কি এমন বানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে ডাক বাঙালি বিজ্ঞানীর? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 6 June 2018

কি এমন বানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে ডাক বাঙালি বিজ্ঞানীর?



   

চাঁদিফাটা রোদ্দুর। প্রাণ ওষ্ঠাগত। গরমে বেরোনো দায়। কুলিং জ্যাকেট ট্রাই করেছেন নাকি ? শরীর থাকবে ফুরফুরে। মাথা থাকবে ঠান্ডা। কুল। আর এই কুলিং জ্যাকেট তৈরি করেই তাক লাগিয়েছে বাঙালি বিজ্ঞানী রূপম ঘোষ। ডাক পড়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের দরবারেও।

ভদ্রেশ্বর থানার আলতারা গ্রামের বাসিন্দা রূপম। চন্দননগর বঙ্গ বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বরাবরই বিজ্ঞান টানে তাকে। স্কুলের সায়েন্স এগজ়িবিশনে বিভিন্ন মডেল বানিয়ে অংশ নিতে সে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গতি পেয়েছে তার সৃষ্টিভাবনা। রোদের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হয় ট্র্যাফিক পুলিশদের। এমনকী, রোদে পুড়ে জমিতে কাজ করেন কৃষকরা। গরমের মধ্যে কাজ করার ফলে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সান স্ট্রোকে মৃত্যু পর্যন্ত হয়। সেই কথা চিন্তা করেই এই জ্যাকেট বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় রূপম।

এই জ্যাকেটের ভিতরে মোট তিনটি ছোটো পাখা রয়েছে। সামনের দুটি পাখা ভিতরের গরম শরীরের বাইরে বের করে দেয়। আর পিছনে আরও একটি পাখা রয়েছে। জ্যাকেটের পিছনে রয়েছে ওয়াটার বাবল সিস্টেম। পিছনের পাখার সাহায্যে জলের বুদবুদকে কাজে লাগিয়ে জ্যাকেট ঠান্ডা রাখা হয়। ছোটো ব্যাটারি দিয়ে চলে গোটা সিস্টেম। আর এই জ্যাকেটের সঙ্গে রয়েছে সোলার প্যানেল বসানো টুপি। টুপি থেকেই চার্জ হয় লিথিয়াম অয়েল ব্যাটারির। রক্ষণাবেক্ষণের কোনও খরচ নেই। নোংরা হলে ধোয়াও যাবে খুব সহজে। এর দামও একেবারে আয়ত্তের মধ্যেই। মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ করলেই গরম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

বিভিন্ন ধরনের মডেল বানানোর নেশা থেকেই ২০১৭ সালে কুলিং জ্যাকেট বানিয়েছিল রূপম। যার নাম দিয়েছিল, “বিট দা হিট কুলিং জ্যাকেট।” জ্যাকেট আবিষ্কার করে ২০১৭ সালে জাতীয় পুরস্কার পায় সে। ইতিমধ্যে এই জ্যাকেটের পেটেন্টও পেয়েছে। এই আবিষ্কার তাকে অ্যামেরিকার অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সের সাম্মানিক সদস্য পদও দেয়। আর এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের ডাকে ২৫ জুলাই গ্লোবাল স্টিম সামিট ২০১৮-তে যোগ দিচ্ছে সে। সারা বিশ্বের ১৮ হাজার বিজ্ঞানীর মধ্যে ১৮০ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকে তিনজন বিজ্ঞানী এই সুযোগ পেয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রয়েছে রূপম। আর বাকি দু’জন বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা।

রূপম বলে, “ভয় না পেয়ে এগিয়ে আসুন। আমাদের কাছে যখন টেকনলজি আছে তখন তার ব্যবহার শিখুন। তাতে ভারত খুব তাড়াতাড়ি এগোবে। বিদেশের কাছে চয়েস রয়েছে। কিন্তু, আমি একজন ভারতীয় হয়ে একজন বাঙালি হয়ে আগে বাঙালির জন্যই কাজ করব।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad