মৎস্যজীবিদের নিয়ে জলপথে রাজনৈতিক লড়াই - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 10 May 2018

মৎস্যজীবিদের নিয়ে জলপথে রাজনৈতিক লড়াই




মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: "মৎস্য মারিব খাইবো সুখে "এই আপ্তবাক্যটি সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের ক্ষেত্রে সেই অর্থে একেবারেই প্রযোজ্য নয়। সুন্দরবনের জঙ্গলে ও নদী তে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে  প্রতিনিয়ত  নিহত হচ্ছেন গরীব মৎস্যজীবীরা। কুমিরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন নদীতে মাছ ধরতে নামা বহু মানুষ কে ।জীবিকার জন্য লড়াই চলে জলে কুমির ডাঙায় বাঘের সঙ্গে। আর্থিকভাবে যথেষ্টই পিছিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবিরা। বিকল্প জীবিকার অভাবেই প্রতিনিয়ত বিপদের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। আর তাই মৎস্যজীবীদের আর্থিক হাল ফেরাতে এবার ভোটের ময়দানে খোদ মৎস্যজীবীরাই। দুজনই লড়াই করছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি বিধানসভা এলাকা থেকে। যাদের মধ্যে এক জন হলেন মহিলা প্রার্থী প্রতিমা ঢালী। যিনি পেটের টানে নিজের নৌকায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরতে যান সুন্দরবনের জঙ্গলে। তার সেই পয়সা দিয়েই সংসার নির্বাহ করেন তারা। দিন আনি দিন খাই পরিবার। কুলতলির ব্লকের  মেরিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। অন্যদিকে হরিদাস হালদার হলেন আর এক কাঁকড়া সংগ্রহকারি। যার নিজের কোনোও নৌকা নেই।  অন্যের নৌকায় সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে যান কাঁকড়া সংগ্রহ করতে। ২০১৬ সালে হরিদাস হালদারের সঙ্গে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমনে নিহত হন তার একমাত্র ছেলে মৃতুঞ্জয় হালদার । বাবার সামনে থেকে ছেলে কে বাঘে তুলে নিয়ে যাওয়ার স্মৃতি এখনো ও টাটাকা। চোখ বন্ধ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ছেলে হারানোর যন্ত্রনায়। তাই প্রতি মূহুর্তে উপলদ্ধি করেন প্রতিটা মৎস্যজীবীদের দূর্দশার কথা। বিভিন্ন মৎস্যজীবীদের আন্দোলনে প্রতিটা মূহুর্তে তাকে দেখা গেছে অগ্রণী ভুমিকা নিতে। নিজের নামে আছে সুন্দরবনের নদী জঙ্গলে মাছ ধরার অনুমতি পত্র। আছে ফিসারি দফতরের শংসাপত্রও।

 এহেন মৎস্যজীবিকেই এবার প্রার্থী করেছে এস ইউ সি আই। কুলতলির গোপালগঞ্জ এলাকা থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তাকে।২৩ ও ২৪ নং এলাকায় দেওয়াল লেখা থেকে শুরু করে পোষ্টার টাঙানো সবই করেছেন নিজে হাতে।পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য তিনিই। এবিষয়ে প্রার্থী হরিদাস বাবু বলেন,"সুন্দরবনের মানুষরা প্রতিনিয়ত বাঘের আক্রমনের শিকার হন।সরকারি ভাবে মেলে না উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। সুন্দরবনের অসহায় পরিবারের কথা ভেবে আমাদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।জিতে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।"

       
অন্যদিকে অন্য এক মহিলা মৎস্যজীবী প্রতিমা ঢালী বলেন,"স্বামীকে নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে কুমির বাঘের সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভোটে জিতে মানুষ কে বিকল্প জীবিকার দিশা দেখানোই আমার প্রাথমিক কাজ।"

   সরকারি নির্দেশনামা অনুসারে,  সুন্দরবনের নদী ও সমুদ্রে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত  বন্ধ থাকে সমস্ত রকম মাছ ও কাঁকড়া ধরা। এই সময় তাই মাছ ধরতে না গিয়ে ভোটের প্রচার সারচ্ছেন এই সব মৎস্যজীবীরা।

                

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad