মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: সুন্দরবনের বহু জায়গাতে নদী বাঁধ বেহাল, রাত পাহারা গ্রামবাসীদের। বর্ষা এসে গেছে তবে এখনও সুন্দরবন সহ জেলার বিভিন্ন জায়গাতে বেহাল নদীবাঁধ মেরামত হয়নি। তার মধ্যে চলতি মাসের ভরা কোটালের জন্য অনেক জায়গায় নতুন করে বাঁধ ধসেছে। কোথাও জলোচ্ছ্বাসের বাঁধ পুরোপুরি ভাবে মাটির সাথে সমান হয়ে গিয়েছে। ফলে নদী বাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। জোরে বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়া হলেই সমস্ত কাজ ফেলে বাঁধ পাহারা দেওয়ার জন্য দৌড়াতে হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা, মৌসুমী দ্বীপ, ঘোড়ামারা, বাসন্তী, গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, রায়দিঘী একাধিক জায়গাতে নদী বাঁধের অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে বেশি বেহাল অবস্থা ঘোড়ামারা, মৌসুমী দ্বীপ, গোসাবা ও সাগর এর একাংশ কোথাও বাঁশের খাঁচা, মাটির বস্তা দিয়ে ঠেকা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে ও ফাটল দেখা দিচ্ছে। এই সব এলাকার বাসিন্দারা জানান এক বছর আগে বাঁশের কাঠামো ও মাটির বস্তা দিলেও তা মাটি সমান হয়ে গিয়েছে। বাঁধ থেকে ২৫০ ফুট দূরে প্রচুর মানুষের বাস। সেখানকার বাসিন্দারা জানান ঝোড়ো ও বৃষ্টির জেরে বাঁধের অবস্থা খারাপ যেকোনো গ্রামে জল ঢুকে যেতে পারে যার জন্য রাত পাহারা দিই গ্রামবাসীদের কথা ভেবে।
বাঘডাঙ্গা ও কুসুম তলা সাড়ে ৯০০ মিটার কংক্রিটের বাঁধ ছিল সেখানেও ভেঙে গিয়েছে খুব ভয়ংকর অবস্থা। এই একাকার প্রায় ২৫০ পরিবার বাস করে। সকলেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। অনেক জল ঢুকতে পারে বলে আশংকায মাটি উঁচু করে বাড়ি বানিয়েছে। মৌসুমী দ্বীপের বাঁধের অবস্থা নরবড়ে। প্রতি বছর সেচ দপ্তর থেকে ঢাক ঢোল পিটিয়ে ভাঙন এলাকা ভিজিট হয় ও মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয় হয়। তরিঘরি কোথাও বাশ ও মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধের কাজ করে সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার চলে যায়। সাগর ব্লক এর বামনখালি ও বঙ্কিম নগর এ বাঁধের অবস্থা খারাপ যে কোনো সময় এলাকায় এই কোটালে বসতি এলাকায় প্লাবিত হয়ে যাবে।


No comments:
Post a Comment