মদ মেয়েদের চরিত্রের পক্ষে...... কি? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 29 May 2018

মদ মেয়েদের চরিত্রের পক্ষে...... কি?




মানুষ করবে… আমারই দুই মহিলা সহকর্মীর টিফিন আড্ডার টপিক।২০০০ সাল। আমি তখন ক্লাস সিক্স। ডিসেম্বরের দার্জিলিং। আমার থেকে এতটু বড়ো পিসতুতো দাদা মোটামুটি দায়িত্ব নিয়ে মুখ থেকে ধোঁয়ার রিং ছাড়তে শিখিয়েছিল। টাইগার হিলে সেই পাকামোটাই করতে গিয়ে বেধড়ক বকা খেয়েছিলাম মায়ের কাছে। আমার সেই দাদাকে যদিও কেউ কিছুই বলেনি।আমার দুঃসম্পর্কের নন্দা পিসি। উচ্চশিক্ষিত, চাকুরে ও অত্যন্ত সুন্দরী। স্লিভলেস ব্লাউজ আর পরিপাটি করা শাড়ি পরে তিনি অফিসের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দিব্যি সিগারেট খেতেন। মা-মাসিদের কছে যা ছিল চরম দুঃসাহস। বাবা-কাকাদের ফ্যান্টাসি। আম্মা বলত, নন্দা বখে গেছে। বরটা সুপুরুষ। সামলাতে পারে না নন্দাকে।পাশের বাড়ির রণকাকুর ছিল ঘোরার নেশা। বছরে দুবার এইয়্যা বড় সুটকেস, বেডিং নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন। আলো কাকিমাকে কোনওদিন যেতে দেখিনি যদিও। সঙ্গে কাকিমা থাকলে ঘোরাঘুরি নাকি খুব হ্যাপা। তাছাড়া সংসার চুলোয় যাবে তো। পুরী, তারাপিঠেই আটকে থাকলেও, আলো কাকিমা খুব সুন্দর পাহাড়ের ছবি আঁকত।
বড় হলাম। মধ্যবিত্ত ভীতু লুক আর নিয়মের বাইরে বেরিয়ে পড়লাম এমন এক কলেজে, যেখানে দাদা,দিদিরা একসঙ্গে সিগারেট. মদ খায়, আড্ডা মারে, তর্ক করে, ভালোবাসে। সেইরকমই একজন সুদর্শনাদি। শুনলাম, মধ্যপ্রদেশের এক জঙ্গলে ওয়াইল্ড লাইফের ছবি তুলতে যাচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে। কলেজেই সেই আপাত লিবারেল দাদা-দিদিদের কথা সেদিন বলতে শুনেছিলাম, আরে জঙ্গলে মঙ্গল হবে, নীল-লাল ছবি উঠবে।পাড়ার মিনি দিদির খুব সুন্দর গানের গলা। অবিবাহিত, বিভিন্ন ফাংশনে গান গেয়ে তিনি সংসার চালাতেন। ওর বাবার ডায়ালিসিস চলে। সেই বাবাই মেয়েকে বাঈজি বলতে ছাড়তেন না। আমার কলেজেই খুব একটা চালু কথা ছিল। ছেলেদের তিনটে প্রধান নেশা হল, মদ, মাংস আর ‘মেয়ে’। আর এই তিনটে নেশাই চুটিয়ে করত বোধি। লীলা মেনে নিয়েছিল। ওদের অনেকদিনের সম্পর্ক। বোধি, লীলাকে বিয়ে করেনি শেষ পর্যন্ত। পরে বলেছিল, লীলা মদ খায়। এসব মেয়েদের দিয়ে কি সংসার হয় বল? অফিস থেকে রোজই মেট্রোয় ফিরি। সেদি ট্যাক্সি নিয়েছিল রায়ারা। লাইটারের ফস আওয়াজেই ড্রাইভারের উঁকি ঝুঁকি শুরু লুকিং গ্লাসে। পিছনে যে তিনটে মেয়ে। টানা আধঘণ্টা জ্ঞানের পর্ব, কোন এক ঠাকুরের মন্ত্র জপার বিধান দিয়েছিলেন খৈনিখোর ড্রাইভার। যদি কিছুটা পাপ কমে যায় আর কী।
রত্নাপিসির তো সংসার করাই হল না এই নেশার জন্য। রেশন অফিসের বড় চাকরি, সংসার ছেলে সামলানোর মাঝে নাটকে অভিনয় করার ছিল একমাত্র শখ। রিহার্সালে মাঝে মধ্যে দেরি হয়ে যেত পিসির। নাহ, বিয়েটা করেই ডিভোর্সে পরিণত হয়। আর একটাও সত্য নারায়নের পুজো বাদ না দেওয়া আমার সেই পিসি ভ্যাম্প-এ।বেশ কিছুদিন আগে জনপ্রিয় এক অভিনেত্রীর এক ইন্টারভিউয়ের হেডলাইন ছিল মোটামুটি এইরকম। হ্যাঁ, আমি সিগারেট,গাঁজা খেয়েছি। প্রায় দুপাতার সেই ইন্টারভিউয়ের ওটাই তো ইউএসপি। আর এই সব লাইনে মেয়েরা তো ‘নামেই’। বলিউডই তো শিখিয়েছে, ভালো মেয়েরা এইসব করে না। তাই তাঁর সমস্ত স্ট্রাগল আর অ্যাচিভমেন্ট পরের পাতায় ছাপা যেতে পারে। খেলতে গিয়ে সানিয়া মির্জার জামা উঠে গেলে সেটা ফ্রন্ট পেজে জায়গা পায়। কেন এক সাংবাদিক তাঁকে অবলীলায় জিজ্ঞেস করতে পারেন, বাচ্চা কবে হবে?
আচ্ছা নেশা কী? এক ধরনের অভ্যেস বলতে পারেন। যা, ছাড়া আপনার কিছুতেই চলছে না। ছেলেদের মোটামুটি সব নেশাই চলতে পারে। পাতা বা হেরোইন ধরলে আপনাকে বড়জোর রিহ্যাবে পাঠানো হবে। কিন্তু আপনার ক্যারেক্টারের পাশে লুজ শব্দটা টাঙানো হবে না। আহঃ সোনার আংটি বাঁকলেই বা কি!
মেয়েদের আবার নেশা দুপ্রকারের। যেমন ভালো মেয়েদের নেশা বই পড়া, রান্না করা, ছবি আঁকা, খুব বেশি হলে একটু পান খাওয়া হতে পারে। আর আছে বাজে মেয়েদের নেশা.. ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলো, মদ, সিগারেট, মোদ্দা কথায় যা কিছু সংসারে চলে না। আরে বাবা, এইসব তো ফেমিনিজম আর ইকুয়ালিটির নামে একটু নষ্টামি। জেন্ডার ওয়াইসড আমাদের সমাজে এই ছেলেদের নেশা হল ইনজুরিয়াস টু হেল্থ। আর মেয়েদেরটা হল, ইনজুরিয়াস টু ক্যারেক্টার। চার বছরের বাচ্চার যেখানে স্কার্টের ঝুল রাখা হয়, সেখানে এইসব বদ নেশা থাকলে একটু যে স্লাট শেমিং হবেই। তাই আপনি প্রাপ্তবয়ষ্ক, প্রতিষ্ঠিত যাই হন, সিগারেটের দুটো টানের জন্য এমন সব অন্ধকার গলি বা পুরুষসঙ্গী খুঁজতে হবে। হ্যাঁ, সিগারেট, মদ দুটোই ক্ষতিকারক, সেই ক্ষতি কিন্তু জেন্ডার দেখে না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad