পবিত্রমোহন বিশ্বাস: আর এস এসের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে ভাষণ দেবেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।এতেই শোরগোল পড়ে গেছে। সারা দেশে এমন সব আলোচনা হচ্ছে যেন প্রণববাবু রাতারাতি কংগ্রেস ছেড়ে দিয়েছেন একই সঙ্গে আর এস এসের বিরাট কোন বড় পদ পেয়েছেন।
আগামী ৭ জুন নাগপুরে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশ্য প্রণববাবুর ভাষণ প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র টম ভাড়াক্কান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, এটা প্রণববাবুর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এ নিয়ে কংগ্রেসের কিছু বলার নেই! এই পৃথিবীতে যত মানুষ আছে তারা যখনই কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সেটা একান্তই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাই কংগ্রেস মুখপাত্রের এই বক্তব্য আহামরি নতুন কিছু নয়!
প্রণববাবুর এই ভাষণ দেওয়া নিয়ে দেশের তামাম রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে। ভাবখানা এমন যেন প্রণববাবুই আর এস এসের প্রধান হয়েই গেছেন।এত গুঞ্জন কেন? প্রণববাবুর সমালোচনা যদি করতেই হয় তাহলে সেটা ৭জুনের পর থেকেই করলে ভালো হতো নাকি? সেই অনুষ্ঠানে কী বলবেন প্রণব মুখার্জি? আমরা কেউ জানি না।তার আগেই গেল গেল রব উঠেছে। এই ধরনের আলোচনা একদমই স্বাস্থ্যকর নয়।
এই প্রসঙ্গে দু'একটি ভিন্ন কথা বলা যেতে পারে। সারাদেশে প্রায় সব দলেরই তাবড় তাবড় নেতারা নিজেদের সুবিধার জন্য দল বদল করে তখন কি এত গুঞ্জন শোনা যায়? রাজ্য রাজনীতির দিকে চোখ রাখলেই দেখা যায় এক লহমায় যাবতীয় ন্যায় নীতিকে গঙ্গার জলে বিসর্জন দিয়ে ভোট দাতাদের প্রতি সব দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আজ যে কংগ্রেসে কাল সে বিজেপি বা তৃনমূলে ভিড়ছেন। দিল্লির রাজনীতিতেও এই ধারার কোন ব্যতিক্রম নেই। এমনকি সারা দেশে দল ভাঙ্গিয়ে সরকার গঠনের মরিয়া চেষ্টা চলে। সামান্য পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনেও ঘোড়া কেনা বেচার অভিযোগ শোনা যায় তার বেলা? তখন কি এত কথা শোনা যায়? যায় না তো।
প্রণববাবু সম্পর্কে যারা সামান্য খোঁজ খবর রাখেন তারা সকলেই জানেন উনি একজন পন্ডিত মানুষ। একাধিক বিষয়ে তাঁর পান্ডিত্য রয়েছে। সেই আলোকে তিনি আলোকিত। তাঁর পড়াশুনার বহর যে কোন মানুষের কাছে আজও শিক্ষণীয়।
মনে রাখলে ভালো হয় প্রণববাবু এখন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। নতুন করে তাঁর পক্ষে আর কংগ্রেসের হয়ে ভোট রাজনীতি করা কার্যত আর সম্ভব নয়।কারন তাতে গৌরবময় কিছু থাকে না। তিনি এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতোই। নানান সভায় যাবেন, বক্তব্য রাখবেন একাই স্বাভাবিক নয় কি?এটাই প্রণববাবুর শিক্ষার গুন।
প্রণববাবুর এখন যা বয়স তাতে আগামী চার বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি হয়ে পরবর্তী পাচঁ বছর কার্যভার বহন করাও সম্ভবপর নয়। অনেকের মনে এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে প্রণববাবু কি আবার রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী! এই জন্যই কি তাঁর আর এস এস ঘনিষ্ঠতা?এই সবই হলো জল্পনা।এমন কোন সম্ভাবনা দূরবীণ দিয়েও দেখা যাচ্ছে না। তাই যারা জাত গেল জাত গেল বলে ধূয়া তুলছেন তারা সেটা করতেই পারেন।তাতে মুক্তমনাদের কিছু আসে যায় না। প্রণববাবু একজন মুক্তমনের মানুষ তাঁর কি আসে যায়?

No comments:
Post a Comment