চাঁদনী: তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তান....। মান্না দের এই বিখ্যাত গানের লাইনের সঙ্গে বেশ সাযুজ্য এগরা ২ ব্লকের পানিপারুলের ভোট চিত্র।
স্বামী-স্ত্রী আর ছেলে তিনজনই এবার ভোট প্রার্থী তৃণমূলের। মা আরতি মুন্ডা পঞ্চায়েত সমিতি আসনে। আর বাবা আশুতোষ এবং ছেলে আনন্দ প্রার্থী গ্রামসভা আসনের। তাই ভোটের কারণে ঘর-সংসারের কাজ কার্যত শিকেয় উঠেছে পানিপারুলের মুন্ডা পরিবারের। হেঁসেল সামলানো থেকে ঘরের নিত্যদিনের কাজ সবই সামলাচ্ছেন আত্মীয়পরিজনরাই। তিনজনই ভোট প্রার্থী হওয়ায় সাতসকালেই গ্রামে গ্রামে প্রচারে বেরিয়ে পড়ছেন। তবে রাজনীতিতে আরতিদেবী এবং তাঁর ছেলে আনন্দ পুরোনো এবং পরিচিত মুখ হলেও আশুতোষবাবু একেবারেই নতুন এবার। আরতিদেবী এগরা ২ পঞ্চায়েতের বিদায়ী সভাপতি। আনন্দ পানিপারুল পঞ্চায়েতের বিদায়ী সদস্য। ১৯৯৩ সাল থেকে রাজনীতির ময়দানে আছেন আরতি মুন্ডা। কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ হলেও তাঁর প্রথম জনপ্রতিনিধি হওয়া ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের হাত ধরে। সেবারে ভোটে জিতে আরতিদেবী উপপ্রধান হয়েছিলেন পানিপারুল পঞ্চায়েতের। ২০০৩ ভোটে জিতে পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেত্রী হন। ২০০৮ আবার উপপ্রধান। তারপর থেকেই আরও বেশি আস্থা এবং ভরসা রেখেছে তাঁর ওপর। ২০১৩ সালে গ্রামসভার পরিবর্তে তাঁকে দাঁড় করানো হয় পঞ্চায়েত সমিতি আসনে। তাতে জিতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হয়েছিলেন আরতিদেবী। এবারও পানিপারুল পঞ্চায়েত এলাকার ১৫ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। মায়ের হাত ধরেই রাজনীতিতে প্রবেশ ছেলে আনন্দের। ২০১৩ সালে মায়ের ছেড়ে যাওয়া ১৪ নম্বর গ্রামসভা আসনে প্রার্থী হয়ে প্রথম নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এবারও সেই আসনে প্রার্থী আনন্দ। আর ছেলের পাশের গ্রামসভা আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাবা আশুতোষবাবু। ভোট ময়দানে না থেকেই এতদিন বাইরে থেকে স্ত্রী-ছেলেকে সমর্থন জানিয়ে এসেছিলেন আশুতোষবাবু। ইচ্ছে থাকলেও সরকারি চাকরির কারণে আর আসা হয়ে উঠেছিল না। ২০১৫-তে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
আর এবার চাকরির পিছুটান না থাকায় সমর্থকদের ভোটে নামার অনুরোধে হ্যাঁ করেদেন তিনি। আর এভাবেই ভোটে ময়দানে বাবা-মা আর ছেলে ৩ জন একসঙ্গে নেমেই সাড়া ফেলে দিয়েছেন এলাকায়। এ নিয়ে খাট্টামিঠা নানান মন্তব্য করতে অবশ্য ছাড়ছে না বিরোধীরা। কিন্তু সে সব কিছুই গায়ে মাখছেন না মুন্ডা পরিবারের এই ৩ সদস্য। তাঁদের প্রত্যেকের বক্তব্য," এলাকার উন্নয়ন করেছি। তাই মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। আর সেই আস্থা আর বিশ্বাসকে পুঁজি করে আমাদের ভোটে নামা।" স্বামী-স্ত্রী আর ছেলের ভোটে নামার ঘটনাকে পরিবারতন্ত্র বলে কটাক্ষ করছে বিরোধীরা। কিন্তু তা মানছেন না তৃণমূলের নেতৃত্ব। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের আহ্বায়ক বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি বলেন,"ভাবমূর্তির বিচারে প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা আর জনসংযোগের নিরিখে আমরা ওই পরিবারের ৩ জনকে প্রার্থী করিয়েছি। বিরোধীদের কথায় আমাদের কিছু যায় আসে না।"

No comments:
Post a Comment