা যায়৷অন্যদিকে চিনচুড়িয়া প্রাইমারী স্কূলের ২২৭নং বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্ট অক্রুর লায়েক ও তার সহযোগী প্রশান্ত পাল,জীবন ঘোষকে তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে৷
আসনবনী গ্রামে৬৭এর ১নং বুথে হাজির হয়ে দেখা যায়,কোথাও কোনো ভোটার নেই,অথচ প্রিসাইডিং অফিসার দাবি করেন ৫৮২জন ভোটারের ১২০জন ভোট দিয়েছে সকালের প্রথম দফায়৷পাশাপাশি জামুড়িয়ার শ্যামল গ্রাম পঞ্চার্যেতের আলীনগর গ্রামের ১৯৯নং বুথে তৃণমূলি দুস্কৃতিদের হাতে আক্রান্ত হন নির্দল প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও তার সঙ্গী৷মেরে তাদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়৷বারাবণির দেন্দুয়ার হোঁদলা গ্রামে বহিরাগতদের তাণ্ডবের অভিযোগ ওঠে৷স্থানীয়দের উপর গুলিও চালায়৷শেষে গ্রামবাসীরা পুলিশের সহযোগীতায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে৷অন্যদিকে রানিগঞ্জ ব্লকের আমড়াসোতা পঞ্চায়েতের বাঁশড়া গ্রামে রবিবার রাত থেকেই বহিরাগতদের তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়৷দফায় দফায় বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে৷সোনবার সকালে প্রথম দফায় বহিরাগতরা এলাকার সমস্ত বুথ দখল করে নেয়৷তবে গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গেলে উভয় তরফে ঝামেলা ও মারপিট শুরু হয়ে যায়৷স্থানীয় অধিবাসীরা এরপর তীর ধনুক দা বঁটি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলে৷সাময়িক ভাবে বহিরাগতরা সরে গেলেও পরে গাড়ি ভর্তি বোম নিয়ে ঢুকতে সচেষ্ট হয় এবং গ্রামবাসীদের হাতে প্রতিহত হয়৷গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভোটকর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করে৷এমনকি বহিরাগতদের গাড়িটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়৷এতে বহিরাগতরা দমে না গিয়ে দফায় দফায় বোমাবাজি শুরু করে৷এমনকি খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরাও আহত হয়৷

No comments:
Post a Comment