২১ জুনঃ বিশ্ব যোগ দিবস - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 13 June 2018

২১ জুনঃ বিশ্ব যোগ দিবস


২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস। এ নিয়ে দেশে সাজসাজ রব পড়ে গেছে। কারণ যোগ শুধু স্বাস্থ্যরক্ষা বা মানসিক চাপ কাটানোর হাতিয়ারই নয়; বরং যোগ এখন ভারতের সামনে কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তও খুলে দিচ্ছে। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, আর বছর দুয়েকের মধ্যেই ভারতসহ সমগ্র বিশ্বে যোগ প্রশিক্ষকদের চাহিদা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বাড়বে। এখনই বিশ্ব জুড়ে কয়েক কোটি মানুষ যোগাভ্যাস করেন।


অদূর ভবিষ্যতেই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যোগভিত্তিক হেলথ ক্লিনিক, আয়ুর্বেদ রিসোর্ট, হলিডে ক্যাম্প, কর্পোরেট প্রশিক্ষণ এসব বিপুল ভাবে বেড়ে যাবে। ভারতে ব্যাপক ভাবে যোগ পর্যটন শুরু হবে। এর ফলে যোগের বাজার কয়েক হাজার কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। প্রাচীন ভারতের এই অমূল্য রত্নকে কেন্দ্র করে যেমন কর্মসংস্থানের জোয়ার আসবে, তেমনই বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে বহুগুণ।


২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে মাথায় রেখে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল বণিকসভা অ্যাসোচেমের হেলথ কাউন্সিল। তাঁদের সমীক্ষা বলছে, বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের চাপ বাড়ছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, হতাশা ও বিষাদ। শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যোগ তাঁদের এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারে। সে জন্যই অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে যোগের রমরমা দেখা দিতে পারে।


বিশেষ করে আধুনিক জীবন-যাপনের ধরনের ফলে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, সে জন্যই মানুষ বেশি করে যোগের প্রতি ঝুঁকছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলছে, বিশ্বে এখন প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ বিষাদে ভুগছেন! তাঁদের এই বিষাদ ও হতাশায় ডুবে থাকার ফলে কর্মস্থলে তার প্রভাব পড়ছে। এমনকি এর ফলে তাঁদের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে।


এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়তে চলেছে যোগ প্রশিক্ষকদের। বিশ্বজুড়েই প্রশিক্ষকদের চাহিদা বাড়ছে। তাঁদের আয়ও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এখন তো অভিজ্ঞতা ও সংস্থা অনুসারে প্রশিক্ষকরা ঘন্টায় ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। কিন্তু যোগ ব্যায়ামের এই বাড়বাড়ন্তকে পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স সাইটগুলি।


অ্যামাজন জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাঁদের যোগ-সম্পর্কিত জিনিসের বিক্রি ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। যোগ ম্যাট, যোগাভ্যাসের জন্য জরুরি পোশাক, বই, ডিভিডির বিক্রি হু হু করে বাড়ছে। তাতে উৎসাহিত হয়ে তাঁরা একটা আলাদা ‘যোগা স্টোর’ খুলছে।


আরও চিত্তাকর্ষক ঘটনা হল, যোগ-সামগ্রী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে দিল্লিতে। তার সঙ্গে রয়েছে মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালপুরু, পুনের মতো শহরগুলি। এ ছাড়া দার্জিলিং, গোয়া, কটক, রাজকোট, এর্নাকুলাম, লুধিয়ানা দেরাদুনের মতো ছোট শহরেও যোগ-সামগ্রী দারুণ বিকোচ্ছে। এক মাসেই সংস্থাটি এক হাজার যোগ ম্যাট বিক্রি করেছে। সেই সঙ্গে লারা দত্ত, শিল্পা শেট্টি, তৃষা মহারাজা সিং-এর যোগের ডিভিডি-র বাজার রীতিমতো চড়া। এর মধ্যে লক্ষণীয়, তুলনামূলক ভাবে যোগের বাজারে কলকাতা সে ভাবে নেই।


তবে বর্তমান সময়ের জীবনধারার জন্য মোটা হওয়ার সমস্যা প্রবলভাবে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং অ্যালঝাইমারের মতো রোগ। কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি এর ফলে বিপাকে পড়ছে। তাঁদের কর্মীদের কর্মদক্ষতার ওপর আঘাত লাগছে। সে জন্য তাঁরাও যোগ নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী।


দেশের মধ্যে যোগাভ্যাসের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ ভারত এগিয়ে। দক্ষিণের রাজ্যগুলির ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ মানুষ যোগাভ্যাস করেন। এর পরে রয়েছে পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারত। তারপর পশ্চিম ভারত।


২০০১ সালে দেশের ৬৩ লাখ লোক যোগাভ্যাস করতেন, এখন সেই সংখ্যাটা ১ কোটি ৪৩ লাখ। সমীক্ষা বলছে, মানুষ মনে করেন, যোগাভ্যাস রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। সারাতেও পারে। তাই যোগের চাহিদা আগামী দিনে অনেকটা বাড়বে। ভারতে তো বটেই, সারা বিশ্বেই বাড়বে।

সূত্রঃ ঢাকাটাইমস 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad