মৃন্ময় নস্কর, চম্পাহাটি: চম্পাহাটি ষ্টেশন আর পিয়ালি ষ্টেশনের মাঝে রেল লাইনের পাশ থেকে বছর উনিশের এক যুবকের দেহ উদ্ধারকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মৃতের নাম আসিফ আলি । ত্রিকোণ প্রেমের পরিনতিতে খুন না দুর্ঘটনা তা নিয়ে রহস্য ছড়িয়েছে । যদিও মৃতের পরিবারের তরফ থেকে সোনারপুর জি আর পি থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও স্থানীয় এক ক্লাবের ছেলেরা রাত ৭-৩০ এর পর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে সোনারপুর জি আর পি থানায় খবর দেয়। জি আর পি পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে । এদিকে স্থানীয় ক্লাবের ছেলেদের ও স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার সময় আসিফের এক বন্ধু রোহিত আর একটা মেয়ে বান্ধবী ছিল। বন্ধু রোহিতই প্রথম বুধবার রাত পৌনে ৮ টার সময় আসিফের পরিবারে বাবা মমতাজ আলিকে ছেলের দুর্ঘটনার খবর দিয়েছিল । এই খবর পেয়ে আসিফ আলির বাবা মমতাজ আলি ও তার বড় ছেলে রাজা চম্পাহাটি ষ্টেশনের কাছে এলে আসিফের বন্ধু রোহিত ও অন্য মেয়েটির দেখা পাওয়া যায় না , তারা বেপাত্তা হয়ে যায় ।
এমনকি রোহিতের বাড়ি উখিলা জমাদার পাড়ায় ও বৃহস্পতিবার সকালে বন্ধু রোহিতের দেখা পায়নি বলে অভিযোগ মমতাজ আলির ।আসিফের বাবা মমতাজ আলির প্রশ্ন যদি রোহিত কোন কিছু অন্যায় না করে তবে পালাবে কেন ? মমতাজ আলি জানায় ,তার ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে রেল লাইনে ফেলে দিয়ে খুন করা হয়েছে । এদিকে প্রতক্ষ্য দর্শীরা জানিয়েছে ,রেল লাইনে চার জন গল্প করছিল ,দুটো মেয়ে দুটো ছেলে ছিল , এর মধ্যে মৃত যুবক আসিফ আলির সাথে এক মেয়ের কোন কারনে ঝামেলা হচ্ছিল ,একে অপরের সাথে মারপিট হচ্ছিল , ঘটনার পর দুটো ছেলে মেয়েকে দেখা গেলেও অন্যদের পাওয়া যায়নি ,দুই জন ছেলে মেয়েকে স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা আটকে রেখেছিল ,কিন্তু অজ্ঞাত কারনে আসিফের পরিবার ও পুলিশ আসার আগেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় । মেয়েটি স্থানীয় বাসিন্দাদের বলেছে কানে হেড ফোন থাকায় ট্রেনের শব্দ শুনতে পায়নি তাই এই দুর্ঘটনা , তারা এক সাথে থাকার পর কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে মেয়েটি কিছু বলেনি । সোনার পুরের উখিলা জমাদার পাড়ায় বাড়ি আসিফ আলির ,তারা দুই ভাই । আসিফ পড়াশোনা করেনি গড়িয়াতে ফল বিক্রি করে , তার বন্ধু রোহিত ও উখিলা জমাদার পাড়ার বাসিন্দা ,সেও আসিফের সাথে ফল বিক্রি করে । এই প্রসঙ্গে আসিফের বাবা মমতাজ আলি মোল্লা জানায় ,আসিফ বুধবার বাড়িতেই ছিল ,বিকাল ৫ টায় বন্ধু রোহিত ফোন করে আসিফ কে ডাকে ,এর পর আসিফ বিকাল ৫-১৫ তে বেরিয়ে যায় ,দাদাকে বলে মাঠে যাচ্ছি চলে আসবো। এর পর রাত পৌনে ৮ টায় বন্ধু রোহিত ফোন করে জানায় আসিফের দুর্ঘটনা হয়েছে। এর পর স্থানীয় ক্লাবের ছেলেরা জানায় মারা গিয়েছে ,রোহিতের কাছে আসিফের মোবাইল ,ঘড়ি ছিল । তা পাওয়া যায়নি । এর পাশাপাশি মমতাজ বাবু জানান , আসিফের সাথে ৫-৬ মাস আগে পাড়ার এক মেয়ের প্রেম ছিল ,কিন্তু তা ২ মাস যাবত ছিল না ,আসিফ জানিয়েছিল আমার দেখা পাত্রিকেই বিয়ে করবে । বুধবার যে মেয়েটি ওখানে ছিল বলে জানা গিয়েছে ,পুলিশ যার ছবি দেখিয়েছে সে ওই মেয়েটি নয় । কি করে এমন হল বলতে পারছি না । আসিফের সাথে রোহিতের ২ বছর ধরে বন্ধুত্ব ,পুলিশ রোহিতকে ধরলেই সব জানা যাবে ,সঠিক তদন্ত চাই । সোনারপুর জি আর পি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান ,ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে যুবকের। ঘটনায় এলাকার বাসিন্দাদের ও ক্লাবের ছেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ,রোহিত আর ওই মেয়েটির সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে । তদন্ত চলছে ।

No comments:
Post a Comment