মৃন্ময় নস্করঃ "আমপাকে বৈশাখে কুল পাকে ফাগুনে, কাঁচা ইঁট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে।' সুকুমার রায় এই কবিতা পড়েননি এমন বাঙ্গালী বোধহয় পাওয়া যাবে না এই বঙ্গে।বাঙ্গালির শ্রেষ্ঠ ফল হল আম।তিলে তিলে জাতীয় ফলের মর্যাদা পেয়েছে সে।বৈশাখ মাসে পাকা আম মুখে দেন না এমন বাঙালী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।শুধু তাই নয় আমপোড়ার সরবত বা কাঁচামিঠে আমের নাম শুনলেই জল আসে জিভে । হিমসাগর, ন্যাঙড়া,ফজলি, গোলাপখাস বাঙালীর কাছে চির পরিচিত।আর ভোটের বাজারে আমের নাম শুনলে চমকে উঠছেন অনেকেই।আর তা সম্ভব হয়েছে এই ভোটের রাজনীতির সুবাদে। আর এই সব আমের নাম এখন অনেকের কাছে ভূতের রামনামের সামিল।
পঞ্চায়েত ভোট আসন্ন। হাতে গোনা কয়েক দিন পরে সেই ভোট।এবার ভোটের ময়দানে ৩৬ টি প্রতীককে নির্দল প্রার্থীরা বেছে নিয়েছেন নির্বাচন কমিশনরের থেকে। নির্বাচন কমিশনার সূত্রে খবর,এবার পঞ্চায়েত ভোটে সবথেকে বেশি যে প্রতীক নির্দল প্রার্থীরা গ্রহন করেছে তা হল আম।নৌকা, জোড়া পাতা, বই, মই, লাঙল সেলাই মেশিন, টর্চলাইটের থেকে আমের কদর এখন অনেক গুন বেশি।বহু নির্দল প্রার্থী আম কে তাই নির্বাচনের প্রতীক দেওয়াল ও লিখে ফেলেছেন।গাছের সাথে সাথে দেওয়ালে দেওয়ালেও ঝুলছে আম।কারোর আম লাল হলুদ তো কারোর আবার শুধুই সবুজ। দলের টিকিট না পেয়ে আম চিহ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থী ঝর্ণা হালদার, পারুল নস্কর রা বলেন,আমরা আদি তৃনমূল আর আম আদি ফল।আমের রঙ সবুজ, আমাদের দলের রঙ ও সবুজ।আর এখন আম সবুজ আছে।চারিদিকে গাছে আম ঝুলছে। মানুষ চোখের সামনে আম দেখছে আর আমাদের দেওয়াল লিখন দেখছে। এই ভেবে এই আম চিহ্ন নেওয়া।রাজ্য রাজনীতিতে নির্দল প্রার্থীরা এখন যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছে।বহু এলাকায় মুল লড়াই তৃনমূল বনাম নির্দল প্রার্থীদের।গত পঞ্চায়েত ভোটে তৃনমূলের ভোটে জেতা নির্দল প্রার্থী বিশ্বনাথ নস্কর বলেন,জন্ম লগ্ন থেকেই আমরা তৃনমূল করছি, গত পঞ্চায়েতে ও জিতেছি দলীয় প্রতীক নিয়ে।এবার দল আমাদের টিকিট দেয় নি।তাই বাধ্য হয়ে নির্দলে লড়াই করা।মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন কে তুলে ধরে প্রচার করছি।আর আমদের নিজস্ব প্রতীক আম চিহ্নে মানুষ কে ভোট দিতে বলছি।
বিভিন্ন পঞ্চায়েত,পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন আসনে যে কোনোও মুল রাজনৈতিক দলের থেকে যথেষ্ট প্রভাব আছে আম, মই, নৌকাদের। আর ভরা বৈশাখে আমের কদর অনেক বেশি।আর তাই আমের শুনলেই শিউরে উঠছেন তাবড় রাজনৈতিক নেতারা।


No comments:
Post a Comment