তুখোড় বলিউড প্রেমী ছিলেন তারেক রহমান। হিন্দী সিনেমা তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। বলিউড মাফিয়া দাউদ ইব্রাহিমের যেমন তিনি ফ্যান ফলোয়ার। তেমনি বলিউড নায়িকাদের কাছে পরিচিত বাংলাদেশি মুখ। বলিউডের প্রতি প্রেমটা তারেকের ঠিক কবে শুরু হয়েছে জানা সম্ভব হয়নি। তবে, এখনো আছে। লন্ডনে বলিউডের বিভিন্ন প্রোগ্রামে তাকে প্রায়ই দেখা যায়। তবে এই প্রেমের কিছু উপাখ্যান কিন্তু একটু পেছনে তাকালে আরও স্পষ্ট হবে। জানা যাবে, বলিউড নায়িকাদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা ও ধহরম মহরমের গল্প।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে অসংখ্যবার বলিউড নায়িকারা বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁরা কোন ধরনের শো-য়ের জন্য আসেননি। নির্দিষ্ট কয়েকজন আসতেন। বিএনপি সরকার পতনের পর যাদের পরবর্তীতে বাংলাদেশে খুবই কম আসতে দেখা গেছে। নায়িকারা নাকি আসতেন ব্যক্তিগত কারণে। সে সময় বাংলাদেশে তাঁদের একমাত্র ব্যক্তিগত কারণ, তারেক ও তাঁর বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। তাঁদের আসা-যাওয়া সহজ হয়ে যেত তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বদৌলতে। এয়ারপোর্ট কিংবা রাস্তা, সাধারনের বোঝার আগেই ভিআইপি অভ্যর্থনায় তাঁরা চলে যেতেন ‘খোয়াবে’। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের গাজীপুরের বাড়ি ‘খোয়াব’-ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। সে সময় প্রায়ই এ বাড়িতে গাড়ির বহর নিয়ে আসতেন রাজনীতিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। রাতভর বৈঠক হতো, পার্টি চলতো। আর এসবের মধ্যমণি ছিলেন তারেক। এইসব রাতভর বৈঠক আর পার্টি মাতাতে আগমন ঘটতো বলিউড সুন্দরীদের।
নায়িকারা আসতেন এক কিংবা দুইদিনের অতিথি হয়ে। যেমন ২০০৪ সালে একবার শিল্পা শেঠী এসেছিলেন। এয়ারপোর্ট থেকে সতর্কতার সঙ্গে বাবর তাকে ‘খোয়াবে’ পৌছে দেন। সেখানে রিসিভ করেন তারেক জিয়া, তাঁর সঙ্গী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। শিল্পা শেঠী দুই দিন বাংলাদেশ ছিলেন, তিনি কোনো শো করেন নি, শপিংয়েও না। আসলে ওই দুই দিন ‘খোয়াব’ বাড়ি থেকে তিনি বেরই হননি। শিল্পা শেঠী যেমন খোয়াবেই ছিলেন, তেমনি ওই দুইদিন খোয়াবেই ছিলেন তারেক এবং মামুন। দুই দিন পর আবার বাবর এসে শিল্পাকে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দেন।
সে সময় এই ‘খোয়াব’ ছিল এক রহস্যঘেরা বাড়ি। ভিতর তো দূরের কথা, আশপাশ দিয়ে চলাফেরাও সাধারনের জন্য ছিল অপরাধ। এটা ছিল তারেক-মামুনের বিনোদন বাড়ি, জলসা মহল। নায়িকারা বিদেশ থেকে এসে এখানে হারিয়ে যেতেন। কেউ জানতেন না ভিতরে কি হচ্ছে। শুধু শিল্পা শেঠী নয়, অনুসন্ধানে দেখা যায় ভারতীয় নায়িকা মমতা কুলকার্নি,আমিশা প্যাটেলরাও রাতের অতিথি হয়ে এসেছিলেন ‘খোয়াব’ ভবনে। নাম না জানা অনেক মডেলদের আনাগোনা ছিল নিয়মিত। শুধু ভারতীয় নয়, বাংলাদেশেরও অনেক খ্যাতিমান নায়িকাদের ‘খোয়াব’ ভবনে যেতে বাধ্য করা হত। টাকা যা লাগতো কোন সমস্যাই ছিল না। কেউ আসতে না চাইলে করা হতো হয়রানি। শুধু দেশি তারকা নয়, বিদেশি তারকারাও হয়েছেন হয়রানির শিকার। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ সম্ভবত, ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ খ্যাত আলিশা। ২০০৫ সালে আলিশা ঢাকায় এসেছিলেন কনসার্ট করতে। ঢাকায় পাঁচ তারকা হোটেলে পৌছানোর পরই আয়োজককে জানানো হয় আলিশাকে এখনি খোয়াবে যেতে হবে। ভাইয়া মিট করবেন। আয়োজক তো বুঝতে পারেননি এই বিশেষ ‘ভাইয়া’টা কে!পাত্তা দেননি। এক ঘণ্টা পর পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় আয়োজককে। অভিযোগ করা হয় অনুমতি ছাড়া কনসার্টের আয়োজনের। আলিশাকে গাজীপুরে যেতে বলা হয়। এরকম প্রস্তাবে তো আলিশা হতবাক। তিনি শরণাপন্ন হন ভারতীয় দূতাবাসের। ভারতীয় দূতাবাস, খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনা বুঝতে পারে। তারা পররাষ্ট্র দপ্তর কে কঠোরভাবে জানিয়ে দেয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে। পরদিন সকালে আলিশা এবং কনসার্টের অন্য অংশগ্রহনকারীরা ভারতে চলে যান। এরপর আর আলিশার দিকে হাত বাড়াননি তারেক। তবে এই বলিউড অতিথিদের আনাগোনা নিয়মিতই ছিল বিএনপি ক্ষমতায় থাকার শেষ পর্যন্ত।

No comments:
Post a Comment